somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রামু’র ঘটনা: দুঃখের দরিয়া কি আর শেষ হবে না?

০৫ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৭:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ কী দেখলাম এই দেশে? এমন হবার কথা ছিল না, দেশকে আমরা এমন দেখতে চাই নি। কী রাজনীতির দুষ্ট চালে পড়ে গেলাম আমরা। বিডি নিউজ ২৪এর খবরে প্রকাশ, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত চলা এক হামলায় রামু উপজেলার ৭টি বৌদ্ধ মন্দির, প্রায় ৩০টি বাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, প্রথম আলোর সংবাদে জানা যায়, কক্সবাজারের রামু উপজেলার পর এবার চট্টগ্রামের পটিয়ার লাখেরা অভয় বৌদ্ধবিহারের মূল মন্দিরসহ পাঁচটি শাখামন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে, পরে একটি হিন্দুমন্দিরও ভাঙচুর করা হয়। হঠাৎ করে কোন রূপ পূর্বাভাষ ছাড়া কিভাবে এ ঘটনা ঘটল? কেনই বা ঘটল?

আমরা মুসলিম, পৃথিবীর মধ্যে এক মাত্র জাতি, যারা এক আল্লাহর নামের পতাকা এখনও এই ইহ-জাগতিক বিশ্বে তুলে ধরে রেখেছি। শত আঘাত, দুঃখ আর রক্তের দরিয়া নিয়েও আমরা এই নিশান ধরে আছি, এই নিশানে অন্যায়ের দাগ ফেলতে দিতে পারিনা। কেন হঠাৎ করে এত ধৈর্যহারা হতে হবে? কেন নিরাপদের বাড়ি আক্রমণ করা হবে? এই প্রশ্নের কি কোন জবাব নেই?

কী কারণে হঠাৎ বাংলার কতিপয় মুসলিম ধৈর্যহারা হলেন? আমরা সাধারণ জ্ঞানে বলতে পারি রাত ১১টার সময় মানুষ এভাবে উত্তেজিত হতে পারে না। কেউ তাদের ব্যবহার করেছে, হয়ত কোন অসৎ উদ্দেশ্যে। ইন্টারনেট ও ফেইচবুকে ইদানীং মুসলিমদের উত্তেজিত করতে একের পর এক ছবি আপলোড করা, হাজারো মানুষকে ট্যাগ করার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। একদল মানুষ সাধারণ মুসলিমদের উত্তেজিত করে বিকৃত স্বাদ উপভোগ করে। যেন ইসলামের নবী কিংবা কুরআন নিয়ে ফান না করলে তাদের ঘুম আসে না। কিন্তু এতে যে সাধারণ মুসলিমদের মন বারুদের মত হয়ে উঠছে তার খবর কেউ রাখে না। এই সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো সুবিধাবাদি রাজনীতিবিদ জাস্ট ঐ বারুদের মুখে আগুন লাগিয়ে দেন। এ আগুন ঝলসে উঠে, ছড়িয়ে পড়ে দিগন্ত থেকে দিগন্তে।

কী বলব? কিভাবে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। যদি আজ কোন মসজিদে এমন করা হত, কেমন লাগত আমাদের? বুঝতে পারি আপনাদের কষ্ট, কিছুদিন আগেই না আপনাদের পাশের রেহিংগাদের মারা হল, এ জন্য অনেক অবিশ্বাস আপনাদের মনে বাসা বেধে ছিল। কিন্তু আপনারা কি আরেকটু ধৈর্যশীল হতে পারলেন না? ঐ বাড়ি ঘরে হয়ত অনেক নিরপরাধ মানুষ, শিশু ঘুমিয়ে ছিল। কি দরকার এই ত্রাস তৈরি করার। কিভাবে আমরা মুখ দেখাব রসূল সা: এর কাছে, কি জবাব দিব আল্লাহ পাকের কাছে?

সরকারের কাছে অনুরোধ এ সব ঘটনার কারিগরদের ধরা হোক। তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। স্বল্প কিছু মানুষের অপরাধ আমরা সকলে নেব কেন? বাংলাদেশে কম পক্ষে ১৩ কোটির উপরে মুসলিমদের বসবাস। মাত্র ৫০০ জন মানুষের ভুলের দায় সবাই কেন নিবে ? এই সব মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার মূল কারিগরদের সংখ্যা আরও অনেক কম, ঐ কারিগরদের ধরা হোক, এই অন্যায়ের বিচার করা হোক।

বাংলাদেশ, এর তিন দিকে (কার্যত) বহুশ্বরবাদী ভারত, পূর্বে নিরীশ্বরবাদী বার্মা, উত্তরে নাস্তিক্যবাদী চীন আর দক্ষিণে সাগর মহাসাগর। এর ভিতরেই মাথা উঁচু করা এক ফুল, এক স্রষ্টাবাদী বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ। হে বাংলার জনগণ! আপনারা সতর্ক হোন, আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিন। দয়াকরে, শয়তানদের পেতে রাখা ফাঁদে আর পা দিয়েন না। মসজিদ, মন্দির ভাঙ্গার বিদেশী অপসংস্কৃতি আমরা আর দেখতে চাই না। এ দুঃখের দরিয়া শেষ হোক।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ৭:৫৫
১১টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×