somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আভা

১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
সালটা ছিলো ২০০৮, একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরি জীবন শুরু করি। ঢাকার গ্রীন রোডের জাহানারা গার্ডেনে ভাইয়ার বাসায় থাকি। একটা ডেস্কটপের সাথে ল্যান্ড লাইন ছিলো। ছিলো ব্যস্ততা। অবসর সময়ের অনেকটাই কাটাতাম ইয়াহু আর ইস্কাইপি ম্যাসেঞ্জারে। প্রচুর ফরেইনার কানেকটেড ছিলো, টারগেট ইংলিশ প্রাকটিস করা। এরই মাঝে কিছু স্বদেশিও ছিলো বটে। কিভাবে যেন একটা কানেকশন হলো, ঠিক মনে নেই – নাম বুশরা আভা। ওই সময়টাতেই বোধহয় এক নেতা তার নিজের ভাগ্নীকে পাশবিকভাবে মেরে ফেলেছিলো। মেয়েটির নাম ছিলো বুশরা..!

২.
বুশরাও নতুন চাকুরি জীবন শুরু করেছিলো তখন একটা মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানিতে। নাম বলেছিলো, ভুলে গেছি। আমি তাকে ডাকতাম আভা বলে, ইংলিশ স্পেলিং এ আভা শব্দটা প্রায়শই ভুল হতো আর ও শুধরে দিতো। বুশরার ছিলো অসম্ভব কন্টোল ইংলিশে। তার চোস্ত ইংলিশের কারনে প্রচুর টেক্সটিং হতো। মাঝে মাঝে ওর ইংলিশ ওয়ার্ড কয়েনিং, এক্সপ্রেশন আর হিউমার সেন্স আমাকে নাড়িয়ে দিতো। চমৎকৃত হতাম। ব্যাপক স্মার্ট, উউউউও।
খুবই সল্প সময়ে, সম্ভবত চার কি পাচ দিনের মাথায় সে আমাকে আমার ফোন নাম্বার চাইলো। আমি মনে মনে হেসে ফেললাম।
বললামঃ কেন?
ঊত্তরঃ কথা বলবো।
কি বলব ভাবতে না ভাবতেই সে টেক্সট করলো, কি ভয় পেয়েছেন? আমি উত্তরে একটা শুকনা হাসি দিলাম। খুবই এগ্রোসিভলি সে রিপ্লাই করলো, কি সাহসে(পুনশ্চঃ১) কুলাচ্ছে না? এবার আমি ভয়ই পেলাম। লে বাবা কি এডভান্স রে। প্রতিউত্তরে হাসি দেওয়া ছাড়া আর কিইবা করার আছে। চুপচাপ কিছু দেতো হাসি দিলাম। যতদুর মনে পড়ে ও তার সেল নম্বরটি সম্ভবত ড্রপ করেছিলো।

৩.
বুশরা মাঝে মাঝেই অনলাইনে আসতো আর হুটোপুটি করে চলে যেত। বছরখানের গ্যাপের পর একদিন এসে বুশরা একটা নিউজ জানালো, সি গট ম্যারিড। বৃত্তান্ত জানাতে শুরু করলো। জানলুম, প্রফেশনে বেশ প্রগ্রেস হচ্ছে তার।
অনলাইনে আমি বসি কম, বুঝতে পারলাম চ্যাটিং থেকে নতুন শব্দ শেখার সম্ভাবনা নেই। সবই রিপিটেশন। ইয়াহু মেইল ইউজ করি বিধায় শুধু মাঝে মাঝে অনলাইনে বসি। এমনই একদিন বুশরার আগমন, জানালো তার একটা ছেলে হয়েছে। সে ছবিও আমাকে পাঠিয়েছিলো। ভালো, কিউট।

৪.
সেদিন অবরোধের ভিতরে অফিস করছিলাম। অফিসে বেশ কিছু কাজের দরুন সন্ধ্যা হয়ে গেলো। সম্পুর্ন অফিসে একা, নিজের ডেস্কে বসে কাজ শেষ করে মেইল পাঠাতে বসেছি। হঠাৎ একটা টেক্সটঃ
-কেন্ট রিমেম্বার, হু আর ইউ?
উত্তরে একটা হাসি পাঠালাম। বললাম- হেল্লো আভা।
-তুমি হচ্ছো সেই যার ফোন নম্বর আমি চেয়েছিলাম, আই রিমেম্বার।তুমি কক্ষনোই তোমার সম্পর্কে আমাকে কিছু বলো নি।
-হেসে বললাম আমি, আচ্ছা, কি জানতে চাচ্ছো তুমি? বলো আমি জানাচ্ছি। Do you wanna know my particulars?
– না, না, দরকার নেই, ইউ আর এ মিস্টেরিয়াস ম্যান। বলেই সে অনেক যুক্তি-তর্ক শুরু করলো। হাসি মুখে শুনছিলাম তার কথা। বাসায় চলে আসতে হবে বলে আমার তাড়া, ও বুঝে ফেললো। বাই বলার আগে ও বললো,
-তোমাকে তো আমি সবসময় আমার নিউ নিউজটা জানাই তাই না?
কথাটা বুঝতে না পেরে হাসি দিলাম।
-তোমাকে আমি আমার বিয়ের নিউজ দিয়েছি, বাচ্চা হবার নিউজ দিয়েছি। তোমাকে আজ আরেকটা নতুন নিউজ দিবো।
এবার বিষয়টা বুঝে বেশ জোরে হেসে বললাম নিশ্চয়ই। নিউ নিউজ শুনতে কার না ভালো লাগে। বলো বলো।
বুশরা একটু সময় নিচ্ছে দেখে আমি কাগজপত্তর গোছাতে শুরু করেছি। যেতে হবে।
স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি বুশরার টেক্সট, গত মাসে আমার ডিভোর্স হয়ে গেছে। প্রথমে বুঝতে পারলাম না বিষয়টা কি। আর কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখলাম বুশরা সময় না দিয়ে বাই বলে তার নতুন নিউজটা দিয়ে চলে গেলো। স্তব্ধ হয়ে গেলাম। জীবন…! আধাঘন্টা ধরে রিভলবিং চেয়ারে দোল খেতে খেতে শুধু এতটুকু ভাষা খুজে পেলাম, ফিলিং সরি, আভা…!

৫.
জীবন ধারার সাথে সাথে আমাদের সম্পর্ক, পরিবার আর সমাজেও অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। মাঝে মাঝে খুবই অবাক হই আর ভাবি, পরিবর্তন গুলো কেন এমন হচ্ছে? আমি আমার আশেপাশের অনেক সদ্য গড়া জুটির বিচ্ছেদ দেখতে পাই। একদা তারা পরস্পরকে ভালোবেসে চলার পথের সৃষ্টি করেছিলো। কেনো এই পথ থমকে যাচ্ছে? তাকিয়ে দেখি, বোঝার চেষ্টা করি।

সল্পতম পরিচয়ে সৃষ্টি হয় কৌতুহল, ভালোবাসা না। এগুলো কি সেই কৌতুহল মিটে যাবার পরিনতি? নাটক থেকে কেনো জীবন গড়ছে, জীবন থেকেই তো নাটক হবার কথা…!

পুনশ্চঃ ১ সাহস সন্মন্ধীয় এই ডায়ালগটা শুনতে শুনতে আমার মুখস্ত হয়ে গেলো । সাহসের পরিচয় যে এর মধ্যেই নিহিত এটা কেউই বুঝলো না। :D

সরল যুক্তিঃ এই মিউজিকটা ভালো, কারন তাহসানের প্রায় সবকিছুই ভালো।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:২৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×