somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবেশ বান্ধব যান

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[গাঢ়] পরিবেশ বান্ধব যান[/গাঢ়]
হ্যাঁ, পরিবেশ বান্ধব যান এর কথাই বলছি। আর সেটি আমার কাছে মনে হয় রিকসা। তবে অবশ্যই তার সামনের চাকা থাকতে হবে। কলকাতার মানুষের চাকার হলে চলবে না। আর হ্যাাঁ, সামনের চাকাটি যদি মানুষের কষ্টসাধ্য পায়ে চালিত না হয়ে অটো সিস্টেম হত তবে আরো ভালো হত। যাহোক তারপরও আমার কাছে পরিবেশ বান্ধব যান হিসেবে রিকসার বিকল্প আর কিছু মনে হয়নি। পরিবেশ বান্ধব এজন্য বলছি এতে কোন প্রকার তেল, বিদু্যৎ বা কোন প্রকার ক্ষতিকারক গ্যাস বা কোন কিছু ব্যবহার হয় না। আমাদের দেশের জনগণের কেন্দ্রীয় চরিত্ররা দেশের মঙ্গলের জন্য অনেক কিছু করেন কিন্তু এদিকটি যদি একটু ভেবে দেখেন তবে আমার মনে মহানগীর পরিবেশ অনেকটাই ভালো হত। যদিও বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠী এ বাহনটিকে মহানগরী থেকে বিশেষ করে প্রধান রাস্তা থেকে উঠিয়ে দেয়ার কাজটি অনেকাংশে করে ফেলেছেন। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন একজন ভদ্রলোক যদি মিরপুর থেকে মতিঝিল বা গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে কাঙ্খিত গন্তব্যে যেতে যান তবে যানজট (ট্রাফিকজট) ইত্যাদি কারণে বর্তমানে আনুমানিক এক ঘন্টা, দুই ঘন্টা বা তারোও বেশী সময় ব্যয় হয়। কিন্তু আপনি যদি এক্ষেত্রে রিকসা ব্যবহার করেন তবে দেখুন এরচেয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌছে যাবেন। এতটা পথ টানা রিকসা না হয়ে রিকসার রূট করে দেয়া যেতে পারে। অর্থাৎ মিরপুর টু ফার্মগেট এবং ফার্মগেট টু মতিঝিল/গুলিস্তান ইত্যাদি । তাহলে রিকসাওয়ালাদের আর কষ্ট হবে না। এবার ঢাকার অবরোধের সময় এ বাহনটি কদর খুব বেশী হয়েছিল।

রিকসা আমাদের সংস্কৃতি একটি অংশ। একে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজন এর রূট নির্ধারণ, প্রয়োজন রিকসা ও রিকসাওয়ালাদের সুষ্ঠু তদারকি, দরকার এদের প্রশিক্ষণ। এক্ষেত্রে তাদেরকে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক জ্ঞান দেয়া যেতে পারে। আমাদের নেতা-নেত্রী দেশ নিয়ে অনেক ভাবেন কিন্তু এ বিষয়টি ভাবার সময় তাদের হয় না। কিন্তু ভোটের সময় দেখা এ শ্রেণীর ভোটারদের কত কদর। দরদে উতলা হয়ে উঠেন।

আরেকটি বিষয় সবাইকে ভাবার জন্য বলছি আমরা রিকসাওয়ালাদের সাথে প্রতিনিয়ত অনেক দুর্ব্যবহার করে থাকি। ভাড়া যদি একটু হেরফের বললে বা তারা যদি একটু আরাম করে অবসর সময়ে রিকসায় পা উঠিয়ে বসলে বা যাত্রীর কথার সাথে তাল না মিলালে ইত্যাদি ইত্যাদি কারণে আমরা তাদের উপর চড়াও হই। কিন্তু সে অনুপাতে একজন ট্যাক্সি/ক্যাব চালকের সাথে তা আর পেরে উঠি না। আবার দেখুন ট্যাক্সি/ক্যাব এর ভাড়া সময় আমরা প্রায়ই দুয়েক টাকা বেশী দিয়ে থাকি কিন্তু একজন রিকসাওয়ালা দুয়েক টাকা বেশী চাইলেই আমরা রেগে-বেগে আগুন হয়ে যাই। ভেবে দেখুনতো কাজটি ঠিক কিনা। আর বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে পাঁচ পূর্বের রিকসা ভাড়া আজকের রিকসা কয় গুন বেড়েছে একটু চিন্তা করুন। আমি পূর্বে (6/7 বছর পূর্বে) আমার মহল্লা থেকে বাস স্ট্যান্ডে ভাড়া দিতাম 3টাকা আর এখন দিচ্ছি 5 টাকা। খুব বেশী কি? শেওড়াপাড়া থেকে আমার অফিসে দিতাম 6 টাকা এখন দিচ্ছি 10 টাকা। অবশ্য রিকসাওয়ালা বিভিন্ন সময় সময়ের সদ্্ব্যবহার করে থাকে। যেমন, একটু গরম বা একটু শীত বা রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে । কিন্তু তাদের এ শারীরিক শ্রমের বিনিময়ে তারা কতটুকুই বা পায়।

যাহোক, এ নিয়ে অনেকেই নানা মত থাকতে পারে। পুনশ্চঃ আজকের যানজটের নগরীতে প্রচুর সময়ের প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রিত ও সীমিত হারে প্রধান প্রধান সড়কে রিকসা চালু রাখা উচিত।

তাই সবাই মিলে বলুন আসুন পরিবেশ বান্ধব এ বাহনটিকে বাঁচিয়ে রাখি। ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে আসুন এ নিয়ে ভাবি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×