somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন নাম "সুমেরিয়ান" (দুই পর্বের প্রথম পর্ব)

২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র চোখ বোলালে দুটি বড় নদী দেখতে পাবে - ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস। দুটো নদীর উৎপত্তিই তুরস্ক থেকে, এক সঙ্গে দক্ষিনপূর্ব হয়ে ইরাকের দিকে বয়ে চলেছে। কুরনায় এসে এরা এক হয়ে মিশে যে নদীর সৃষ্টি করেছে তার নাম শাত-আল-আরব।



দুই নদীর নিম্ন প্রান্তের মাঝখানে সমভুমি এক সময় পরিচিতি ছিল মেসোপটেমিয়া নামে। এটি গ্রীক শব্দ। অর্থ "দুই নদীর মাঝখানে"। এ অঞ্চলটি খুবই উর্বর। এখানে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে কালো শরীরের ভারতীয়রা এসে আস্তানা গড়েছিল। নিজেদেরকে তারা পরিচয় দিত "কালো মাথার মানুষ" বা সুমেরের লোক বলে। এদেরকে আমরা বলব সুমেরিয়ান বা সুমের। পৃথিবীতে তারাই প্রথম সভ্য মানুষ বলে বিবেচিত। এরা লেখার আকৃতিতে কিছু রেকর্ড রেখে গেছে।





সুমেরিয়ানরা সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ বছরেরও আগে মেসোপটেমিয়ার সমভুতিতে আসতে শুরু করে। এরা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে জানতো, নানা ব্যবহারিক যন্ত্রপাতি তৈরিও করেছে। তারা ছিল ছিল দক্ষ কৃষক, মেসোপটেমিয়ার উর্বর মাটিতে দক্ষতার সাথে চাষাবাদ করত। খুব দ্রুতই তারা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত দিয়ে তাদের অদক্ষ প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু করে।







সুমেরিয়রা চাষাবাদের পাশাপাশি দালান-কোঠা নির্মাণেও ছিল পটু। মেসোপটেমিয়ায় দালান তৈরি করার জন্য প্রাকৃতিক পাথর এবং কাঠের অভাব ছিল যথেষ্ট। তখন তারা নদীর তীর থেকে মাটি তুলে এনে ব্লক করে তা সূর্যের তাপে শুকিয়ে ইট বানিয়ে শুরুতে তারা দুই/তিন কক্ষ বিশিষ্ট ঘর বানাত। পরে সমৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তারা বড় বড় বাড়ি নির্মাণ শুরু করে। কোন কোন বাড়ি ছিল দোতলা, শান বাধানো উঠানের ঐ বাড়িতে ছোট ছোট ঘর থাকত। শিগ্রি তারা আবিস্কার করে কিছু দূরের বসতিতে প্রাকৃতিক পাথর পাওয়া যায়। তখন উদ্বৃত্ত ফসলের বিনিময় পাথর আনা শুরু করে সুমেরিয়ানরা। তাদের বড় বড় অনেক দালানকোঠাই ছিল ইট পাথরের তৈরি।







কিছুদিনের মধ্যে সুমেররা কুমোরের চাক আবিস্কার করে ফেলে, ফলে এর সাহায্যে নিত্য প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র যেমন বাটি, গামলা, প্লেট, কাপ, জগ ইত্যাদি তৈরি করা সহজ হয়ে যায়। তারা তৈজসপত্র যেমন চমৎকার ডিজাইন করত, আকারেও থাকত বৈচিত্র্য। তারা জানতো কিভাবে ভাস্কর্য তৈরি করা যায়। তামা, ব্রোঞ্জ ও সোনার ব্যাবহারও তাদের অজানা ছিল না।



সুমেরিয়ানরা নলখাগড়া দিয়ে ছোট ছোট নৌকা বানাত, ছই থাকত পশুর চামড়ার। এ ধরণের নৌকা তৈরি তাদের উন্নয়নের প্রমান তুলে ধরে, নৌকা চড়ে তারা টাইগ্রিসের এক তীর থেকে অপর তীরে যেত কিংবা ইউফ্রেটিসের এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াত। এভাবে প্রতিবেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলত। অন্যভাবে বলা যায় সুমেরিয়ানরা যোগাযোগের নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করে যা ছিল সভ্যতার বিরাট একটি ধাপ। ছোট ছোট উপনিবেশগুলো সাথে যোগাযোগের ফলে পরবর্তীতে বড় বড় শহরের সৃষ্টি হয়। আর সুমেরদের এই নগরকেন্দ্রিক অংশগ্রহন ছিল সুবিশাল। এ সময়কালের শুরু প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ বছর আগে, এর ব্যাপ্তি ছিল প্রায় দেড় হাজার বছর।

গত কয়েক শতকে নৃতত্ত্ববিদরা মেসোপটেমিয়ায় খোঁড়াখুঁড়ি করে দারুন সব জিনিস আবিষ্কার করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল উর নামে একটি সুমেরিয়ান শহরের ধ্বংসাবশেষ। অন্যান্য শহর যেমন ইরেক, ফিশ, ইরিদু ও লাগাশ- এর কাহিনী বয়ান করলেই সুমেরিয়ান ইতিহাস সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারনা মিলবে। পরবর্তী পর্বে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে


তথ্যসুত্রঃ হিস্ট্রি অব দ্য ওয়ার্ল্ড - সামারসেট ফ্রাই

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ১২:৪৮
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতিতে ফেরার টিকিট কি এবার ক্রেমলিনে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১০


বিশ্বজুড়ে থরথর কম্পন শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন মুল্লুক থেকে মহাখালী, সবাই আজ বাকরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে, অর্থাৎ ভারতীয় কয়েকটি বেনামী ফেসবুক পেজ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষের কবিতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ২০২৬ সালের এক কল্পিত নতুন সংস্করণ)

অমিত রায় সম্পর্কে তার বন্ধু সহিস বলত, "অমিতের বুদ্ধির আলোটা সূর্যের মতো সবাইকে আলো দিতে আসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×