somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাই হিরোস নং ২

০৮ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনাটা পাচ টাকার মাত্র।
কিন্তু এর ব্যাপ্তি, সততা, নিষ্ঠা, ম্যান কাইন্ড অতুলনিয়ো।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের কনকনে শীতের সন্ধ্যা।
আবুল অফিসের কাজে গুলিস্তান মোরে দাঁড়িয়ে আছে। রাম্পুরা যাবে। পকেটে ফুটা পয়সা নেই। পকেটে ষোল টাকা ছিলো তা মধ্যবিত্ত ফুটা দিয়ে কখন পরে গেছে খেয়েল করেনি। সামনের মাসে স্যালারী পেয়েই একটা মানিব্যাগ কিনবে সে।
কি করবে সে এখন! এতো দূর হেটে যাবে! সাড়াদিনের ক্লান্তি পকেটের ফুটা দিয়ে শেষ সম্বল হারানো সব মিলিয়ে সে বিদ্ধস্থ। ভাবতে ভাবতে ‘ভিক্টর পরিবহন ‘ নামক একটা বাসে চড়ে বসেছে।
ভরষা মুচকি একটা হাসি দিয়ে কন্ডাক্টার মামাকে বলবে, ” মামা টাকা নাই, আজকে ভাড়া দিতে পারবোনা। রাম্পুরা ব্রিজে যাবো।। প্লিয মামা! ”
বাসটা পল্টন মোরে এসে জ্যামে পরে। বাসের কন্ডাক্টার ভাড়া কাটতেছে। কেও তাকে ১ টাকা ২ টাকা কম দিচ্ছে।
কেও হিসেব করে দেখতেছে সে ১ টাকা ২ টাকা বেশি নিচ্ছে।
কন্ডাক্টার এক সময় আবুলের সামনের প্যাসেঞ্জারের কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছে।
প্যাসেঞ্জার ভাড়া কম দিচ্ছে, কন্ডাক্টার বলতেছে রাম্পুরা ব্রিজ ৮ টাকা ভাড়া, প্যাসেঞ্জার বলতেছে ৫ টাকা।
যথারীতি সব প্যাসেঞ্জার আরেক দফা তাকে গাইলালো, তার ফরটিন জেনারেশন কে তুলোধুনো করলো।

আবুলের বুক ঢিপঢিপ করতেছে। এই অবস্থায় সে যদি কন্ডাক্টারকে বলে ভাড়া নাই, তবে মামা ছিলে ফেলবে। সে এম্নিতেই বহু গালি, অপমান সয়ে হয়রান।
ফিংগার ক্রসড।
-মামা কই যাইবেন, ভাড়া দেন।
– মামা আমার কাছে টাকা নাই, রাম্পুরা যাবো। টাকা হারাই ফেলেছি মামা।
কন্ডাক্টার বিরক্ত হলনা, রাগ করলোনা, বিলাপ করলোনা!
বরং সুন্দর করে হাসি দিয়ে বললো, ” নাই তাতে কি হইছে মামা। আরেকদিন দিবেন “। :)
আসেপাশের প্যাসেঞ্জাররা এবার বাস্টাকে নিজেদের বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে বলতে থাকলো, ” কতো টাকা আমরা বেশি দেই! ২ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নেয়! দিয়েন দিয়েন আরেকদিন! এই উনারে ব্রিজে নামিয়ে দিও “.

তারপর কেটে গেছে দুই বছর। আবুল ভিক্টর পরিবহন দেখলেই কন্ডাক্টারের দিকে ভালো করে খেয়াল করে। খুজে সে সেই মামাকে।
নাহ! মামার দেখা আর সে পায় না।
আবুল আজকে বেতন, বোনাস পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে। ইফতারীর রকমারি খাবার কিনে বনানী থেকে রবরব পরিবহনে উঠেছে রাম্পুরা যাবে।
বাসটা গুলাশান -১ আসলে একটি ভিখারী উঠে বাসে সাহায্য চাচ্ছে সবার কাছে। পা নাই বলে বলে। ছেলে মেয়েদের জন্য জামা কিনবে বলে খুব মিনতি করতেছে।
আবুল পিছনে বসে ঘুম ঘুম চুখে সব শুনছে।
লোকটা আবুলের কাছে চলে আসে এক সময়।
হাত পাতে আবুলের সামনে।

আবুল রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে চুখ খুলে দেখে ‘ সেই কন্ডাক্টার মামা! একটা পা নেই মুখে খুচা খুচা দাড়ি!
আবুল চিৎকার করে সীট থেকে দাঁড়িয়ে উঠে। কন্ডাক্টার মামাকে জড়িয়ে ধরে
” আরে মামা তুমি! তোমাকে আমি কতো খুজেছি!
মামা অপ্রস্তুত হয়ে যায়। ” মামা আমারে খুজেতেছেন! আমি কি করছি মামা! ”
– মামা তুমি ভিক্টর পরিবহনে কন্ডাক্টরি করতানা!
– হ, মামা!
– মনে আছে মামা দুই বছর আগে, গুলিস্তান থেকে তোমার বাসে উঠছিলাম, আমার কাছে ভাড়া ছিলোনা। তুমি আমারে ফ্রী আনছিলা!?
– না মামা। কতো মানুষই তো বাসে উঠতো।
– তোমার পা কি হইছে মামা!?
– যাত্রি নিতে গিয়া গেট থেকে পরে গেছিলাম। পিছন থেকে আরেক বাস এসে মাইরা দিছে।

লিংক রোড এসে গেছে বাস ইতোমধ্যে। আবুল কন্ডাক্টারকে নিয়ে বাস থেকে নামলো। হোসেন মার্কেটে নিয়ে গিয়ে তাকে লুংগি, পাঞ্জাবী, তার ছেলের জন্য লাল টুপি, জিন্সের প্যান্ট, টি-শার্ট, বউয়ের জন্য একটা শাড়ি কিনে দিলো।
আর ছেলেকে সেমাই খাওয়ানর জন্য কিছু টাকা দিলো।
এক সাথে বসে কিছুক্ষন গল্প করলো। আবুল তাকে মোবাইল নাম্বার দিলো। তার ঠিকানা নিলো।
ইফতারীর পরে কন্ডাক্টার আবুল কে দোকান থেকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলো সে ঠিক মতো বাসায় যেতে পারছে কিনা।

[[ মোরাল: আমাদের মামাদের আত্যসম্মান এতো ঠুনকো না। আবুল খুব সহজেই তাকে জামা-কাপড় কিনে দিতে পারেনি। অনেক অনুরোধের পরে পেরেছে।
ফোন নাম্বার অনেকেই নেয় কিন্তু কজনইবা ফোন দিয়ে বলে ” মামা বাসায় গেছেন ঠিক মতো?
I love you man
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:১৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×