somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ক্লোন রাফা
আমি আমাদের কথা বলতে এসেছি। আমি বাংলাদেশের কথা বলবো।আমি পৃথিবির অবহেলিত মানুষের পক্ষে ।জয় বাংলার প্রতিটি শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। ৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষায় জিবন বাজী রেখে লড়াই করে যাবো।জিবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে ।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

আমাদের ৭১- কোনো কোনো ক্ষেত্রে রুপকথাও হার মানে‼️

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের উঠানে একটা কবর আছে। কবরটা কার, আমি জানি না।
জানি না, এই কথাটা মিথ্যা। আমি জানি কার। কিন্তু নামটা বললে বিপদ হতে পারে। তাই নাম বলি না।

​শুধু প্রতি বছর বর্ষার আগে কবরটার চারপাশের মাটি একটু উঁচু করে দিই। শেওলা পরিষ্কার করি। কবরের মাথায় একটা বেলগাছ আছে। বেলগাছটা আমি লাগাইনি। যে মানুষটা এখানে শুয়ে আছে, সে লাগিয়েছিল। বৃক্ষটা বড় হয়েছে। মানুষটা বড় হয়নি। মানুষের কবর বড় হয় না। শুধু চারপাশের পৃথিবীটা ছোট হতে হতে একদিন তার উপর এসে পড়ে।

​১৯৫০ সালে পাবনার চাটমোহর গ্রামে আমার জন্ম। তার আগের ইতিহাস আমি বাবার মুখে শুনেছি।
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের কথা বলতে গিয়ে বাবা একদিন বলেছিলেন,
“ধান ছিল। কিন্তু মানুষের ঘরে ধান ছিল না।”

​আমি বুঝিনি।

​বলেছিলাম,
“ধান থাকলে মানুষ না খাইয়া মরলো কেমনে?”
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন,
“সব ক্ষুধা পেটের না, তাহের।”

​সেই কথাটাও তখন বুঝিনি।

​দেশভাগের কথাও বাবার কাছ থেকেই শুনেছি।
তিনি বলতেন,
“মানুষের মাথার উপর দাগ টানছিল।”
আমি বলতাম,
“কোথায়?”
“মাটির উপর।”
“দাগ দেখা যাইতো?”
“না।”
“তাইলে?”
বাবা বলতেন,
“যেদিন পাশের বাড়ির মানুষটা আর পাশের বাড়ির মানুষ রইল না, সেদিন দাগ দেখা গেল।”

​আমাদের পাশের বাড়িতে তখন সেন পরিবার থাকতো। হিন্দু পরিবার। বাড়িতে তিনজন মানুষ। অরুণকুমার সেন। তার স্ত্রী সরলা। তাদের মেয়ে, মাধবী। আমরা ডাকতাম মাধু। মাধু আমার চেয়ে দুই বছরের ছোট। একসঙ্গে বড় হয়েছি। পুকুরে সাঁতার। আমগাছে ওঠা। বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরা।

​একদিন মাধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল,
“তুই বড় হইয়া কী হবি?”
আমি বলেছিলাম,
“বাবার মতো মাটি কাটবো।”
সে হেসে বলেছিল,
“মানুষ হবি না?”
আমি বলেছিলাম,
“মাটি কাটা মানুষ না?”
সে মাথা নাড়ছিল।
“মানুষ হওয়া আলাদা জিনিস।”

​তখন কথাটার মানে বুঝিনি।

​১৯৬৪ সালের দাঙ্গার সময় সেই কথাটার মানে প্রথম বুঝতে শুরু করি। এক রাতে সেন পরিবার কলকাতা চলে গেল। খুব ভোরে। কোনো বিদায় ছিল না। কোনো কান্না ছিল না। শুধু কয়েকটা বস্তা। কিছু কাপড়। দুই তিনটা হাঁড়ি। আর মাধুর চোখ। যাওয়ার আগে সে আমাকে একটা ছোট কাঁসার বাটি দিয়ে বলেছিল,

“রাখিস।”
আমি বলেছিলাম,
“ক্যান?”
“আমরা আবার আসবো। তুই আর আমি এই বাটিতে আমভর্তা খাবো।”
“কবে?”
সে বলেছিল,
“জানি না।”
আমি বলেছিলাম,
“তাইলে কেমনে জানলি আসবি?”

