somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষক রাজনীতি-আন্দোলন-হিন্দি সিরিয়াল-তরমুজ-যুবায়ের-সেশনজট

০২ রা এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাম্প্রতিক কালে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবীতে শিক্ষক সমাজের আন্দোলনের নামে যে নতুন হিন্দি সিরিয়াল শুরু হয়েছে তার উপর আমি খুবই ত্যক্ত বিরক্ত। তার মানে এই না যে আমার বাড়ি গোপালগঞ্জ বা আমি উপাচার্যপন্থী।



আমি সাধারণ এবং বৈধ ছাত্র।



প্রথম কথা হচ্ছে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির ৩ বছর ধরে ভিসি প্যানেলের নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আছেন। এইটা এখন অন্যদের সহ্য হচ্ছে না। তিনি একা কেন ৩ বছর থাকবেন? ঐ চেয়ারের উপর তো সব রাজনৈতিক শিক্ষকের হক আছে। সবার ‘এইম ইন লাইফ’ ঐ চেয়ারে বসা।



মানলাম, ভিসি ৩ বছর ধরে আছেন। মানলাম, অবৈধভাবেই আছেন।



তারপরও উনি একটা ছেলেদের হল নির্মাণ করছেন, শহীদ রফিক জব্বার হল। মেয়েদের একটা হলের কাজ চলছে, শেখ হাসিনা হল। উনি এসেই একটা সমাবর্তন করেছেন, আরেকটা করার উদ্যোগ নিছিলেন কিন্তু যুবায়ের হত্যাকান্ডের পর আমরা সাধারণ ছাত্ররাই ফেসবুক, ব্লগ, পত্রিকায় ঐ সমাবর্তন বর্জন করেছি। ফলে উপায়ান্তর না দেখে তা স্থগিত করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন প্রধান ফটক বলতে জরাজীর্ণ একটা ফটক ছিলো, যা দেখে বোঝার কোন উপায় ছিলো না, এটা দেশের অন্যতম প্রধান একটি বিশ্ববিদ্যালয়। শরীফ এনামুল কবির সেখানে দেখার মতো একটা ফটক নির্মাণ করেছেন। সবগুলো কাজই হয়েছে কল্পনার চেয়েও কম সময়ে। বিভাগ বেড়েছে, অনুষদ বেড়েছে, ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বদলানো হয়েছে, একদিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে



তবে তিনি ছাত্রদের ওপর অতিরিক্ত গার্ডিয়ান গিরি ফলিয়েছেন। আমার মনে হয় এখানে ওনার চেয়ে মাথা মোটা দুই সাবেক প্রক্টর এবং বর্তমানে সামনে পিছনে দুই হলের দুই প্রভোস্টের ভূমিকাই বেশি ছিলো। সান্ধ্য আইন, রাত এগারোটায় দোকান বন্ধ করা, ছেলেদের হলে রুমে রুমে গিয়ে অ্যাটেনডেন্স নেয়া, এইসব মাজাভাঙ্গা কাজও হয়েছে এটা সবাই জানি। শিক্ষক নিয়োগের নামে ভোটার তালিকা হাল নাগাদ হয়েছে এটাও সত্য!



সবচেয়ে বাজে কাজ ছাত্ররাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ। এই হস্তক্ষেপের ফলে গত ৩ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচে বেশি বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। গিনিজ বুকেও এই রেকর্ডের ঘটনা ঠাঁই পেতে পারে। অনেক ছাত্রনেতা, ছাত্রের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে। কেউ সার্টিফিকেট পায়নি, কেউ জেল খেটেছে। সর্বশেষ যুবায়ের হত্যাকান্ড কিংবা শিক্ষক সমিতির সভাপতির লাঞ্চনার দায় এড়াতে পারেন না উপাচার্য। আর ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য তাকে তো কাঠগড়ায় প্রতিবছরই দাঁড়াতে হয়।



তবে যে কারণে শিক্ষক সমাজের আজকের এতো পাকাপোক্ত অবস্থান তার সূচনা হয়েছিলো শিক্ষক সমিতির গত নির্বাচনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদটি উপাচার্যের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায়। রাজনীতিতে ভুল করলে মাশুল তো গুনতেই হবে।



এখন সেই মাশুলই গুনতে হচ্ছে উপাচার্যকে। শিক্ষক সমিতি তার বিরুদ্ধে কথা বলছে। শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আন্দোলন হচ্ছে, যাতে সামনের সারিতে থাকছেন বুদ্ধিজীবী, বামপন্থী শিক্ষকবৃন্দ। কিন্তু আসল খেলাটা পেছন থেকে খেলছেন বিএনপি পন্থী শিক্ষকরা। আমার দেখা ক্যাম্পাসের ৫ বছরের শিক্ষক রাজনীতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা অনেক বেশি পরিপক্ক এবং বুদ্ধিমান। সেটা তাদের দোষ নয়, মেধা এবং গুন। বামপন্থীরা সবসময়ই রাজপথে, প্রাসাদে তাদের ঠাঁই হয়না, মানায় না। বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগের সাথে মিলে তারা থাকেন বিএনপির বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি’র সাথে মিলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।



যুবায়ের হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধেই যদি শিক্ষক সমাজের আন্দোলন হয়, তারা যদি যুবায়েরকে এতোই ভালোবাসেন, তাহলে আক্রান্ত ছেলেটাকে বাঁচাতে তারা তখন এগিয়ে আসেন নি কেন? যুবায়ের কে তো তার বিভাগের সামনে থেকেই নিয়ে যাওয়া হয়। উপাচার্য কোথায় কার সাথে মিটিং করছেন সে খবর ঠিকই তাদের কাছে থাকে, একটা ছাত্র চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে, সে খবরটা থাকে না? নাকি ছেলেটা মরলে আন্দোলনটা জমানো যাবে সেই অপেক্ষায় ছিলেন? যুবায়েরকে ভেঙে আন্দোলন করছেন, যুবায়েরের জন্য কি করেছেন? যুবায়েরের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কোন প্রস্তাব করেছেন? হিন্দি সিরিয়ালের গ্লিসারিন দেয়া কান্না কাঁদতে আসবেন না প্লিজ।



এখন ধরলাম কোন না কোন ভাবে শিক্ষক সমাজের হিন্দি সিরিয়াল বা তথাকথিত উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন সফল হলো। শরীফ স্যার পদত্যাগ করলেন। কিন্তু তারপর কি হবে? আমাদের কি কোন উপকার তাতে হবে? যুবায়ের ফিরে এসে স্নাতকোত্তর শ্রেনীর ক্লাস করবে? শেখ হাসিনা হলের কাজ সময় মত শেষ হবে? যেসব ছাত্রের ছাত্রজীবন ঝড়ে গেছে তারা আবার নতুন করে শুরু করতে পারবে? ক্যাম্পাসের যে কটা গাছ কাটা হয়েছে, নতুন উপাচার্য এসে কি সেখানে নতুন গাছ লাগাবেন? ২৪ ঘন্টা বিদ্যুতের ব্যবস্থা করবেন? নাকি গননিয়োগ বন্ধ করবেন?



কিছুই হবে না, রাজা যাবে রাজা আসবে, রানীরাও আসা যাওয়া করবে। মাঝখানে শিক্ষক সমাজের ক্লাস, পরীক্ষা ফাঁকি এবং তরমুজ উৎসবের সিরিয়ালে আমরা কয়েকটা বাড়তি দিন সেশনজটের উছিলায় ক্যাম্পাসে কাটাবো, আর আমাদের বাবা-মা অপেক্ষা করবে, ‘খোকা/ খুকী তার কবে পাশ করবে’?
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×