১২বছর আগের ঘটনা। দৌলতপুরের কালিদাসপুরের জনসভায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাতেই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদ সহ ৫ জাসদ নেতাকে বৃষ্টির মত গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে অস্ত্রধারী চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা। আজ বৃহস্পতিবার সেই বিভিষিকাময় বর্বোচিত নৃশংস হত্যাকান্ডের ১২ বছর পূর্ণ হলো। হত্যা ট্রাজেডির এক যুগ পার হলেও বিচার রায় কার্যকর হয়নি আজো। এই বর্বোচিত হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় নিহত পরিবারের সদস্যরা রয়েছে শঙ্কিত অবস্থায়। হত্যাকারীরা জেল ও জেলের বাইরে অবস্থান করায় আবারও তারা পৈশাচিক ঘটনা ঘটাতে পারে এ আশংকা নিয়ে সর্বদা দিন কাটে নিহত পরিবারবর্গের সদস্যদের। এই মামলার ফাঁসী দন্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামী এখনো পলাতক রয়েছে। ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাস বিরোধী জনসভায় চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের ব্রাসফায়ারে নির্মমভাবে নিহত হোন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদ, জেলা জাসদ সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারন সম্পাদক এ্যাড.ইয়াকুব আলী এবং স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন তফসের ও শমসের মন্ডল। হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ৫বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগষ্ট মামলায় মোট ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ফজলুর রহমান এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১০ জনের ফাঁসী, ১২জনের যাবজ্জীবন ও ৩ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। আসামীরা মহামান্য হাইকোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করে। ২০০৮ সালের ৩১ আগষ্ট মহামান্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ চড়ান্ত শুনানীর সময় ফাঁসীর দন্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামীর মধ্যে ১জন এবং যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামীর মধ্যে ৩ জন আসামীকে অব্যাহতি দিয়ে ৯ জনের ফাঁসীর দন্ডাদেশ বহাল রাখেন। মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতকরণ (ডেথ রেফারেন্স) মামলা ঝুলে আছে হাইকোর্টে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৪:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




