প্রবাসী ছাত্রদের উপর ক্রমাগত আক্রমণ ও তাদের হেনস্তার ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে নামকরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। শতবর্ষ পার করা মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে উপাচার্য রিচার্ড লারকিনাস বলেন, দেশে যেভাবে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে তিনি ভীষণ হতাশ। তার কথায়, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আয়ের ক্ষেত্রে অনেকটাই নির্ভর করতে হয় বিদেশি ছাত্রদের উপর। তিনি জানান, বিদেশিরা পড়াশোনা করায় এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বছরে আয় হয় দেড় হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ায় ডলারের উপর। সামপ্রতিক ঘটনার জেরে এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক আয়ও এবার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি ছাত্রদের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেয়ার আবেদন জানিয়েছে সেখানকার কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগঠন। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ৫১ জন বিদেশি ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে (এদের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু কারণ আজও অজানা) বলে সেদেশের সরকার সমপ্রতি একটি রিপোর্ট বের করেছে। পরে সাংবাদ মাধ্যমে জানা গিয়েছে, ওই ৫১ জনের মধ্যে অর্ধেকেই ভারতীয়। কিন্তু মাত্র ১২ মাসের মধ্যে এতজন বিদেশি ছাত্রের কীভাবে এবং কেন মৃত্যু হল সে বিষয়ে বিশদ তথ্য জোগাড় করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে অনুরোধ করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস (এএফআইএস)। সংগঠনের এক নেতা ওয়েসা চাউয়ের কথায়, ওই বিদেশি ছাত্ররা কি খুন হয়েছেন, না আত্মহত্যা করেছেন তা খুঁজে বের করা খুবই জরুরি এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিরই দায়িত্ব। ওয়েসার বক্তব্য, অস্ট্রেলিয়ায় যেসব বিদেশি ছাত্রছাত্রী পড়তে আসেন তাদের কেউই এখানকার সবরকম পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। বিশ্ববিদ্যালয়েরই দায়িত্ব থেকে যায় অস্ট্রেলিয়ার কোন জায়গা নিরাপদ বা বিপজ্জনক সে সম্পর্কে তাদের সবরকম তথ্য দিয়ে সহায়তা করা।
Source: MX news paper Sydney, Australia
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


