somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোমা হামলার পেছনে কে তা কি আমরা জানতে পারবো কোনদিন?

২১ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রধান বিচারপতির বাসভবনে বৃহস্পতিবার রাতে বোমা হামলা কে করেছে আমরা জানি না। কিন্তু তা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। মামলার নথিতে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। তাদের কারও কারও বাসায় তল্লাশিও হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির এক নেতা বলেছেন, এ ঘটনাটি আওয়ামী লীগের সাজানো নাটক। ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর তদন্ত নেই, অনুসন্ধান নেই, খোঁজখবর নেই অথচ বলে দেয়া হল অমুক দায়ী। যদি এ কথাই সত্য হয়, তবে আর ঘটনার তদন্ত কেন? যারা দায়ী তাদের সরাসরি গ্রেফতার করে আইনের আশ্রয়ে নেয়াই তো আইনি কর্তব্য। তাছাড়া দায়িত্বশীল প্রধান কর্মকর্তা যখন বলেন, অমুক দায়ী, তখন ওই ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত অধীনস্থ কর্মকর্তা কি প্রভাবিত হন না? ওপরওয়ালার মর্জি বুঝে তাকে খুশি করতে মামলা কি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয় না? বিষয়গুলো নিয়ে বারবার নাড়াচাড়া হয়, কিন্তু প্রতিবারই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটে। অতীতের সব বোমা হামলার পরও কিন্তু এমন ঘটনাই ঘটেছে। রমনা, উদীচী ও ২১ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে তদন্ত। সাজাতে হয়েছে জজ মিয়ার মতো কল্পকাহিনী। আর এতে লাভবান হয়েছে অপরাধীরাই। তারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এভাবে রাজনীতির মারপ্যাচে আইনের গতিপ্রবাহ অনেক সময়ই উটপাখির মতো চোরাবালিতে মুখ লুকাতে বাধ্য হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির বাসভবনে বোমা হামলা কোন ছোট ঘটনা নয়। অপরাধীরা আঘাত করেছে আইন রক্ষায় সাংবিধানিক শপথ গ্রহণকারী প্রধান ব্যক্তির ওপর। একদিকে তার ওপর আঘাত করার দুঃসাহস, অন্যদিকে আইনের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে অপরাধীরা। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিরা কতটা নিরাপত্তাহীন- সেটাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ওই ঘটনা। কেননা, বিচারপতিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা দুরূহ হয়ে পড়াই স্বাভাবিক। আমাদের জানা মতে, বেশ কয়েকজন বিচারপতি নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি মন্ত্রণালয়। তাদের আবেদনে কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘুম ভাঙেনি জানি না। হয়তো ‘আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি আগের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো’- ওই মন্ত্রণালয়ের কারও কারও এমন দাবির সত্যতা প্রমাণ করার জন্যই বিচারপতিদের দাবি নামঞ্জুর হয়েছে। জঙ্গিদের হামলায় বরিশালে বিচারকের মৃতুøর পরও তাদের ঘুম ভাঙেনি!
দুষ্ড়্গৃতকারীরা একটু টোকা দিয়ে গোটা বিচার ব্যবস্থার নাজুক নিরাপত্তার দিকটিই স্পষ্ট করেছে। আর এ প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি জাতীয় ইসুø হতে পারেনি, হয়েছে রাজনৈতিক ইসুø। এ ঘটনায় রাজনৈতিক শিবির স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। আইনজীবীরা সুস্পষ্ট কোন অবস্থান নিতে পারছেন না। একসঙ্গে বলতে পারছেন না, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে বোমা হামলা জঘন্য অপরাধ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কিন্তু কেন? এ দেশে রাজনৈতিক ইসুøর কি বড় বেশি অভাব? যে দেশে ৬ কোটি মানুষ দরিদ্র, ২ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। যে দেশে বিদুøৎ-গ্যাস-পানির সংকট ভয়াবহ। যেখানে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি নিত্যদিনের ব্যাপার। যেখানে হল দখল, মাস্তানি, খুনাখুনি প্রতিদিনের চিত্র। গড়ে প্রতিদিন ১০-১৫ জন খুন হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছে ২০ জন। যে দেশে চাকরির জন্য দলীয় পরিচয় প্রয়োজন হয়, মামা-বাবার খুঁটির জোর দরকার হয়, সেখানে ইসুøর অভাব?
ইসুø হয়তো আছে, কিন্তু এসব ইসুøতে আন্দোলন করে রাজনৈতিক দলের লাভ কি? রাজনৈতিক নেতারাই বা কি পাবেন? একটা সময় ছিল, জনগণের সমস্যাই ছিল রাজনৈতিক আন্দোলনের ইসুø। দ্রব্যমূল্য ও আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয়গুলো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রাধান্য পেত। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, সম্প্রতি দল, ব্যক্তির সুবিধা-অসুবিধা, চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদি রাজনীতিতে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। সংসদে সামনের সারিতে একটি আসন বেশি পায়নি বলে প্রায় দেড় বছর বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন না। সংসদ এখনও অকার্যকর। বিএনপি আর সংসদে ফিরে যাবে না, তারা পদত্যাগ করবে- এমনও শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে সংসদ কার্যকর করতে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগেরও অভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিরোধী দল অধিবেশনে না থাকলে যেন কোন ক্ষতি নেই- এমনটি বারবার বোঝানো হয়েছে। কিন্তু এতে গণতন্ত্রের ভিত যে নড়বড়ে হয়ে পড়ে, তা কিন্তু রাজনীতিবিদরাই ভালো জানেন। হয়তো অনেক মূল্য দিয়েই এ সত্য বুঝতে তারা অভ্যস্ত।
হাইকোর্টের রায়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়ে খালেদা জিয়াকে হরতাল দিতে হয়। এ হরতাল অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জনজীবনে দুর্ভোগ বাড়ায়। আবার রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়ে যায় হত্যা মামলার আসামিরা। তাদের ফুলের মালা দিয়েও বরণ করে নেয়া হয়। নাটোরে দিনদুপুরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জনপ্রতিনিধিকে। কুষ্টিয়ায় সংসদ সদস্যের বাড়িতে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আখ্যায়িত করে প্রায় ৬ হাজার মামলা সরকারি নির্দেশে প্রত্যাহার করা হয়। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে মামলার কারণে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে পদত্যাগকারী ভারতের কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দিতে বিলম্ব করায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন সে দেশের সুপ্রিমকোর্ট। ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ মেনে নিয়ে বলেছে, সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তারা আদালতে উপস্থাপন করবেন।
সে বিবেচনায়, জাতীয় জীবনের চলমান ঘটনাপ্রবাহ, দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের কাছে কতটা অস্বস্তিকর তা যে কোন বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন নাগরিককে প্রশ্ন করলেই উত্তর পাওয়া যাবে। অনিশ্চয়তার কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে দেশবাসীর মনে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন- কোথায় যাচ্ছি আমরা, কোথায় যাচ্ছে প্রিয় স্বদেশভূমি, দুখিনী বাংলাদেশ?
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×