মাধু চুপ করে ছিল। ​তারপর চলে গিয়েছিল।

আমি অনেকদিন উঠানের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। মনে হতো, আজ বুঝি ওরা আসবে। ওরা আসেনি। জীবন অবশ্য থেমে থাকেনি। জীবন জীবনের নিয়মেই চলেছে।

​তারপর এলো ১৯৭১
এই গল্পের সবচেয়ে খারাপ অংশটা আমি বলতে চাই না। আমি তখন একুশ। আমাদের চাটমোহর গ্রামের অনেক তরুণ চলে গেল মুক্তিযুদ্ধে। কেউ গোপনে। কেউ প্রকাশ্যে।

​চাটমোহরের পাশ ঘেঁষে বাওনডাঙ্গা আর ডেমরা গ্রামে তখন পাকিস্তানি বাহিনী আর রাজাকারদের চরম তান্ডব। পুরো এলাকার হিন্দু পরিবারগুলোকে ধরে এনে বাওনডাঙ্গার বিলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করা হতো। পঁচে যাওয়া লাশগুলো ফেলে রাখা হতো খোলা মাঠে, যেখানে শকুনে খুঁটে খেতো আর কুকুরের দল লাশ নিয়ে টানাটানি করতো। মানুষের রক্তে ভিজে গিয়ে লাল হয়ে গিয়েছিল বিলের পানি।

​অরুণকুমার সেন তখন কলকাতায়। তিনি মুর্শিদাবাদের লালগোলা সীমান্ত পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে তরঙ্গপুর ক্যাম্পে চলে তাঁর সামরিক প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। জলঙ্গী নদী পার হয়ে তাঁর দল রাতে ভাঙ্গুড়ার চরাঞ্চলে অপারেশন চালাতো। রাতে নৌকা চালানো, দিনে ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা। একবার পাকিস্তানি সেনাদের একটা টহলদল খাসবাজারের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। তখন অরুণকুমার সেনের দল কাছের এক খালে লুকিয়ে ছিল। একজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধার কাশি উঠেছিল। অরুণকুমার সেন তার মুখ চেপে ধরেছিলেন। পাকিস্তানি সৈন্যরা খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল। কেউ একজন বলেছিল, "ক্যা য়াঁ কোই হ্যায়?"

​সেই কয়েক মিনিটে কেউ নড়েনি। পানি কোমর পর্যন্ত। জোঁক পায়ে। শ্বাস বন্ধ। তবু কেউ ওঠেনি। সৈন্যরা চলে যাওয়ার পর অরুণকুমার সেন নাকি বলেছিলেন, “আজ যদি একজনের কাশি আরেকজনের জীবন নেয়, তাহলে তার কোনো অধিকার নেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার।”

​আরেকবার তারা গুহগ্রামের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজে আক্রমণ চালিয়েছিল। অরুণকুমার সেনের সঙ্গে থাকা ছেলেটার মাথায় গুলি লেগে পড়ে যায়। অরুণকুমার সেন তাকে কাঁধে তুলে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসেন। কয়েক মিনিট পর ছেলেটা মারা যায়। অরুণকুমার সেন নাকি বলেছিলেন, “ওরে আমি বাড়ি নিয়ে যেতে পারলাম না। কিন্তু দেশ স্বাধীন করেই ফিরবো।”

