রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, খুন, গুম আর সন্ত্রাসী অপরাধমূলক ঘটনা।
জীবন ও জীবিকার দায়ে সারাদেশ থেকে রাজধানী ঢাকা মহানগরে নানা ধরনের মানুষ এসে জড়ো হচ্ছে।
এরা সবাই যে আয়ের জন্য নির্দিষ্ট বা চাহিদা অনুযায়ী কাজকর্ম খুঁজে পায়, তা কিন্তু নয়।
তাছাড়া অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব, আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্যহীনতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি, বাসা-বাড়ি, বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি, চিকিৎসা খরচ বৃদ্ধির কারণে দেশের বেশিরভাগ নাগরিকের মধ্যে চরম হতাশা এনে দিয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে আয়-উপার্জন করার কোনো ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখতে না পাওয়ায় বেকার তরুণ-তরুণীদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধের সাথে অনায়াসেই জড়িয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে সর্বনাশা মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও সহজলভ্যতা তরুণ সমাজকে নেশার জগতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
একই সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধর-শিশু-কিশোর, তরুণ ও যুবকদের অনেকেই ছোট থেকে বড় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।
পাড়া-মহল্লার কথিত বড় ভাই-সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্রের মালিক হওয়ায় উঠতি মাস্তান-সন্ত্রাসী হিসেবে অবলীলায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলছে।
এসব উঠতি সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক অপকর্মের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ অর্থ, সম্পদ, সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তা সবই হারাচ্ছে।
এমনকি ছিনতাইকারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আক্রমণে নাগরিকদের কারো কারো অঙ্গহানি ও প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেও কোনো প্রকার আইনী সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে পথে-ঘাটে চলাফেরা করতে মানুষ সারাক্ষণ নিরাপত্তাহীনতার এক মহা আতঙ্কে ভোগে।
বিশেষ করে রাতের রাজধানী ঢাকায় নির্ভাবনায় চলাফেরা করা ঢাকা মহানগরবাসীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আইনশৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে, বিপদগ্রস্ত মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা দান করা।
তাদের নিরাপত্তা বিধানে সব সময় তৎপর থাকা।
এমন সঙ্কটজনক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আইন-শৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জনগণের সেবায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




