
নিউজফিডে সিরিয়া, প্যালেস্টাইনের মানুষদের দুর্ভোগ দেখে অনেক কষ্ট লাগে। যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র মানবতাবোধ আছে, তাদের একটু হলেও চোখে পানি এসেছে তাদের অবস্থা দেখে। কিন্তু নিউজফিডে কষ্ট যেমন লেগেছে, অনেকে যারা শেয়ার করেছে তাদের ক্যাপশন দেখে আরও বিরক্ত লেগেছে। মানুষের পক্ষপাতগ্রস্থ মানবতাবোধ আসলেই বিরক্তিকর। বাঙালির হিপোক্রেসির আসলেই অতুলনীয়
সিরিয়ার শরণার্থীদের মধ্যে একটা অংশ অমুসলিমও আছে। তাঁরাও পদে পদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারি জমিয়েছে ইউরোপে। কিন্তু আবেগি বাঙালি সেই বড় বড় ঢেউয়ের উপর চলা নৌযানে ধর্মের পতাকাই দেখছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যখন এদের গ্রহণ করলো না তখন কারো স্ট্যাটাসে ক্ষোভ দেখলাম না। তাঁরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘৃণা করে তার দেয়ালনীতির জন্য। আর ওইদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যে স্বজাতি ট্রাম্পে ভরা সেটা কারো চোখে পরে না। ইউরোপের মানুষ যখন এসব মানুষদের গ্রহণ করলো তখনও সবাই চুপ, মনে মনে ভাবছে নিশ্চয়ই কোন গভীর উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু আইএস কে বানিয়েছে, বাগদাদি আসলে কে সেই কন্সপিরেসি থিউরিগুলো গুদাম ভরে ভরে শেয়ার হয়। এই শরণার্থীদের যে খাদ্য যোগান করা, থাকার ক্যাম্প, প্রয়োজনীয় অনেক কিছুর আসে বিশ্ববাসির ডোনেশন থেকে। সর্বনিম্ন ৫ ডলারও তো দেয়া যায়, নেটে হায় হায় না করে। লিস্টে ইন্দোনেশিয়ান,মার্কিন, ব্রাজিলিয়ান, জাপানিস দেখলাম; বাঙালি আর একটাও পেলাম না।

আমরা বাকস্বাধীনতা নিয়ে কথা বলি। ক্লাসে একদিন স্যার বলেছিল অনলাইনে নিজেদের মত প্রকাশ নিয়ে; সবাই ভিত। কারণ দেশে বাকস্বাধীনতা নেই। একটু উলটাপাল্টা কিছু বললেই সমস্যা। আর সেই আমরাই এমন দেশগুলোর নীতিকে সাপোর্ট করছি যেখানে এই শব্দটাও মনে হয় অভিধানে নেই। আমেরিকার উপর মানুষ ক্ষ্যাপা বলে রাশিয়া সাপোর্ট করে, এই রাশিয়াতে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছে শুধুমাত্র ভিন্নমতের জন্য।


আমেরিকা বলি রাশিয়া বলি সবাই নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য যেকোন পন্থায় যেতে পারে। প্রয়োজনে মানবঅধিকারকে জুতো দিয়ে পিষে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ নেতারা যে নীতি অনুসরণ করে তাঁরাও যদি ওয়ার্ল্ড ডমিনেশনে থাকতো এটার বিপরীত হত না। কিন্তু "জাত ভাই খুনি তবে সাত খুন মাফ"। এরা যে সময়ে সময়ে ক্ষমতার নামে চাটুকায় হয়েছে, ধর্মকে অপব্যবহার করে গদিতে বসেছে, সময়ে সময়ে নিপীড়ন চালিয়েছে নিজের মানুষের উপর এইসব জিনিস ইতিহাস, রাজনীতি জেনে পরখ করার মত সময় আমাদের হাতে নেই।

আমাদের বিচারবুদ্ধি এতই সীমিত যে আমরা পক্ষ নেয়ার সময় A or B তে আটকে থাকি। B আমার জানের জান, তাই A কে নফরত করি। কোন পক্ষে না গিয়ে কিভাবে সমাধানে আসা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করাটা তো অস্বাভাবিক, বিপদজনক, শাস্তিযোগ্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
