দেশের উন্নতি ও জনগণের সুখ-শান্তি অনেকাংশেই নির্ভর করে সরকারের সিদ্ধান্ত ও কর্মতৎপরতার ওপর।
তবে এ ব্যাপারে আমাদের সরকার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকার জনগণের সরকার না হয়ে দলের সরকারে পরিণত হয়েছে।
সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের দৌরাত্ম্যে জনজীবনও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
কোনো সরকার যখন এভাবে চলে তখন শুধু জনগণের দুর্ভোগই বাড়ে না, দেশের অগ্রগতির পথেও সৃষ্টি হয় অন্তরায়।
ফলে এখন সরকার শুধু গ্যাস-বিদ্যুৎ পানির চাহিদা মিটাতেই ব্যর্থ নয়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও অসমর্থ হয়ে পড়েছে।
নীতি-আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সমস্যা কমাবার বদলে বরং বাড়িয়ে তুলেছে।
বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের একেক মন্ত্রী একেক বক্তব্য দেয়ায় সরকারের কেন্দ্রীয় কোনো নীতি আছে কিনা সে ব্যাপারে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি অভিযোগ উঠেছে সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতারও।
সরকারের সমন্বয়হীনতার কারণে জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি হয়েছে।
অনিয়ম ও ধ্বংসের দায় সরকার এড়াতে পারে না।
শেয়ারবাজারে হাজার হাজার বেকার যুবক বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি আমরা সামাল দিতে না পারলে খেসারত দিতে হবে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জনগণের জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে ওঠে। তবে এর বাইরেও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার অনেক বিষয় রয়েছে। জীবনযাপনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ সুবিচার চায়, সুশাসন চায়।
মানুষ যেমন মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা চায়, তেমনি চায় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা।
জনগণের এইসব আকাঙ্ক্ষা পূরণ সরকারের দায়িত্ব।
এই দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেই রাজনীতিকরা ভোট চান, সরকার গঠন করেন।
সরকার গঠনের পর জনগণ লক্ষ্য করে ক্ষমতাসীনরা তাদের দায়িত্ব কতটা পালন করছে।
বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডও লক্ষ্য করছে জনগণ।
প্রশাসনে এখন সুশাসনের বদলে চলছে সরকার দলীয় লোকজনের প্রতাপ ও ইচ্ছাপূরণ।
দেশের নাগরিকদের ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা নিলেও সীমান্তে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার নতজানু ভূমিকা পালন করছে।
প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী।
বাংলাদেশী নাগরিকদের তারা অপহরণও করছে।
এসব ঘটনা বন্ধে সরকার যে শুধু ব্যর্থতারই পরিচয় দিচ্ছে তা নয়, প্রতিবাদ করার ন্যূনতম দায়িত্বটুকুও পালন করছে না।
বিষয়টি দেশের জনগণের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার ঘরে-বাইরে সব জায়গাই ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তেইশ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে মহাজোট ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।
ইতোমধ্যে সরকার প্রায় তিন বছর অতিক্রম করেছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।
পিছিয়ে পড়ার এই চিত্র উপলব্ধি করছেন দেশের ভুক্তভোগী জনগণ।
সময় থাকতে সাবধান হওয়া জরুরি নইলে জনগণ সঠিক সময়ে অঙ্গীকার ভঙ্গের জবাব দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