​যুদ্ধের শেষ দিকে ঈশ্বরদী-বাঘাবাড়ী রোডে এক অভিযানে অরুণকুমার সেন গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। বুকের নিচে গুলি। সহযোদ্ধারা তাকে চাটমোহরের সীমানা পর্যন্ত নিয়ে এসেছিল। তারপর তিনি একাই যেতে চেয়েছিলেন। কারণ দল ধরা পড়লে সবাই বিপদে পড়বে। কীভাবে তিনি আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন, সেটা আমি পুরো জানি না। ​শুধু এক বর্ষার সন্ধ্যায় আমার বাবা দরজায় এসে আমাকে বলেছিলেন, “তাহের, একজন মানুষ আইছে।”

​আমি বাইরে গিয়ে দেখলাম, অরুণকুমার সেন। চেনা মুখ। কিন্তু চিনতে সময় লাগলো। দাড়ি। শুকনো মুখ। রক্তে ভেজা কাপড়। বুকের কাছে হাত চেপে ধরে আছেন।

আমি বললাম,
“অরুণ কাকা?”

তিনি আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

বললেন,
“তুই তো অনেক বড় হইছিস।”

​আমি কিছু বলতে পারিনি।

​বাবা তাকে পেছনের ছোট ঘরে নিয়ে গেলেন। তখনও আমি জানতাম না, মানুষটার শরীরে কতটা যুদ্ধ জমে আছে। পরের দুই দিন তার জ্বর উঠলো। বাবা ক্ষত পরিষ্কার করলেন। ওষুধ জোগাড় করলেন। কিন্তু গুলিটা ভেতরে ছিল। গ্রামে ডাক্তার নেই। পাবনা শহরে নেওয়া অসম্ভব। রাস্তা তখন নিরাপদ নয়। অরুণ কাকা মাঝে মাঝে জ্ঞান হারাতেন। আবার চোখ খুলতেন।

একদিন আমাকে দেখে বললেন,
“তাহের।”
“জি।”
“মাধু কেমন আছে?”

আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠলো।

আমি বললাম,
“জানি না।”

তিনি চোখ বন্ধ করলেন।

ফিসফিস করে বললেন,
“তুই দেখিস এই দেশটা স্বাধীন হবে, হতেই হবে।”

​ডেমরা আর বাওনডাঙায় দেখা নরকযন্ত্রণা অরুণ কাকাও জানতেন। রাজাকাররা সেখানে হিন্দুদের লাশ পুড়তে দিতো না, টেনে হেঁচড়ে বিকৃত করে ফেলে রাখতো। মৃতদেহও তাদের ঘৃণা থেকে রেহাই পেত না।

অরুণ কাকা খুব আস্তে বলেছিলেন,
“আমার শরীরটা যদি আগুনে দিস, দূর থেকে ধোঁয়া দেখা যাবে। যারা খুঁজতেছে, তারা বুঝবে। তোরা বিপদে পড়বি।”

তিনি একটু থামলেন।
“মাটিতে দিস।”
আমি বললাম,
“আপনার ধর্ম?”

তিনি আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন।
“মরার পর ধর্ম দিয়ে কী করবো?”

​আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনি।

​তৃতীয় দিনের ভোরে অরুণকুমার সেন মারা গেলেন। খুব চুপচাপ। কোনো নাটক ছিল না। কোনো শেষ চিৎকারও না। বাবা আমাকে নিয়ে উঠানের এক পাশে কবর খুঁড়লেন। হিন্দু মানুষকে মুসলমানের মতো দাফন করা আমাদের ধর্মের নিয়ম ছিল না। আমরা জানতাম। অরুণ কাকাও জানতেন। কিন্তু তখন ধর্মের নিয়মের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল লাশের নিরাপত্তা। আমরা অরুণ কাকাকে সাদা কাপড়ে জড়িয়ে দাফন করলাম। তার মুখ শেষবার দেখেছিলাম আমি। মনে হয়েছিল, মানুষটা ঘুমাচ্ছেন। কোনোদিন এই ঘুম ভাঙবে না।

কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বাবা অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলেন।

