somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তি, যা আসলে প্রাচীন আমলে আবিষ্কারঃ

১০ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান যুগের অনেক আবিস্কার রয়েছে যার কারনে আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে কৃতজ্ঞ কিন্তু আমরা কি জানি ? এই সকল আবিস্কার প্রাচীনযুগের মানুষ একসময় ব্যহার করতো ? প্রাচীন যুগের মানুষ কতোটা উন্নত ছিলো তার ছোট্ট একটি ধারনা পাওয়া যাবে আমার এই পোস্টে। খুব বেশি সময় নস্ট না করে চলুন দেখে নেয়া যাক প্রাচীন আমলের সেই সকল আবিস্কারগুলোকে।

আগুন ছোড়া যন্ত্র বা ফ্লেম থ্রোয়ারঃ
এটি একটি সমরাস্র যা আবিষ্কার হয় ১৯০১ সালে । প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এই অস্রের ব্যবহার শুরু হয়। এটি একটি পেট্রোলিয়াম শক্তির অস্র। যন্ত্রের ভেতরে পেট্রোলিয়াম দাহ্য পদার্থ থাকে। শত্রুর দিকে অস্রটি প্রয়োগ করলে যন্ত্র হতে আগুন ছুটে গিয়ে শত্রুকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে এই অস্র এখনও ব্যবহার হয়ে থাকে।



এবার আসি প্রাচীন আমলের আগুনছোড়া যন্ত্র বিষয়ক তথ্যে, প্রায় ৩০০ বছরও বেশি সময় আগে বাইজেন্টিয়ান জাতী তাদের যুদ্ধ জাহাজগুলোতে এই একই ধরনের আগুন ছোড়া যন্ত্র ব্যবহার করতো। শত্রু পক্ষ্যের জাহাজের নির্দিস্ট কাছে গিয়ে এই যন্ত্র প্রয়োগ করে শত্রু পক্ষ্যের জাহাজ পুড়িয়ে দিতো । আর সে আমলে জাহাজ বলতেই কাঠের জাহাজ , অতএব বুঝতে বাকি থাকে না যে অস্রটি বেশ কার্জকরি ছিলো সে আমলে। তবে সেই আগুন ছোড়া যন্ত্র প্রস্তুত করতে কি কি উপাদান ব্যবহার করা হতো তা আজও অনাবিষ্কৃত।


এলার্ম ঘড়িঃ

১৭৮৭ সালে স্যার লেভি হ্যাচেন্স ঘড়িতে এলার্মিং প্রযুক্তি সংযুক্ত করেন। একটি নির্দিস্ট সময়ে তার সংযুক্ত এলার্মিং সিস্টেম ঘন্টাধ্বনী বাজিয়ে মানুষকে এলার্ট করে দিতো ।



মজার ব্যাপার হলো ৪৪০ বিসিতে গ্রিক ফিলোসফার প্লেটো , তিনি নিজেই এলার্ম ঘড়ি ব্যবহার করতেন । তথ্য উপাত্তে জানা যায় ।বেশ কিছু পাত্র পানিতে পুর্ন করে দিয়ে বিভিন্ন একটি কৌশল ব্যবহার করতেন , কিছূ সময় পর পর পানির পাত্রসমুহে পানির স্তর পরিবর্তন হয়ে যেতো আর পানির চাপ সৃস্টির কারনে একটি হুইসেল বেজে উঠতো ।

ভুমিকম্প অনুভব যন্ত্রঃ

ইতালিয়ান বিজ্ঞানী স্যার ফিলিপো সেচি ১৮৭৫ সারে ভুমিকম্প অনুভব যন্ত্র আবিস্কার করেন। যার আধুনিক সংস্করন ব্যবহার করে আমরা ভুমিকম্প বিষয়ক আরও অনেক তথ্য জানতে পারছি ।



আর প্রায় ২০০০ বছর আগে বর্তমান চিনের স্যার জাংহেং নামক একজন ইনভেন্টর ভুমিকম্প মাপক বা অনুভবক যন্ত্র প্রস্তুত করতে সফল হয়েছিলেন। স্যার জাংহেং এর যন্ত্রটি ছিলো ব্রোঞ্জের তৈরী। যখনই কম্পন অনুভব হতো তখনই ব্রোঞ্জের তৈরী এই যন্ত্র হতে একটি গোলাকার বল গড়িয়ে বের হয়ে আসতো।

স্বয়ংক্রীয় দড়জাঃ



বর্তমানে এই দড়জা ঢাকার অনেক শপিংমলে দেখা যায়। দড়জার সামনে উপস্থিত হওয়া মাত্রই নিজে নিজে দড়জা খুলে যায় আবার দড়জা দিয়ে প্রবেশ করা হয়ে গেলে দড়জা বন্ধ হয়ে যায় নিজে নিজে । ১৯৫৪ সালে আমেরিকায় প্রথম স্বয়ংক্রী দড়জার আবিস্কার হয় ।

এবার আসুন দেখি প্রাচীন আমলের স্বয়ংক্রীয় দড়জার তথ্য, ৫০ বিসিতে কিং আলেকজান্ডার এই ধরনের স্বয়ংক্রীয় দড়জা প্রস্তুত করান। সাধারনত মন্দির বা গুরুত্বপুর্ন ভবন সমুহে প্রবেশ করার জন্য এই দড়জা প্রস্তুত করা হতো । পানির চাপ ও লোহার চেইন ভাড়ি পাথর ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো , আর দড়জার সামনে এক পাপোস ধরনের পাথরের টুকরোকে সেন্সর হিসেবে ব্যবহার করা হতো । এটার উপর মানুষ এসে দাড়ালেই যন্ত্র তার কাজ করা শুরু করে দিতো ।




তথ্যসুত্রঃ
১. Ancient Inventions
লেখকঃ স্যার জে থর্প
২. উইকি পিডিয়া
৩. ছবি গুগল থেকে ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:১০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×