somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাহসী কথাঃ কয়লা ধুলেও ময়লা যায় ! ( কীভাবে ভোরের কুয়াশা দেখবেন ! )

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কিভাবে ভোরের কুয়াশা দেখবেন ?
+++++++++++++++++++++++
ফেরদৌস

হয়তো শিরোনাম দেখে ভাবছেন , ভোরে উঠলেই তো ভোরবেলা কুয়াশা দেখা যায় ! কিন্তু সারারাত নেট ঘাটাঘাটি করে খুব ভোরে পাখির ডাক শোনার অভ্যাস আমাদের কয়জনেরই বা আছে ? যাইহোক, কাল রাতে যে পোস্টটি করেছিলাম তা ছিল এরকম - “ মানুষের জন্য দুটি কাজ ভয়ংকরভাবে কঠিন ।১. কোন ভালো অভ্যাস স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা । ২. কোন মন্দ অভ্যাসকে চিরস্থায়ীভাবে ত্যাগ করা ।” এই দুটিকেই আমরা ‘ এক ঢিলে দুই পাখি মারা’র কৌশলে সমাধান করতে পারি । তাহল “ প্রতিটি খারাপ অভ্যাসের জায়গায় একটি করে ভাল অভ্যাস গড়ে তুলা ।” আনা ফ্রাংক তার ডায়েরীতে বলেছে “ প্রতিনিয়ত ভাল হওয়ার চেষ্টা করি ।” আর চীনা প্রবাদে আছে- “ মানুষ আসলে যা জানে সে আসলে তা নয়; মানুষ যা চিন্তা করে এবং যে সকল কাজ করে সে আসলে তাই । ” সুতরাং ভালো হওয়ার পথ শুধু ভালো কাজ করার মাধ্যমেই পাড়ি দেয়া যায় আর সেটা মানুষের কাজের এই ধারাবাহিকতার মধ্যে বিরাজমান । ধারাবাহিকতা বা অভ্যাসে পরিণত করা ছাড়া কোন বড় কাজে সফলতা পাওয়া যায়না । একটা বিষয় খেয়াল করবেন, আমরা সবসময় অনেক বড় বড় অপরাধীদেরকে প্রচণ্ড ঘৃণা করি । কিন্তু একবারও কি ভাবি, তার এই নিকৃষ্ট অর্জনগুলোর পেছনেও তার দীর্ঘদিনের অমানুষিক পরিশ্রম, ঝুঁকি, জীবনের স্বাভাবিক সুখগুলোর বিসর্জনসহ কত ত্যাগ আছে । দিনের পর দিনে তাকে কষ্ট করে নেতৃত্ব দেয়ার বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে হয়েছে । হয়তো পালিয়ে থাকতে হয়েছে দিনের পর দিন , যেখানে সেখানে রাত কাটাতে হয়েছে, মন থেকে দয়া মায়ার মত জিনিস ঝেড়ে ফেলতে হয়েছে । এই খারাপ কাজগুলোর ভয়ানক অভ্যাসই তাকে ভয়ানক এক জগতের অধিপতি বানিয়ে দিয়েছে; এমনি এমনি হয়নি তো বটেই ।