তারপর বলেছিলেন,
“মানুষটা হিন্দু ছিল।”
আমি বললাম,
“জানি।”
“মনে রাখবি।”
“হ।”
“কিন্তু কবরের সামনে দাঁড়াইয়া ধর্মের কথা ভাববি না।”
“তাইলে কী ভাববো?”
“ভাববি, একজন মানুষ শুইয়া আছে।”

তারপর বাবা আমার চোখের দিকে তাকালেন। গলার স্বর খুব শক্ত করে বললেন,
“এই কবরের কথা কেউ জিগাইলে বলবি, আমার বাবার কবর।”

আমি অবাক বিস্ময়ে বাবার দিকে তাকালাম,
“বাবা, তুমি?”

বাবা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। তারপর বাজারের ব্যাগে একটা লুঙ্গি আর শার্ট তুলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন।

​তারপর অনেকগুলো মাস কেটে গেল। বাবা ফিরলেন না। সেদিন বিকেলে অরুণ কাকার লাগানো বেলগাছটার পাশে আমি বসেছিলাম। চারিদিকে হৈহৈ রৈরৈ উঠলো। দেশ স্বাধীন হলো। ঢাকায় পতাকা টানালো। মানুষ রাস্তায় বের হলো। আমরা আনন্দ করলাম। সেই আনন্দের ভেতর একটা অদ্ভুত শূন্যতা ছিল।

​কয়েক বছর পর মাধুর খবর পেলাম। সে কলকাতায় আছে। বেঁচে আছে। বিয়ে করেছে। তার নিজের সংসার হয়েছে। আমার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। জীবন আবার তার স্বাভাবিক নিষ্ঠুরতায় ফিরে গেল। কিন্তু সংসার আমাকে আর টানলো না। একা রয়ে গেলাম। ততদিনে মানুষ যুদ্ধের গল্প বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেল। নতুন প্রজন্ম জন্ম নিল। তারা জানতে চাইলো না কে কোথায় মারা গেছে। কে কার লাশ কাঁধে নিয়েছে। কার বাবা ফেরেনি। কার ভাই ফেরেনি। কার স্বামী ফেরেনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মানুষের প্রয়োজন ছিল বেঁচে থাকা। স্মৃতি দিয়ে ভাত রান্না হয় না।

​তারপর একদিন, প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর পর, দুপুরে একজন বৃদ্ধা আমাদের উঠানে এসে দাঁড়ালেন। সাদা চুল। পাতলা শরীর। চোখে মোটা চশমা। সঙ্গে আরেকজন তরুণী। আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।

বৃদ্ধা বললেন,
“এই বাড়ি কি তাহেরদের?”

আমার বুকের ভেতর কিছু একটা থেমে গেল।

আমি বললাম,
“হ।”

তিনি অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর বললেন,
“তুই তাহের?”

আমি আর কোনো প্রশ্ন করিনি।

শুধু বললাম,
“মাধু?”

​সে হাসলো। খুব অল্প। কিন্তু আমি চিনে ফেললাম। মানুষের মুখ বদলায়। চোখ বদলায়। চুল বদলায়। কিন্তু কিছু হাসি বদলায় না।

আমি বললাম,
“তুই আসছিস?”
সে বললো,
“বাবার কবর দেখতে।”

​আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। এত বছর পর সে বাবার কবর দেখতে এসেছে।

আমি বললাম,
“চল।”

​সে আমার পেছনে হাঁটতে লাগলো। খুব আস্তে। উঠানের মাঝখান দিয়ে। তারপর বেলগাছটার সামনে এসে আমি থামলাম। মাধু থামলো না। আরও দুই পা এগিয়ে গেল। তারপর হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। বেলগাছটার দিকে তাকিয়ে রইল।

“এই গাছটা?”

