somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিজেল, স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতি আর হাইড্রোজেন

০৭ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বেশি দামে জ্বালানী তেল কেনা প্রথম সাড়ির দেশগুলোর একটা আমাদের বাংলাদেশ। তাও পরিবহনখাতে বাংলাদেশে বিকল্প শক্তির অবকাঠামো তৈরি করা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন মেগাপ্রজেক্ট নাই।

অনেক দেশেই এখন (জীবাশ্ম) জ্বালানী খাতগুলো কৃত্তিমভাবে টিকিয়ে রেখেছে সরকারি প্রণোদনা। তার উপর গ্লোবাল ওয়ার্মিং ইস্যুর কারণে উন্নত দেশগুলো চাপে থাকে। মানে হচ্ছে ভবিষ্যতে তেলের দাম বাড়তেই থাকবে এটা অনিবার্য।

পরিবেশরক্ষা, নৈতিকতা এইসবকে সাইডে রেখে আমি এখন শুধু বলব একটা " স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতি" র জন্য আমাদের কি দরকার?
এখন সমাধান হিসেবে অনেকে ব্যাটারির কথা বলতে পারেন। কিন্তু স্বয়ংসম্পূর্ণ এনার্জি ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেব করলে জীবাশ্ম জ্বালানী আর ব্যাটারির মধ্যে মোটাদাগে কোন পার্থক্য নাই।

কেন?

যেকোন জীবাশ্ম জ্বালানী ক্রুড বা অপরিশুদ্ধ হিসেবে থাকে অন্য কোন দেশে। আমাদের কপাল খারাপ এইসব প্রাকৃতিক সম্পদ কিছুই নাই। যা গ্যাস আছে তা কয়েক দশকের মধ্যে ফুঁড়িয়ে যাবে। পরিশোধন বা রিফাইনারিতেও যদি ভাল হতাম তাহলে কমপক্ষে তেলের বাজারে একটা পাওয়ার থাকতো আমাদের; তাও নাই

ব্যাটারির লিথিয়াম আসে দক্ষিন আমেরিকার লিথিয়াম ট্রাইয়েঙ্গেন (বলিভিয়া, চিলি, আর্জেন্টিনা) থেকে। গ্রাফাইন, নিকেল, কোবাল্ট আসে আফ্রিকার খুবই সেন্সেটিভ জায়গা থেকে। বিশ্বের এনার্জি ইকোসিস্টেম নতুন স্ট্যান্ডার্ড পাইতে পাইতে এইসব "নতুন তেল" হয়ে যাবে। উন্নত ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলো যেভাবে পারে ভক্ষণ শুরু করবে। আমাগো এখানে ভাত নাই।

ব্যাটারির উপর আমাদের পরিবহনঘাত দাড়ায় গেলে ২০৪০/৫০ সালে একই অবস্থা হবে যা আজকে ডিজেলের জন্য হচ্ছে।
তাহলে উপায়?

এমন কিছু যা সঠিক পদ্ধতি জানলে আপনি নিজের ঘরেই বানাতে পারবেন। ঘরের উপাদান দিয়েই বানাতে পারবেন। এমন কিছু যা ব্যাটারির থেকে বেশি এনার্জি ডেন্স তো বটেই, জেট পেট্রোল (যা দিয়ে প্লেন চলে) তার থেকেও শতগুন বেশি এনার্জি দিতে পারে। এমন কিছু যা একবার গাড়িতে ঢুকালে এক মাস জ্বালানী নিয়ে আর চিন্তা করা লাগবে না।

এর নাম হচ্ছে হাইড্রোজেন ফিউল। ইলেক্ট্রসিস এর মাধ্যমে পানি থেকেই সম্ভব এই জ্বালানী তৈরি করা। গাড়িতে দিলে পাইপ দিয়ে কালো ধুয়া না বরং পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি বের হবে। ব্যাটারি গাড়ির মত চার্জ হওয়ার জন্য অপেক্ষা না, বরং একবার ফিউল নাও এক মাস চালাও।

আমরা একটা হাইড্রজেন ইকোনমি হলে তেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ুক বা ১৫০০; সমস্যা নাই। আমাদের "তেল" আমরা নিজেরাই বানাতে পারব। বিশ্ব রাজনীতির কাবাডিতে আমাদের মাথা ঘামায় লাভ নাই, টাইমও নাই।

হাইড্রোজেন এর বেশ কিছু লিমিটেশন ছিল। খুব এনার্জি ডেন্স হওয়ায় এটা আক্ষরিকভাবে বোমা বলা যায়। একই লিমিটেশন ডিজেলেরও ছিল। এখন কেউ কি ডিজেল গাড়ি সামনে দিয়ে গেলে ব্লাস্ট হবার ভয়ে আত্না কেপে উঠে? হাইড্রজেনেও সেই নিরাপত্তা আছে। শক্তির চাহিদা বাড়লে শক্তির উৎসের ডেন্সিটি বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। নাহলে এখনো আমরা শুকনা কাঠ দিয়েই রান্না করতাম। আমাদের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।

জাপান ইতোমধ্যেই সংকল্প করেছে নিজেদের হাইড্রোজেন সোসাইটি বানানোর। তাদের হাইড্রোজেন গাড়ি, বাস, ট্রাক সবই আছে। আমাদের মত ওয়েল প্রাইস-সেন্সিটিভ দেশের জন্য হাইড্রোজেন আশীর্বাদ হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ৮:০৮
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিদায় বন্ধু

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ইফতার করে আজ সন্ধ্যের দিকে একটু হাটতে আর চা খেতে বের হয়েছিলাম। বিগত কয়েকদিনের মতোই গিয়ে দেখি চায়ের রেস্টুরেন্ট আজও বন্ধ। উপায় না দেখে ছোট একটা দোকান থেকে মেশিনে তৈরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১২

ডার্ক ওয়েব সংবাদ : অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সত্যতা কতটুকু ?
সাধারণ মানুষ জানতে চায় !




বাংলাদেশ কি বিক্রি হচ্ছে ডা*র্ক ওয়েবে ?
Redlineinvestigation নামে ডা*র্ক ওয়েবের কেবল ফাইলে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ফাঁস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×