অনেক উত্তেজনা ও উদ্দিগ্নের পর আমাদের(ব্যাকইউ এ্যালামনাই) নিজুম দ্বীপ ভ্রমন শেষ হলো। শুক্রবার শনিবারের বন্ধকে কাজে লাগাতে আমাদের যাত্রা শুরু হলো 28 ফেব্রুয়ারী। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অবকাশ রিচের্াটের ডরমিটরী বুকিং এবং লঞ্চের ভিআইপি কেবিন বুকিং আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। লঞ্চের টাইম বিকেল 5.30 মিঃ, সেই অনুযায়ী সবাই 5 টার আগেই সদরঘাটে উপস্থিত হলো। ভিআইপিদের অভ্যর্থনার জন্য যথারীতি আনোয়ার ভাই উপস্থিত ছিল। যা হোক লঞ্চ ছাড়ার পরপরই শুরু হলো ফটোচেশন, বাদাম পার্টি, গান, বুড়িগঙ্গা নদীর পানি নিয়ে গবেষনা। পানি পরিশোধন নিয়ে নানা জনের না চিন্তা। পাকনা (মর্ুতজা) বলল, পানি পরিশোধন কষ্ট অনেক বেশি। সুতারাং এটা করা সম্ভব নয়। আবার আসাদ ভাই বললেন, পানির প্রবাহ বাড়াতে হবে। এভাবেই চলল বেশকিছ্ তর্কবিতর্ক। ওদিকে হাসনাত ও সিকোর গানের আয়োজন। রাত 9টা। কেউ রুটি কলা কেউ ইলিশ ভাজি, আবার কেউবা মুরগী দিয়ে রাতের খাবার সেরে নিল। ঘুমপ্রিতী মানষজনেরা রাত 10 টার মধ্যেই ঘুমে বিভোর হয়ে গেল। হাসনাত, সিকো, নাইম, আর মর্ুতজা লঞ্চের ভিআইপি ডেকে লেপ মুড়ি দিয়ে বসে শুরু করল গানের আড্ডা। ভোর 5.30 মিনিটে আমরা পৌছলাম ভোলা দৌলতখান ঘাট। দৌলতখান থেকে হাতিয়া পর্যন্ত যাত্রাপথে অনেকগুলো ছোট ছোট দ্বীপ, যেন প্রত্যেকট দ্বীপই একেকটা ধফাবহঃঁৎব. তারপর বিভিন্ন ষ্টেশনে থেমে আমরা হাতিয়ায় পৌছলাম সকাল 9.30 মিনিটে। এরই মধ্যে আমাদের দুইবার নাস্তা খাওয়া হয়ে গেছে। প্রথমেই রুটি কলা অতঃপর মনপুরা লঞ্চঘাটে নেমে গরম রুটি, ভাজি, ডিম একেকজন 8-10 করে সাবাড় করে ফেলল। আমাদের তপনদা আবার লঞ্চ থেকে মনপুরা ষ্টেশনে নামেনি তার মেকাপ নষ্ট হয়ে যাবে বলে। যাহোক হাতিয়া থেকে আমাদের অবকাশের ট্রলার আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। আমরা সবাই জানি নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের ড়হব ড়ভ ঃযব ৎবসড়ঃব ধৎবধ. সুতারাং ট্রলারটি নিঝুম দ্বীপ থেকে আসতে কিছু সময় লেগেছে এবং আমাদের কিছু সময় অপো করতে হয়েছে। নিঝুম দ্বীপ থেকে হাতিয়া ট্রলারের যাত্রাপথ 2.30 ঘন্টা সময়। তবুও নদীর জোয়ার ভাটা অনুযায়ী এই সময় বেশী লাগে। ঋড়ৎঃঁহধঃবষু আমাদের সাথে 7 জন বড় ভাই ছিল। সব মিলে আমরা 15 জন। আমাদের জন্য অবকাশ যে ট্রলারটি ঠিক করে রেখেছিল সেটি বেশি উন্নত ছিল না, তাই আমাদের সবাই একটু ব্রান হয়ে গেছে। ইধংরপধষষু প্রত্যেকটা ধফাবহঃঁৎব এ দু-একটা ঢ়ধরহ থাকে। সবচেয়ে মঝার ব্যাপার আমাদের এখানের অনেকেই সাঁতার জানত না এবং ষরভব এর প্রথমে লঞ্চ কিংবা ট্রলারে উঠেছে। বেলা 3 টায় আমরা গহীন অরণ্যের ভিতর দিয়ে অবকাশ রিচের্াটে পৌঁছলাম। দুপুরের খাওয়া দাওয়া আমরা বাজারের