somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিত্য পথচলা ও কবিতার খাতা

২০ শে এপ্রিল, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজেকে নিয়ে প্রথমবারের মত লিখছি। একান্ত— ভাললাগা বা কষ্টের টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলোকে কখনোই এমএসওয়ার্ডের ফাইল বন্দী করার ফুরসৎ পাইনি। এর কারণ এই নয় যে, আমি যে খুব ব্য¯— মানুষ। অনেকবার লেখার কথা ভেবেছি। কিন্তু, মনের কথাগুলোকে গুছিয়ে লিপিবদ্ধ করার পারদর্শিতা নিয়ে আমি খানিকটা চিন্তিত ছিলাম বৈ কি! আমি মোটেও কথাশিল্পি নই। শব্দ দিয়ে কথার জাল বিছানো বা টানটান উত্তেজনা দিয়ে পাঠককে ধরে রাখবার ক্ষমতা ক্ষুদে স্বাধীন লেখক হিসাবেও কোনকালে আমার ছিল না।

আমার দুঃদিনের বন্ধুর কবিতা আমাকে হাসায়, ব্যতিত করে, প্রতিবাদী হতে উদ্বেলিত করে। আমি মুগ্ধ হই। বড় ভাই ও কাছের মানুষ, এক সাংবাদিকের ছোট ছোই ফিকশনগুলোও আমাকে নাড়া দেয়। মাত্র কয়েকটি লাইনেও এত কথা কিভাবে তুলে ধরেন তিনি? আমি বিস্মিত হই।তবে, তাই বলে ভাববেন না, এনাদের মত লিখতে পারি না বলেই আমি অনিয়মিত লেখক। আমি আসলে পাঠক হিসাবে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি বলেই হয়ত আজ –-কাল- পরশু বলে বলে আর লেখা হয়ে উঠেনা।

আবার আমার বিরোদ্ধ বন্ধুমহলে বদনাম আছে যে, আমি সহজ কথাকেও অনেক বেশি ঘুরিয়ে পেছিয়ে লিখতে অভ্য¯—। অনেকে একডাঙ আগবাড়িয়ে সরাসরি বলে বসেন, আমি আমার ‘পেঙছকি’ (জটিল করে লেখার বদ প্রবণতা) লেখার মাধ্যমে পাতি বুদ্ধিজীবী সাজতে চেষ্টা করি!যারা এহেন সমালোচনা করেন, তাঁদের বিরোদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নাই। আমি আসলে একটু বেশি বেহায়া গোছের মানুষ। তাদের উদ্দেশ্যে আমি সবসময় সরাসরি বলি- আমি এরকম লেখন শ্বৈলীর চর্চা করি। একজন কবি যেমন তার কবিতার একটা ঢং, একজন গায়ক যেমন তার গায়কির একটা ঢং তৈরি করে নেন, যে ঢং দিয়ে তাঁকে চেনা সম্ভব; তেমনি আমিও একটা লিখন ঢং পদ্ধতির অনুসরনকারী বা চর্চাকারী মাত্র। এতে আমি দোষের কিছু দেখি না। এই ঢং যদি আমাকে বুদ্ধিজীবীর খেতাব পড়িয়ে দেয়, তা হবে আমার উপরি পাওনা। আসলে আমি এমন করে লিখতেই পচন্দ করি, খেতাব পাওয়ার জন্য নয়।

বিষয়টাকে আরো পরিষ্কার করা যেতে পারে। ধর“ণ, জসিমউদ্দীনকে যদি আপনি ফটোগ্রাফার জ্ঞাত করেন, তবে জীবনানন্দকে নিশ্চই পেইন্টার হিসাবে মানতে আপত্তি থাকার কথা নয়। ‘বিশ্বায়ন’েক যদি মজহার একটু রস দিয়ে ‘গোলকায়ন’ বলেন, তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না। আবার সলিমুল্লাহ খান যদি ইরাক স্থলে ‘এরাক’ ব্যবহার করে সুখ পান, তাতে ব্যক্তিগতভাবে আমার আপত্তি থাকার কথা নয়। আমি মনে করি, লেখক হিসাবে শব্দ নিয়ে খেলা করার অধিকার প্রতিটি লেখকের সহজাত।

ছোটবেলায় একবার বাবাকে বলেছিলাম, রবীন্দনাথ তার গানের কলির অনেক শূণ্যস্থান ‘তব’ ও ‘মম’ দিয়ে পূরণ করেছেন ! বাচ্চা ছেলের মুখে এমন ভারিক্কি কথা শুনে বাবা একটা মুছকি হেসেছিলেন মাত্র।

সেদিন একবন্ধুর সাথে ফেসবুকে প্রমথ চৌধুরি নিয়ে লিখছিলাম। স্কুলজীবনের সবচেয়ে বিরক্তিকর এই লেখকটিই এখন আমার প্রিয় একজন। পরিণত বয়সে হয়ত এমন অনেকেই আরো ভাল লাগবে। আবার বালক-বালিকা প্রিয় অনেক লেখককে হয়ত একটা সময় পর আর ভালো লাগবে না। কিন্তু তাঁর নতুন পাঠক প্রজন্ম নিঃসন্দেহে তারঁ বাজারমূল্য নষ্ঠ হতে দিবে না। কার বাজারমূল্য বেশি, কার কম- এসব আমার ভাবনার বিষয় নয়। কোন কথাশিল্পীর সহজ সরল লেখা যদি বালক বালিকারা অবলীলায় গলধকরন করে ও বিনোদিত হয়, তবে অনেক ‘প্রথমা’ই এদের সোনার ডিম পাড়া মুরগী গণ্য করবে –এটাইতো স্বাভাবিক।

স¤প্রতি বন্ধুমহলে আমি আরো একটি বিশেষণ লাভ করেছি। আমার ছঠাং ছঠাং , কাট্ কাট্ কথা আমার বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া বন্ধদের কাছে অর“চিকর মনে হয়। অনেকে আমার কতিপয় শব্দচয়ন নিয়ে শালীনতার প্রশ্ন তোলেন। অনেকের মতে, আমার অর্জিত জ্ঞান, সার্টিফিকেট, প্রচলিত অর্থে “ভাল ছাত্র’র খেতাব” ইত্যাদি সবকিছুতে পঁচন ধরেছে এই একটিই কারণে। এ নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই।

এ প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ে গেল। ঘটনাটা মাত্র একবছর আগের। আমার বন্ধু, কবি আলিম হায়দারের একটি কবিতায় ‘মাদারচোদ’ শব্দের ব্যবহার আমাকে বিস্মিত ও বিচলিত করেছিল। এমনকি এ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আমরা ছোটকাটো একটা তর্ক আসরও বসিয়েছিলাম জ.হ.-২১৪ তে। কিন্তু কি আশ্চর্য! আজ মাত্র একবছর সময় ব্যবধানের মধ্যেই আমার উপলব্ধির পবিবর্তন, বন্ধুর কাছে অনুশোচনা। মাঝে মাঝে বোধ করি, আমি এখন ‘শব্দচয়নের সা¤প্রদায়িকতা’ থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত। শব্দটি আরবী না ফার্সি, হিন্দুয়ানি না পাকিস্তানি, শ্নীল না অশ্লীল–এ নিয়ে একজন স্বাধীন লেখকের বিচলিত না হওয়াই শ্রেয় বলে আমি বোধ করি।
ঠিক যেমনটি শামসুর রহমান বলেছিলেন, “যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা”।


-চলবে....
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×