somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেরা উপায়ে যেভাবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেনা প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল মইন ইউ আহমেদ রাজনৈতিক ইসু নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেছেন। তাকে সমালোচনাসহ যে কোনো বিতর্কের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। প্রথমেই প্রশ্ন উঠছে, সেনা প্রধান থাকা অবস্থায় কেউ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে পারেন কি না? সেনা প্রধানের রাজনৈতিক মন্তব্যে এ প্রশ্নও উঠছে যে, সেনা প্রধান ও তার প্রতিষ্ঠান দেশের রাজনীতে অংশ নিতে যাচ্ছে কি না? আগামী সরকারের কাঠামো এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার মতার ভারসাম্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উসকে দেয়, এমন মন্তব্যও বেরিয়ে আসছে। জেনারেলের এ ভাষণকে আমরা কিভাবে দেখবো? একটা সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নাকি অনুমানভিত্তিক পাবলিক রিঅ্যাকশনের উদ্দেশ্যম লক আইডিয়ার বন্যা? এসব বিবেচনায় একটি প্রকাশ্য বিতর্ক শুরু হলো, যা তিনি শুরু করেছেন।
ঠিক এই মুহূর্তে দেশ, রাজনীতি, সরকার, রাজনৈতিক দলসমূহ এবং এ সমঙ্র্কিত গুরুত্বপূর্ণ ইসুতে ভবিষ্যত পথ দেখানো একটি নীতিনির্ধারণী বক্তব্যের তাগিদ অনুভব করছি আমরা। এ সব ইসুতো সামরিক মদদপুষ্ট এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কার এজেন্ডার অংশ। সেনা প্রধানের বক্তব্য আরো একটি প্রশ্ন উসকে দিয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদের মদদদানকারীদের থেকে আলাদা কিছু ভাবছে কি না? প্রথমবারের জন্য দেশের বাইরে এক সম্মেলনে যখন প্রধান উপদেষ্টা, তখন সেনা প্রধানের এ বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে দেয়। ভবিষ্যত সরকারের কাঠামো নিয়ে মৌলিক নীতিনির্ধারণী বক্তব্য যখন দেয়া হচ্ছে, তখন দৃশ্যপটে নেই তিনি_ তার এ বিহ্বলতা অনুভব করুন। এ পরিস্থিতিতে তিনি কতটুকু বিশ্বানযোগ্যতা অনুভব করতে পারছেন? এখন থেকে বিশ্ব নেতারা এবং মিডিয়া তাকে কিভাবে নেবে?
দৃশ্যের আড়ালে থেকে সোনবাহিনী এতোদিন যা কিছু করেছে, ভালোই করেছে। এ দৃশ্যপটও বদলে গেছে এখন। সমগ্র জাতি এবং বিশ্ববাসীকে সেনা প্রধান পরিষ্কার করে দিয়েছেন, কারা এ খেলা পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনী ও জাতীয় স্বার্থেই কি এটা প্রকাশিত হলো? এখন থেকে ভালো-মন্দ প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় সেনাবাহিনীর ওপরই বর্তাবে।
সেনাপ্রধানের 'নিজস্ব ব্রান্ডের গণতন্ত্র' প্রস্তাবের জবাবে আমার বলতে চাই, 1958 সালে আইউব খানও 'রেইনভেন্ট ডেমোক্রেসি একর্ডিং টু দ্য জিনিয়স অফ দ্য পিপল' প্রস্তাব নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন। তার 'বেসিক ডেমোক্রেসি'ও প্রত্যাখ্যান করেছিল জনগণ। এরপর গণতন ের নতুন সংজ্ঞা নিয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতায় এসেছিলেন জেনারেল জিয়াউল হক। তার সংজ্ঞাটি ছিল বেশ চাতুর্যপূর্ণ। যে গণতন্ত্রে সার্বভৌমত্ব মানুষের তাকে প্রত্যাখ্যান করে সার্বভৌমত্ব আল্লাহর বলে প্রচার করলেন জিয়াউল হক। ইচ্ছামতোই পাকিস্তান শাসন করতে পেরেছিলেন তিনি। এবং সে দেশের জন্য কি পরিমাণ অপূরণীয় তি তিনি করেছেন, তা' যে কোনো পাকিস্তানিকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর রাজনীতিতে দুর্ভাগ্যজনক অনুপ্রবেশ। এরপর জেলখানায় 4 জাতীয় নেতাকে হত্যা, জেনারেল জিয়ার মতা আহরণ, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের লজ্জাজনক দায়মুক্তি এবং ফের অভুত্থানে জিয়ার খুন হওয়া। এর কোনো কিছুই সেনাবাহিনীর কৃতিত্ব নয়। বরং এর ফলে বাহিনীটি আরো বিতর্কিত হয়ে পড়ে এবং রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপকে জনগণ খারাপ চোখে দেখতে শুরু করে।
আমরা স্মরণ করতে পারি, এরশাদের গণতন্ত্র প্রথমবারের মতো দুর্নীতিকে ব্যাপক ও ধ্বংসাত্দক আকার দিয়েছিল। তিনিই গণ দুর্নীতির অগ্রপথিক, যার অভিশাপ থেকে আমরা আজো মুক্তি পাইনি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতারা দুর্নীতি বন্ধ না করে উল্টো এর বিকাশ ঘটিয়েছেন। এটা ক্রমেই এতো অসহ্য হয়ে উঠছিল যে, শেষ পর্যন্ত তা' থেকে বাঁচার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়েছে।
