...'বদলে ফেলুন জীবনের গল্প......সাধ ও সাধ্যের সুখের বিজ্ঞাপন আর লাল-নীল আলো...আসতে - যেতে এইসবই তার পৃথিবী। তবু বাসের জানালা দিয়ে যতটুকু আকাশ দেখা যায় তা-ই সারাদিনের অনেকখানি পাওয়া। এরই একধারে ছোট্ট একটা উঠোন। তার ঠিক মাঝখানে একটা বড় আমগাছ। বেশ পুরোনো। গাছটার মতই পুরোনো মুখোমুখি দুটি ঘর। একিট তাদের । আরেকটি চাচাদের। আশেপাশে মানে তিন পাশ বড় বড় ৩/৪তলা বাড়ি। সেসব বাড়ির জানালা দিয়ে কেউ কেউ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। ভাবে...আরে ঢাকায় এখনো এরকম বাড়ি আছে নাকি! তারপর হয়তো ভাবে সব সুখ এখানেই।
সেই বাড়িটা থেকে বের হওয়ার সময় প্রায় প্রতিদিন-ই ভাবে সুমাইয়া`আর যদি কোনোদিন এই বাড়িটায় ফিরতে না হতো! তবে সে বেঁচে যেত।"
তারপরও প্রতিদিন রঙচটা কালো থেকে প্রায় ছাই রঙ হয়ে যাওয়া ছাতাটা নিয়ে উঠেনটাতে ঢোকে সুমাইয়া ওরফে সুমি। তখন অাসলে বাড়ি ফেরার জন্য ভীষণ অস্থিরো থাকে সে। বাড়ি ফিরে মায়ের ঘরে গিয়ে মায়ের মুখটা দেখার পর শান্ত হয়। তারপর এক গ্লাস পানি খেয় দম নেয় একটু। রান্নাঘরে ঢোকার আগে কিছু থাকলে মুখে দেয়। তারপর নয়টা পর্যন্ত রান্না। ১০টার দিকে মাকে খাইয়ে, ছোট ভাই ও বোনেক খাওয়ানো। তারপর নিজের একটু কাজ। সেলাই....জামার ভেতর লাল-নীল কাজ...একটা ফুল...পাতা...নকশা....হঠাৎ স্বপ্ন ....আবার সব ফাঁকা....
এবং অপেক্ষা।বড় ভাইটার বাড়ি ফেরার। খাবার অবশ্য পাতে বাড়াই তাকে। কেউ যায় না সামনে। টলতে টলতে কোনরকমে খায়। আর বকবক করে বলতে থাকে একেকদিন একেক গল্প....বুঝছো মা...আজকে গেছিলাম লিটনের ওইখানে...লিটনরে চিনছো তো...ওই যে আমার সাথে ফাইবে বৃত্তি পাইল...তোমারে সালাম করলো বাড়ি আইসা...গার্মেন্টেসের ব্যবসা ধরছে...একেবারে লালে লাল...ও বলছে ওর ওইখানে আমারে একটা কাম দিব...স্টোরে। কাইল একবার যাইতে হবে। সকালে ১০০টাকা রাইখা যাইসতো সুমি....
"নির্লজ্জ।" "অপদার্থ" সুমি এখন আর আসতে করে কথা বলতে পারে না। তাই শুনে ক্ষেপে ওঠে রাজিব। খাওয়া শেষ। তাই এগিয়ে আসে। " কি?"
সুমি আবারো বলে কথাটা। জানে বললে কি হবে। তবু বলে এবং মার খায়।
আজকাল অবশ্য কান্না পায় কম। মাকে ওষুধ খাইয়ে নিজের বিছানা করে। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দে অন্ধকারে চলে যেতে থাকে নিজের গড়া এক অদ্ভূত জগতে। এটা একধরনের খেলা। শুয়ে স্বপ্ন দেখে। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতো- ভাবে সে। আবার তা-ও নয়। ভাবে বাবার বে৭চে থাকার সময়ের কথা। যখন ভাইটা কলেজে যেত। যখন ।আত্মীয় স্বজনরাও ঘিরে থাকতো। তারপর চোখ ভিজতে শুরু কররে সে স্বপ্ন বানাতে শুরু করে। ...সে আরো একটা িটউশানি পেযেছে। না। সে হঠাৎ করে একটা চাকরী পেয় গেছে। চাকরীটা দিয়েছে তার বান্ধবী রেহনুমার বাবা। তার অফিসে। তিনি সুমাইয়াকে অনেক আদর করেন। বেতন মোটামুটি খারাপ না। প্রথম মাসে বেতন পেয় ধার শোধ করলো।নাহ। সে মাতে একটা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল্ ডাক্তার বললো-চিন্তার কিছু নাই । টেনশানে এমন হয়। নার্ভ ঠান্ডা রাখার ওষুধ দেয়া হয়েছে। একটু সময় লাগবে। না....অল্প সময়েই ভালো হয়ে যাবেন।.....ভাইটাকে মা খুব বোঝাবে। মানুষ যে ওকে নেশাখোর বলে...ছিনতাইকারি বলে তাতে তোর বোনের কখনো বিয়ে হবে না.....রাজিব অবশ্য নিজেকে ভালো করতে চাইবে। একদিন সকালে উঠে ব্যাগ গুছিয়ে তেজগাঁ সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি তে যাবে। সুমাইয়া নিজে গিয়ে ভর্তি করে আসবে।....
ঠাস ঠুস করে শব্দ হতে থাকে দরজায়। জানালা টাকাতে থাকে কারা যেন। রাজিব রাজিব বলে তারা চিৎকার করতে থাকে। রাজিব বেঘোরে ঘুমাতে থাকে। দরজা-জনালা বুঝি ভেঙে যাবে। সুমাইয়ার আতঙ্কিত মা চিৎকার করে গালাগাল দিতে থাকে। লোকগুলোর আওয়াজ আরো বাড়তে থাকে।
অন্ধকারে ছুটে গিয়ে সুমাইয়া ভাইয়ের গা ঝাঁকুনি দিয়ে বলতে থাকে...ভাইয়া তুই আজ কিছু আনছিস? আনলে ফেরত দে। নইলে আমি আজকে বিষ খাব...বলে কাঁদতে থাকে....
রাজিব ধপ করে উঠে বসে বলে...চেইন আমি নেই নাই বিজু, জাহিঙ্গীর ওরা নিয়া বেইচা দিছে।...আমারে খালি ২০০টাকা দিছে...
তারপর...আরেকটি দিন....সারাদিন অফিসে ডাটা এন্ট্রি করে বের হয় সুমাইয়া। বান্ধবি রেহনুমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায় সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালের দিকে। হাসপাতালের আশেপাশে কোথায় যেন নেশা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে রাজিব। এখন আর ভয় পায় না সুমাইয়া। তার কাছে ৫০০ টাকা আছে। ৩০০টাকা হলেই ছাড়িয়ে আনা যাবে।...পথে পথে দেখে যায়.."বদলে ফেলুন জীবনের গল্প..সাধও সাধ্যের সুখের বিজ্ঞাপন..."
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


