somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মামুনের স্বীকারোক্তিতে মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের দুর্নীতি

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রেফতারকৃত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন বিভিন্ন দুর্নীতির কথা স্বীকার করেছেন। তার স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ করেছে ইংরেজি সাপ্তাহিক প্রোব।
মামুন স্বীকার করেছেন, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা 2002-2003 সালে ভারত থেকে সিএনজিচালিত বাহন রফতানির জন্য নির্দিষ্ট কয়েকজনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ নিয়েছেন। এতে তার দুই ভাই বজলুল হুদা এবং কামরুল হুদাও জড়িত ছিল।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা 2001-2006 সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে সম্পদের মালিক হয়েছেন। যার মধ্যে ছিল বিভিন্ন কন্সট্রাকশন এবং ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বর্ধণের কাজ। যাত্রাবাড়ী ফাইওভারের জন্য অরিয়ন গ্রুপের কাছ থেকে তিনি 600-700 কোটি টাকা কমিশন হিসেবে নিয়েছেন।
টিএন্ডটি, বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোমঙ্ানি, টেলিটকের মাধ্যমে সাবেক ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিপুল অর্থ গ্রহন করেছেন। মামুন জানান, বিডিনিউজ ডট কমের আবু সাইদ খানের কাছে টিএন্ডটির লেনদেন সমঙ্র্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সচিব এবং সাবেক বিদু্যৎ সচিবসহ আরো অনেকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে মামুন জানিয়েছেন। এছাড়া বিদু্যৎ খাতে দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন এমপি রশিদুজ্জামান মিল্লাত, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলনসহ আরো অনেকে।
পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের সকল কন্ট্রাক্ট সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস ও তার কন্ট্রাক্টররা নিয়ন্ত্রণ করতেন। এছাড়া এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে কোনো জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে মির্জা আব্বাস কমিশন নিতেন।
সাবেক মন্ত্রী আকবর আলী খানের সহায়তায় তার ছেলে সায়মন খান এ মন্ত্রণালয়ের সব কন্ট্রাক্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন। পানি সমঙ্দ মন্ত্রণালয়ের সব কন্ট্রাক্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন মন্ত্রী হাফিজউদ্দিন ও তার ভাতিজা মার্শাল।
এমপি মোসাদ্দেক আলী ফালু গত 5 বছরে আইএফআইসি, সিটি ব্যাংক এবং ওয়ান ব্যংকের শেয়ার কিনেছেন যার মূল্য 300 কোটি টাকা। তিনি তার অবৈধ অর্থে করেছেন দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি ও আরটিভি।
মামুন আরো জানিয়েছেন, বিভিন্ন সুত্র থেকে দলের জন্য আসা টাকার দায়িত্বে ছিলেন হারিছ চৌধুরী। মালয়শিয়ায় তার একটি বিলাসবহুল ফ্যাট রয়েছে। তিনি এবং মোসাদ্দেক আলী ফালু সেখানে যৌথ ব্যবসাও আছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ফরিদ নামের এক ব্যাক্তি এসি ল্যন্ডকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে অধীনে আনার জন্য বিপুল পরিমাণের অর্থ গ্রহণ করেছেন। মামুন আরো জানিয়েছেন, এমপি সেলিম ওরফে সিলভার সেলিম হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ফালু, হারিস চৌধুরীসহ অনেকেরই অবৈধ টাকা মালয়শিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্য দেশে পাচার করেছেন।
আলী আসগর লবি হাওয়া ভবনের লোক হিসেবে পরিচিত। হুন্ডি ও আদম ব্যবসা করে বৈধ অর্থ করেছেন। শুধু নিজের টাকাই নয়, মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং হারিস চৌধুরীর টাকাও মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করেছেন আলী আসগর লবি। ওয়ারিদ কোমঙ্ানির সঙ্গে বিজনেস ডিলে আয় করেছেন 5 মিলিয়ন ডলার।
অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের অসাধু ব্যবসায়ীদের থেকে অর্থ নিয়েছেন ভুয়া এলসি পাশ করানোর জন্য এত তাকে সহায়তা করেছেন বন্দরের কিছু কর্মকর্তা।
মামুন আরো জানিয়েছেন, 2005-2006 সালে যখন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছিলেন তখন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বিপুল অংকের কালো টাকা সাদা করেন। এেেত্র প্রথম সারির দশজনের মধ্যে ছিলেন তিনি। স্বয়ং তারেক রহমান এ ব্যাপারটিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের দুর্নীতি নিয়েও মুখ খুলেছেন মামুন। তিনি জানান, 1996 থেকে 2001 সালে মোহাম্মদ নাসিম স্বরাষ্ট্র এবং টেলি যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। পুলিশ বিভাগে নিয়োগ ও বদলির জন্য তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন। এেেত্র তার স্ত্রী জড়িত ছিলেন। 2000/2001 সালে টিএন্ডটি খাতে তিনি 1200 কোটি টাকা অবৈধভাবে নিয়েছেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের ছেলে একটি হত্যা মামলায় জড়িয়ে পড়লে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এগিয়ে আসেন। পরে বসুন্ধরা গ্রুপ দৈনিক যায়যায়দিনের জন্য টাকা, এনটিভি ও চ্যানেল ওয়ানেও লগি্ন করে।
মামুন আরো জানিয়েছেন, ওরিয়ন গ্রুপের ওবায়দুল করিম তারেক রহমানের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল মোসাদ্দেক আলী ফালু, হারিস চৌধুরী এবং অর্থ ন্ত্রী সাইফুর রহমানের পরিবারের। এ এভাবেই তিনি কন্ট্রাক্ট পেয়েছেন যাত্রাবাড়ি ফাইওভারের, মেঘনাঘাট 450 মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্টের, মতিঝিলে বহুতল বিল্ডিং এবং হোটেল সেনারগাওয়ের বর্ধিতাংশের। পরবর্তীতে তিনি দৈনিক আমার দেশের পুরো লগি্ন করেন। তিনি চ্যানেল ওয়ানেও লগি্ন করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ টাকার গল্প

লিখেছেন এস আই জয়, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×