হোটেল গুলোতেই সারলাম। তারপরই শুরু হলো জবধষ ধফাবহঃঁৎব. প্রথমেই আমরা হরিনের পাল দেখতে গেলাম। মেঘনার উত্তাল তরঙ্গের পাড় দিয়ে আমরা চললাম হাজার হাজার হরিনের ঝাঁক দেখতে। কিন্তু সামনেই পড়ল ছোট একটি পধহধষ. আশেপাশে কোন নৌকা নেই। তাহলে কি আমাদের এই খালটি পার হতে হবে? খালের পাড় থেকেই দেখা যাচ্ছে বিশাল হরিনের পাল। হাজার হাজার হরিন কাছ থেকে দেখার উত্তেজনাতো কারো মধ্যেই থেমে নেই। আমি যখন বললাম আমি খালের ওপাড়ে যাবো এবং চলেই গেলাম তখন আর সবাইকে ঠেকায় কে? সবাই ধীরে ধীরে হাজার হাজার হরিনের কাছে যাচ্ছি। টহভড়ৎঃঁহধঃবষু অবকাশ রিচের্াট থেকে একটি পোষা কুকুর আমাদের সাথে গিয়েছিল এবং সে খাল পাড় হয়ে আমাদের সাথে হরিনের পালের কাছে চলে যায় এবং হরিনগুলো সরতে থাকে। কিন্তু আমাদের প্রফেশনাল ক্যামরাম্যান নাইম (এসি) সব হরিনের পালকে ক্যামরা বন্দী করেছিল। তপনদা একটু বেশী পাকনা বলে শ্বাসমূল উপো করে গহীন বনের ভিতর দিয়ে হরিনের কাছে চলে গিয়েছিল। হরিনকে ধরতে যাওয়ার আগেই হরিন তাকে এ্যাস দেখিয়ে চলে গেছে।
সন্ধা 5.45 মিনিট সবাই বেক করল রিচের্াটে, গোসল সেরে শুরু করল বারবেকিউর আয়োজন। ছাগল না হরিন??
বারবেকিউ তৈরী হতে হতে কয়েকধপা ফটো সেশন তো হয়েই গেল। রাত 10 টা, বারবেকিউ আর ফরটা খাওয়া শেষে আমাদের ঐধৎফ ফৎরহশং ভষড়পশং দের শুরু হলো খাওয়া আমি, আসাদ ভাই, আর পাকনা মর্ুতজা আবার ঐধৎফ ফৎরহশং হজম করতে পারি না। সিকো ছেলেটা একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছে, অবশ্য সমস্যা হয় নাই, ঝগঅজঞ নধনু. পরদিন সকালে আমাদের শুরু হলো গহীন অরণ্যের যাত্রা। প্রায় 3 কিঃ মিঃ হাঁটার পর শুরু হলো গহীন অরণ্যের ভিতর ঝাঁকে ঝাঁকে হরিন। সাথে সাথে ফটো সেশনতো থাকছেই। এরপর দেখলাম কুকুর দিয়ে হরিনকে মারার দৃশ্য। অবাক আর বিশ্ময়ের সাথে ্আমরা কাছাকাছি যাওয়ার আগেই কুকুর হরিনের বেশ কিছু অংশ খেয়ে ফেলেছে। অতঃপর আমরা রওনা হলাম নদীবেষ্টিত বিশাল বিচে। বেশ কিছুন থাকার পর আমরা রওনা হলাম রির্চোটে। দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে রাতের বারবেকিউর আয়োজন শেষ করে নদীর পাড়ে দ্বিতীয় অভিযাত্রা। তবে এবার ছাগল কিংবা হরিন দিয়ে নয় বারবেকিউ হবে মুরগী দিয়ে। সন্ধা 7.00 টা বারবেকিউ তৈরী শুরু হয়ে গেল। ফটোসেশন শেষে সবাই আকাশের "কালপুরুষ তারা" নিয়ে গবেষনা শুরু করল। পরদিন সকালে আমরা জোয়ারের জন্য অপো করতে লাগলাম। এবং জোয়ার আসামাত্রই আমরা ঢাকায় রওয়ানা হলাম। প্রায় 24 ঘন্টার ঔড়ঁৎহবু. এরই মধ্যে আমরা হাতিয়া, ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুর ঘুরে ঢাকায় উপস্থিত হলাম। অতি স্বল্প খরছে এরকম একটা ভ্রমন অবিশ্বাস্য এবং অকল্পনীয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১:৩৫