somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মরু থেকে

০৩ রা মার্চ, ২০০৭ রাত ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরমেশ্বর অস্ত্রবিরতি দিয়েছেন,
বাগদাদ ভুলে,
এক পুরোনো বন্ধুকে ফোন করলেন।
যেন এটা খেলনা ট্রেনের অবিন্যস্ত গতিপথ
সমকালে যুতসই যার আগাগোড়া কর্মকাণ্ড_
এই বিশ্ব, আমারই চোখে __ এই কানে ফিসফিস করলেন তিনি।
(যেন তিনি রা পেয়েছেন
স্বর্গ বিকলাঙ্গ করা থেকে)
লতাগুল্ম ঘিরে থাকা জানালাসমৃদ্ধ ঝলমলে
ছোট ছোট ভবনের কথা বলেন_ মানুষের কথা কম,
অপ্রয়োজনসহ একটা গাধা, রেশমী লাল গোলাপ,
দুধের হ্রদ,
যবচাষে মিষ্টি পাহাড়েরা,
একটা ইঞ্জিন যা সত্য ধোঁয়া ছড়াচ্ছে,
পাহাড় বেয়ে উঠে আসা পথগুলো এখানে,
এবং তারপর
একটা ধূসর পর্দার আড়ালে।

পর্দার পেছনে
ইশারা খেলা করে,
তা-ই করে যা পরমেশ্বর করবেন।
তার মুষ্ঠিবদ্ধ খুনসুটি
ছোট ছোট ঘরের দুর্গন্ধ
আঁকড়ে ধরার ভান করে,
ছোট মানুষেরা, গাধাটিও,
যতণ না তারা যবের ভুসি হচ্ছে।

পরমেশ্বরের প্রাচুর্যে লুকাতে
আমরা উঠেছি খেলনা রেলগাড়িতে
মগজের তাচ্ছিল্য ভ্রমণে:
ধূসর পর্দায় সংর্ঘষে বাজিয়েছি হুইসেল,
আলগা করে বুনন,
ছোট ছোট ঘর ছেড়ে,
ছোট মানুষেরা, গাধাটিও,
তাদের সবার আত্মা
তলিয়ে গেছে বাগদাদ ছাইয়ে।

পর্দার পেছনে
কালোর ভেতরে নিরুত্তাপ ফুসকুরি;
অবশেষে রেলপথ শেষ হলো অবাস্তবে।
এখানে আমরা দু'চোখ বন্ধ করি,
স্মরণ করি শৈশবের ফেরেস্তাকে_
বন্ধ করো বোমাচাষ,
পৃথিবী বাচাও,
মনে করে দ্যাখো ছোট সেই ঘরগুলো,
ছোট মানুষেরা, গাধাটিও, এখন আহত,
তারাও কী লালসা আক্রান্ত হবে!
ধূলির ওপর পড়ে
তাদের স্মৃতির সত্তা ছিনিয়ে নেবে কী আমাদের স্বকীয়তা?
স্বীকার করছি_ আরও কিছুর জন্য আমরা সরে দাড়ালাম,
একটা প্রাসাদ, একটা দানব, একটা ঘোড়া।

যেন আরেকটি পোড়াজমি,
নখের আঁচড়ে দাগকাটা স্বর্গভূমি,
রক্তসিক্ত খেলা
যা হৃদয়গ্রাহী নামে
আগন্তুক ডলার ডেকেছে_
কর্তব্য ও স্বাধীনতা।
আমাদের নিরব ভূভাগ,
য়িষ্ণু দেহের এই মরু,
ছাই
পরমেশ্বরের নিজস্ব বালির জন্য, একটা খনিজকূূপ,
সঙ্গীতের জন্য দীর্ঘকাল, একটা নতুন চুক্তি,
নিচুমনা বেড়াল বাঁচাতে, ভাঙনের জন্য ভুল,
একটা বাশি বিক্রয়ের জন্য,
একটা হাড় উপশমের জন্য।

তেপান্তরে একা,
চিহ্ন ছেড়ে, যোগসূত্র ফেলে
পথগুলো কোথাও চলে যাচ্ছে বলে
অন্ধকারে কাতরাচ্ছেন পরমেশ্বর।
একটা ভয়ার্ত কণ্ঠ বাঁকা মনোযোগে
পাহাড় থেকে ফিসফিস করে:
পরমেশ্বর বসবেন না,
তার হাড় বেঁচে দিয়েছেন আমাদের কাছে।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×