২৬/৫/২০১৪
আমি এখন দশম শ্রেনীতে পড়ি। দিনাজপুর শহরে বাস করছি প্রথম শ্রেনী থেকে। এর মধ্যে আমি যেসব জিনিস নিয়ে গর্ববোধ করতাম তাহল আমার শহর দিনাজপুর। আমি সবাইকে বলে বেড়াতাম, বাংলাদেশে এমন শান্তিপূর্ণ শহর খুজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু আজকে সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর উঠেই টিভিতে যে সংবাদটি দেখলাম তাতে ঘুম পালিয়ে গেল, মন ভরে গেল বিষণ্ণতায়। ৪/৫ দিন আগে অপহৃত হওয়া নবম শ্রেনীর ছেলেটির লাশ পাওয়া গেছে। খবরটি দেখে প্রচন্ড বিষণ্ণ হয়ে গেলাম। আমার শহর নিয়ে আমার দীর্ঘ ১০ বছরের অহংকার ১ নিমিষে ধুলিষ্যাত হয়ে গেল।
ঘটনাটি সংক্ষেপে লেখা যাক।
একটি ছেলে, তার বন্ধুর সাথে বাড়ির কাছেই খেলার সময় হারিয়ে যায়। পরদিন ফোন করে তার দরিদ্র মুহুরি বাবার কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সময় দেয়া হয় গতকালকে রাত পর্যন্ত। আজকে ভোরের দিকে ছেলেটির লাশ পাওয়া যায়। ধরা হয় হত্যাকারীকে।
এই হল খবরের কাগজ এবং সংবাদমাধ্যমের খবর। কিন্তু কাছাকাছি জায়গা হওয়ায় এমন কিছু কথা কানে আসল যা শুনে আমি একদম হতচকিত হয়ে গেলাম। যে ছেলেটি হত্যাকারী তার বাবা একজন অতি সৎ(আমাকে যিনি বর্ণনা করেছেন তার মতে) রিকশাচালক। অভাবের তাড়নায় ছেলেটি সন্ত্রাসী হয়ে ঊঠতে চায়। এজন্য দরকার ছিল একটি ঘটনা যা দিয়ে সে অপরাধ জগতের লাইম লাইটে আসবে। এর জন্য সে বেছে নেয় সেই ছেলেটিকে। ছেলেটিকে ধরে নিয়ে যাবার পরপর ই ছেলেটির সাথে তার কথাকাটাকাটি হয় এবং পাকা অপরাধী না হওয়ায় রাগের বশে সে ছেলেটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার মাটির বাড়ির বিছানার নিচে পুতে রাখে। এরপর ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করতে সে মুক্তিপন দাবি করে। কিন্তু ছেলেটি তখন মৃত। সে এমন একটি অঙ্ক দাবি করে যা তার দরিদ্র পিতার পক্ষে দেয়া কখনই সম্ভবপর নয়। তাই সে গতকাল ভোররাতে লাশ ছেলেটির বাড়ির সামনে ফেলে আসার জন্য বের করতেই ৫ দিনের পচা লাশের দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। অপরাধীজ্ঞান পরযাপ্ত না হওয়ায় সে পরিস্থিতি সামলাতে পারে নি এবং পুলিশের কাছে ধরা পরে যায়।
এই ঘটনার উদ্বেগজনক দিকটি হল দেখে শেখা। হত্যাকারী ছেলেটি যখন দেখল দেশে একের পর এক গুম-খুন-হত্যাকান্ড ঘটেই চলেছে আর রাঘব বোয়াল রা অধরাই থেকে যাচ্ছে, তখন তার মনে এইরকম রাঘব বোয়াল হওয়ার আশা জাগে। সে যখন দেখল রাঘব বোয়াল দের আগমন হয়েছিল ক্ষুদ্র অপরাধ দিয়েই তখন সে ও তেমন অপরাধ করতে অনুপ্রাণিত হয়েছে।
তাহলে এই যে সারাদেশে ছোট ছোট অপরাধীদের উত্থান হচ্ছে এর জন্য আমরা কাকে দায়ী করব? পূর্ববর্তী ঘটনার রাঘব-বোয়ালদের আইনের আওতায় আনার ব্যর্থতাই সারাদেশে এরকম ঘটনা দিনকে দিন বাড়িয়েই চলেছে।
আমি গনিতপ্রিয় মানুষ। রাজনীতি ভাল বুঝি না । কিন্তু এটুকু বুঝতে পারছি যে আমরা কেউ ই এখন নিরাপদ নই। কোন শান্তিপ্রিয় শহর ও এখন আর এখন নিরাপদ নয়। এমনকি আমার জন্য এটা বোঝাই কস্টকর হয়ে পড়ছে, কাকে বিশ্বাস করব আর কাকে করব না। কোন বন্ধু খওয়াতে নিয়ে গেলে তার সাথে যাওয়ার আগে আমাকে ভাবতে হচ্ছে বন্ধুটির কোন খারাপ উদ্দেশ্য নেই তো!
শুধু আমি নই সারা দেশের মানুষ এই অবস্থা থেকে উত্তরণ চায়। তাই সকল অপরাধের চুনোপুটি থেকে শুরু করে রাঘব বোয়াল পর্যন্ত আইনের আওয়তায় আনা গেলে নতুন অপরাধীদের উত্থান এরকম হারে হবেনা বলেই আশা করা যায়। আর আমরাও ফিরে পাব আমাদের আগের বিশ্বাস। বুক ফুলিয়ে বলতে পারব আমাদের দেশের মত শান্তিপ্রিয় দেশ আর একটিও নেই। বন্ধুকে গলা ধরে বলতে পারব না খাওয়ালে কিন্তু ছাড়ছি না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