আমি বললাম,
“তোর বাবা লাগাইছিল।”

তার ঠোঁট কাঁপলো। সে গাছটার গায়ে হাত রাখলো। অনেকক্ষণ।

তারপর বললো,
“বাবা গাছ খুব ভালোবাসতো।”
আমি বললাম,
“জানি।”
সে আমার দিকে তাকালো।

​সন্ধ্যার আগে মাধু চলে গেল। যাওয়ার সময় কবরটার দিকে ফিরে তাকালো। আমি ভাবলাম, সে হয়তো কিছু বলবে। সে কিছু বললো না। শুধু দুই হাত জোড় করে প্রণাম করলো। তারপর চলে গেল। আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম। সেদিন প্রথম বুঝলাম, কখনো কখনো মানুষ শুধু বাবার কবর খুঁজতে বর্ডার পেরিয়ে আসে না, সে আসে নিজের ভেতরের একটা খালি জায়গা পূরণ করতে।

​মাধু তার বাবাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেনি। কবরের মাটি নিতে পারেনি। কোনো হাড় নিতে পারেনি। শুধু বুকের খালি জায়গাটা পূরণ করে নিয়ে গেল।

​বছর তিনেক পর কলকাতা থেকে খবর এলো। মাধু অসুস্থ।
তারপর একদিন খবর এলো, মাধু মারা গেছে।

আমি খবরটা শুনে অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলাম।

সন্ধ্যায় উঠানে এলাম।
অরুণ কাকার কবরের পাশে বসে বললাম,
“কাকা।”

কোনো উত্তর এলো না। শুধু বেলগাছের পাতাগুলো নড়ছিল।

আমি আবারও বললাম,
“কাকা, মাধু মারা গেছে। সে আর কোনোদিন আসবে না।”
পরক্ষণেই আমার মনে হলো,
“আমার বাবাও আর কোনোদিন আসবে না।”

আমি জানি না কেন, সেদিন আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল।

​আজও বর্ষার আগে আমি কবরটার মাটি উঁচু করি। আমার হাত কাঁপে। কোদাল আগের মতো ওঠে না। কখনো হাঁপিয়ে যাই। তখন বেলগাছটার নিচে বসি। কবরটার দিকে তাকিয়ে থাকি। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে,

“কবরটা কার?”
আমি এখন বলি,
“একজন মুক্তিযোদ্ধার।”
সে যদি আবার জিজ্ঞেস করে,
“মুসলমান?”
আমি বলি,
“না।”
“হিন্দু?”
আমি বলি,
“হ।”

তারপর মানুষটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ সে জানে না, পৃথিবীর সব বড় বড় ইতিহাস রাজা বাদশাদের নামে লেখা থাকলেও, আসল ইতিহাস লেখা থাকে আমাদের উঠানের এই কবরটায়, যেখানে শ্মশানের আগুন আর গোরস্থানের মাটি এক হয়ে যায়, ধর্ম হেরে যায়, আর রক্ত দিয়ে কেনা একটা দেশের জন্য একজন হিন্দু বীর, একজন মুসলিম ভাইয়ের উঠানে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকে।

আপনারা নতুন করে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন । আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোনো গল্প উপন্যাস নয় । একেবারে নির্জলা নির্মম সত‍্য। চযা কোনো কোনো ক্ষেত্রে রুপকথার গল্পকেও হার মানায়।

কৃতজ্ঞতা-সোহেল আর রানা।

বাস্তব সত‍্য হলো / বাংলাদেশের কিছু মানুষ -মুক্তিযুদ্ধ এতটাই কঠিন ছিলো জানার পরেও। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারনে প্রচন্ডতম মিথ‍্যা বলে।এদের অধিকাংশই এখন বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে জামাতে যোগ দিচ্ছে। তারা এখন বুঝতে পেরেছে মিথ‍্যা যদি বলতেই হয় । তাহলে ছোট্ট মিথ‍্যা দিয়ে কিছু অর্জন হবেনা ব‍্যাক্তিগতভাবে। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা দলে যোগ দেয়
একজন মুক্তিযোদ্ধা ‼️কতটা অসৎ নৈতিক স্খলন ঘটলে মানুষ এত নিচে নামতে পারে!

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ॥
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×