জেনারেল এরশাদ যে বদনাম সেনাবাহিনীকে দিয়ে গিয়েছিলেন, তা ঘুচাতে 16 বছর (1991-2007) লেগেছে। একাগ্র পেশাদারিত্ব, ত্যাগ, শৃঙ্খলা এবং বিশেষ করে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে সেনাবাহিনী এ সুনাম অর্জন করে এবং জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের অবদান এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে বিশ্বব্যাপী সন্মান অর্জন করেছে সেনাবাহিনী। 1996-এ নিজ বাহিনীর সদস্যদের অভু্যত্থান দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় তাদের প্রতি জনগণের শ্রদ্ধা আরো বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ, দণি এশিয়া এমনকি গোটা পৃথিবীতে রাজনীতিতে সামরিক অনুপ্রবেশের অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। স্বল্পমেয়াদী কিছু লাভ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কোনো কাজ করে না। এককালে যাদের আইনের ঊধের্্ব ভাবা হতো তাদের গ্রেফতার, প্রয়োজনীয় সংস্কার, পরিচিত অপরাধী আটকের মতো দৃষ্টান্তমূলক অনেক নজিরই উপহার দিয়েছে জরুরি অবস্থা। সামরিক শাসনের মতো জরুরি অবস্থাও বেশি দিন টিকতে পারবে না।
এটা বারবারই দেখা গেছে, রাজনৈতিক সংস্কার ও রাজনীতিকদের কাছে মতা ফিরিয়ে দেয়াটাই একমাত্র সমাধান। এছাড়া কোনো পথ নেই। জনগণের অনুকূলে রাজনৈতিক সংস্কার, এর দ্রুত প্রয়োগ এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধির কাছে মতা হস্তান্তর করাটাই সর্বোত্তম পথ। এটাই স্থায়ী সমাধান। বিলম্ব বিপদ ডেকে আনতে পারে।
আমাদের জন্য মৌলিক সত্য হলো, আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কার চাচ্ছি, সেই গণতন্ত্রই চর্চা হবে, গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায়। লিংকনের ভাষায় আমাদের প্রয়োজন 'গভার্নমেন্ট অফ দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল এন্ড ফর দ্য পিপল'। পেশি শক্তি, কালো টাকার প্রভাব মুক্ত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল এ ধরনের একটি সরকার পেতে পারি আমরা। এটা নিশ্চিত করতেই জরুরি অবস্থা এসেছে। সেনাপ্রধান অবশ্যই জানেন, যে কোনো সামরিক মিশনে সর্বোচ্চ সফলতা নির্ভর করে বিষয়টির ফোকাসের ওপর। যদি ফোকাসের পরিধি বাড়ানো হয়, তাহলে অজ্ঞাত ফ্যাক্টর এবং লুকানো শত্রুরা গোটা অপারেশনকেই ঝঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাম্ভাব্য কম সময়ের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই জরুরি অবস্থার ফোকাসের বিষয়, যাতে করে সত্যিকারের নেতারা দেশ চালাতে পারে। অপরাধী, দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করাও জরুরি অবস্থার ল। পরিবারতন্ত্র ও একনায়ক দল থেকেও রাজনীতিতে মুক্ত করার প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার।
জরুরি অবস্থা ও সেনাবাহিনী জনসমর্থন পেয়েছে কারণ জনগণ দেখেছে, এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী যা করছে, ভালোই করছে এবং জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এখান থেকে কোনো বিচু্যতি, ফোকাসের পরিধি বাড়ানো বা দিক পরিবর্তন হলে জনগণও সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে। এর ফলে আমাদের স্বপ্ন-সৌধ ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে, ্আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত স্থায়ী ভাবে তিগ্রস্ত হতে পারে। প্রগতির অনেক সুযোগই হারিয়েছি আমরা। আরেকটি সুযোগ হারানোর মতো সামর্থ নেই আমাদের।
আমার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করি, আমাদের সেনাবাহিনী রাজনীতিতে জড়াবে না। অর্পিত দায়িত্ব পালন শেষে ব্যারাকে ফিরতে হবে তাদের। এটা তাদের আদর্শগত অবস্থান উন্নত হবে এবং জনগণের ভালোবাসাও বাড়বে। এ ভালোবাসা যে কোনো দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমাদের সেনাবাহিনী সে রকমই।
অতীতে দুটি রাজনৈতিক দল ও তাদের তোষামদরা আমাদের সমালোচনাকে শত্রুতা মনে করতো। যার ফলে সাহায্যের যে কোনো উদ্যোগকে দুর্বল বা ধ্বংস করার চেষ্টা করা হতো। আমাদের কথা নিরীা না করে বরং তা' বলার অপরাধে আমাদের নির্যাতনও সহ্য করতে হয়েছে। আশা করি পেশাদার, উচ্চ শিতি এবং বিশ্বব্যাপী এক্সপোজার পাওয়া সেনাবাহিনী আমাদের সাহায্যের উদ্যোগকে মূল্যায়ন করবে।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ টাকার গল্প

লিখেছেন এস আই জয়, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×