somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের সেনাপ্রধানকে উৎসর্গকরে লেখা

০৩ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিচার বিভাগ এবং মিডিয়াকে ক্ষেপিয়ে এখন বেশ বিপাকে আছেন পাকিস্তানি সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ। স্বভাবতই সেনা নায়ক হওয়ার কারণে গণতন্ত্রের প্রতি তার আস্থা কম_ নিজের মানদণ্ড দিয়েই জনসমর্থন মাপতে ভালো বাসেন তিনি। গত বছর বিবিসিকে দেয়া এক সাাৎকারে মোশাররফ বলেছিলেন, এখনো তার জনসমর্থন তুঙ্গে। যেদিন তিনি জানবেন, তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন_ সেদিনই ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াবেন তিনি। এ সামরিক শাসক বিবিসিকে আরো বলেছিলেন, জনপ্রিয়তা হারালে জনগণই রাস্তায় নেমে আসবে এবং তাকে উৎখাত করবে।
মাস খানেক ধরে ইসলামাবাদ, লাহোর বা করাচির জনপথে আমরা সেই দৃশ্যই দেখছি। লন্ডন ও ওয়াশিংটনের স্নেহাসঙ্দ সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জনগণ প্রকাশ্যে মিছিল করছে। তবু মোশাররফের সরে দাঁড়ানোর কোনো লণ আমরা দেখছি না। 9 মার্চ প্রধান বিচারপতিকে বরখাস্তের মধ্য দিয়ে পকিস্তানে এ নতুন টানাপোড়েনের শুরু। প্রধান বিচারপতি ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীকে বরখাস্ত করার পরপরই আদালত অঙ্গণে প্রতিবাদ শুরু হলো। আইনজীবীরা ধর্মঘট, আদালত বর্জন ও রাজপথে বিােভ প্রদর্শন করতে শুরু করলেন। মোশাররফবিরোধী বিােভ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লো। সুশীল সমাজ এবং বিরোধী দলগুলো এ বিােভ সমর্থন করলে তা' যেন ফুঁসে উঠল। টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং লাঠি চার্জের মাধ্যমে পুলিশ এর প্রতিক্রিয়াও জানালো।
এবং এ দৃশ্য কাভার করতে গিয়ে সামরিক সরকারের তোপের মুখে পড়লো মিডিয়া। জিও টিভির অফিসে হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের মারধর করেছে পুলিশ। এ সময় অফিস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। আজ টিভির সমঙ্্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের রিপোর্টিংয়ের ওপর সরকারি কর্মকর্তাদের কড়া নজরদারি রয়েছে এখনো। দুর্বল গণতন্ত্রের উপজাত হিসেবে নির্গত স্বেচ্ছাচারিতার বিরোধিতার দোহাই দিয়ে 1999 সালের অক্টোবরে ক্ষমতা দখল করেন পারভেজ মোশাররফ। তার অসাধারণ কথাবার্তায় অনেক পাকিস্তানিই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন_ নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টোর নির্বাচিত সরকারের আমলে সংগঠিত দুর্নীতি, কুশাসন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ত্রাণকর্তা হিসেবেই ভেবেছিলেন মোশাররফকে।
ফের আশাভঙ্গ হলো পাকিস ানিদের। মোশাররফের আমলে ধনী ও গরিবের ব্যবধান আরো বাড়তে থাকলো। সব ধরনের রাষ্ট্রীয় মতা একে একে দখল করতে থাকলো ইউনিফর্মধারীরা। হরতাল, বিােভ থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের জন সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। বুশ-ব্লেয়ারের সঙ্গে সুসমঙ্র্কের কারণেই দেশে জনপ্রিয়তা হারালেও বহাল তবিয়তে আছেন এ স্বৈর শাসক। তবে বিচার ব্যবস্থা এবং মিডিয়ার ওপর এ নগ্ন হস্তক্ষেপ তাকে বেশ বেকায়দায় ফেলেছে। জনগণের আন্দোলন আরো তীব্রতর হচ্ছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি আরো জোরালো হচ্ছে। হয়তো একটি পরিছন্ন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তার রাজত্বের পতন ঘটবে।
(আজ গার্ডিয়ানে প্রকাশিত পাকিস্তানি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওমর ওয়ারাইচের লেখা অবলম্বনে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ টাকার গল্প

লিখেছেন এস আই জয়, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×