যাইহোক, মূল প্রসঙ্গে আসি । ভাল ভাল কাজ করলেই খারাপ কাজগুলো পালাবে আমাদের কাছ থেকে এবং তখনই আমাদের অভ্যাসগুলো ভালো অভ্যাসে রুপান্তরিত হবে । আমার কাছে এর দুটো পথ আছে । প্রথমটা কোয়ান্টাম মেথড থেকে পাওয়া । তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা রইলো । উপায়টি এরকম – যে ভাল কাজটি করবেন তার জন্য নিজেকে নিজেই পুরস্কৃত করা । সে পুরস্কারটা ছোট হলেও সমস্যা নেই । ধরুণ, অনেক বিখ্যাত একটি উপন্যাস আপনি পড়তে চাচ্ছেন । কিন্তু একটানা পড়তে বা শেষ করতে আপনার বিরক্তি লাগছে । আপনি নিজেকে বলতে পারেন – এই বইটি শেষ করতে পারলে আরেকটি নতুন বই নিজেকে উপহার দিব । এখানে পুরস্কার হিসেবে বইয়ের বদলে আপনার অন্য প্রিয় কোন জিনিসও দিতে পারেন । দেখবেন আপনি বইটি শেষ করার পর ঐ পুরস্কারটি পেয়ে আপনার কি অসীম আনন্দ হচ্ছে ! এরপরে দ্বিতীয় কোন কাজের জন্যও ঐ রকম আরেকটি পুরস্কার রাখুন ।পুরস্কারের আশায় আশায় একসময় কাজগুলো আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় উপায় – ‘প্রনোদনো টেকনিক’ । এটি পেয়েছি ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে । এটি টাইমার সিস্টেমের মত । এটি সাধারণত পড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে । ধরুণ , আপনি পাঠ্যবইয়ের কঠিন একটি অধ্যায় শেষ করতে চাচ্ছেন । মোবাইল বা কোন টাইমার মেশিনে ৩০ মিনিট টাইম ফিক্সড করলেন । এই সময় আপনি মোবাইল বা অন্য কোন কাজে হাত দিবেন না , বাহিরের কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন না , নিজের নাক , কান বা শরীর চুলকাবেন না । আপনি শুধু ভাববেন যেকোন মূল্যে আপনাকে এই ৩০ মিনিটের মধ্যে অধ্যায়টি শেষ করতে হবে । আর একবার শেষ করতে পারলেই দেখবেন আপনার আত্মবিশ্বাস কতগুণ বেড়ে গেছে ! এই টেকনিকটা আমরা বড় কোন লক্ষ্য অর্জনেও অবশ্যই ব্যবহার করতে পারি । তা এভাবে – ১. লক্ষ্যের জন্য সময় নির্ধারণ । ২. এই সময়ের মধ্যে অন্যকোন অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের প্রতি খেয়াল না করা এবং হাল ছেড়ে না দেয়া এবং ৩. প্রতিদিনই সেই লক্ষ্যের জন্য পর্যাপ্ত সময় কাজ করা । এই দুটো পন্থায় আমরা খারাপ বা মন্দ অভ্যাসের জায়গায় প্রতিদিন ভালো অভ্যাসে পরিণত করতে পারি এবং সঠিক লক্ষ্যে পৌছতে পারি । তবে এর বাইরেও একটি পন্থা আছে – তা হল, নিজের কাজকে ভালোবাসা । তবে ভালোকাজকে প্রথম প্রথম ভালোবাসাও বেশ কঠিন যেমন তেঁতো জিনিসকে পছন্দ করা । তবে প্রত্যেক তেঁতো জিনিসই সবচেয়ে বেশী কাজে লাগে কিন্তু আমরা বুঝি সময় চলে যাওয়ার পরে । তখন হয়তো লালন সাইজির গানটাই মনে পড়ে “ সময় গেলে সাধন হবেনা, তুমি দিন থাকিতে দিনের সাধন কেন করলে না ?”
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:২৫
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তবু একদিন হেমন্ত এলে অবকাশ পাওয়া যাবে

লিখেছেন অধীতি, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২০

“সুজাতাকে ভালোবাসতাম আমি-
এখনো কি ভালোবাসি?
সেটা অবসরে ভাববার কথা,
অবসর তবু নেই;
তবু একদিন হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে
এখন শেলফে চার্বাক ফ্রয়েড প্লেটো পাভলভ ভাবে
সুজাতাকে আমি ভালোবাসতাম কি না।”


তবুও একদিন হেমন্ত আসে কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৯ নিশীথে ফুটেছে ফুল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৪

বাইরের জানালার পাশে গভীর রাতে ফুটে ওঠা ফুলের সৌন্দর্য রহস্যময়, আকর্ষণীয় মনে হলো বলেই থমকে দাঁড়ালাম। ক্যামেরায় ধরলাম। ফুল আর কলি যেন কথা বলে উঠলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×