somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি "মুক্তিযোদ্ধার সন্তান" সে সার্টিফিকেট দেবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর !!!

২১ শে মে, ২০১১ রাত ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা প্রায়সই পত্রপত্রিকায় দেখে থাকি মুক্তিযোদ্ধারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা যথাযথ সম্মান পাচ্ছে না। জাতীর এই বীরদেরকে এই পড়ন্ত বেলায় একটু সচ্ছলতার সাথে সমাজে টিকে থাকার জন্য সরকার কিছুকিছু অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ভাতা দিচ্ছেন। আবার যারা শিক্ষিত তাদেরকে চাকুরী মেয়াদ বৃদ্ধি বা চাকুরী প্রদানের মাধ্যমে বা অন্য কোনভাবে কিছুটা হলেও সম্মান প্রদানের চেষ্টা করছে। আবার যাদের সন্তানরা চাকুরীর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেছে তাদেরকে সরকারী, আধা সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্টানে কোটা ভিত্তিক প্রতিযোগীতার মাধ্যমে নিয়োগ দিচ্ছে। কারন তাদের সন্তানরা সচ্ছল হলে মুক্তিযোদ্ধারাও সচ্ছলতা পাবে।

তত্বাবধায়ক সরকারের সময় পিএসসির চ্যেয়ারম্যান এর মদদে সুবিধাগুলো রদ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবং তখন অনেক ব্যক্তিবর্গ এটা নিয়ে সমালোচনা করতে যেয়ে, মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক কটাক্ষ করেছিলেন। বর্তমান সরকার তার সীমীত সম্পদ থেকেই জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিতে চেষ্টা করছে। যা অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সরকারী বা স্বায়ত্বশাসীত বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগ বিজ্ঞাপনে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে প্রমানের জন্য বিভিন্ন সনদ চেয়ে থাকে। যেমন :

১. বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সীল এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান উপদেষ্টা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান কতৃক স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা পিতা/মাতার সনদের সত্যায়িত কপি।
২. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কতৃক প্রদত্ত এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব কতৃক স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা পিতা/মাতার সনদের সত্যায়িত কপি।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ইদানিং কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এটা প্রমানের জন্য -
ইউনিয়ন পরিষদ - এর চেয়ারম্যান অথবা
পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অথবা
ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর নিকট থেকে প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এই মর্মে প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করতে হবে ।

নিম্নে এরূপ দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তুলে ধরছি-

প্রথমটি ৫ জানুয়ারি ২০১১ দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত পেট্রোবাংলার "নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি":


বিজ্ঞপ্তিটির শর্তাবলীর ৬ নং ক্লজে লেখা রয়েছে-
"৬। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে চাকুরীপ্রার্থীর পিতা/মাতা মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পত্র সংখ্যা ০৩.০৭৭.০১.০৪৬.০০.০৪.২০১০-৩৫৬ তারিখ ৭.১১.২০১০ মোতাবেক যাদের নাম মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত হয়েছিল; অথবা যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরযুক্ত সনদপত্র(Certificate) গ্রহণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রমানক হিসেবে উহার সত্যায়িত কপি এবং চাকুরিপ্রার্ধী মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এ মর্মে ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান বা পৌরসভা /সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা ওয়ার্ড কাউনিসলর কতৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।"

সত্যয়িত কপিও নয়, অর্থাৎ প্রতিটি আবেদন করার সময়ই (সরকারী চাকুরির প্রথম বা এক-দুটো আবেদনেই সফল হতে পেরেছেন এমন সৌভাগ্যবান খুবই নগন্য) কাউন্সিলরের কাছে নিজের চৌদ্দগুষ্টির বয়ান এর সহিত তৈল মর্দন করিতে হইবে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য।

দ্বিতীয়টি হিসাব মহা নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অয়েব সাইট থেকে নেয়া, ১০.০৪.২০১১ প্রকাশিতঃ



বিজ্ঞপ্তিটির শর্তাবরীর ২(ঝ) নং ক্লজে লেখা রয়েছে-
মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র/কণ্যা হিসেবে চাকুরিপ্রার্থীকে আবেদন পত্রের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিতা মাতার মুক্তিযোদ্ধার সনদ (উপযুক্ত কতৃপক্ষ কতৃক স্বাক্ষরিত ও প্রতিস্বাক্ষরিত) এর সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে। একই সাথে আবেদনকারীকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এই মর্মে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কাউনিসলর কতৃক প্রদত্ত সনদের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে।

প্রাথী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তা সার্টিফাই করবে স্থানীয় পর্যায়ের একজন জনপ্রতিনিধি।
যে বা যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে প্রয়সই অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী হিসেবে,
যাদের বিরূদ্ধে প্রায়সই অভিযোগ ওঠে গম চুরির,
যাদের কিছু অংশের বিরূদ্ধে অভিযোগ ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পত্তির অবৈধ দখলের,
যাদের অনেকে মুক্তিযুদ্ধই দেখেনি,
যাদের অনেকে বা তাদের পিতা বা পিতামহের বিরূদ্ধে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ
অথবা রাজাকারী বা দালালীর অভিযোগ।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত বিব্রতকর ও অযোক্তিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে । মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ দেখার দায়িত্ব যে মন্ত্রণালয়ের, এ ব্যপারে সে মন্ত্রণালয়ের সুবিবেচিত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রহণের অনুরোধ করছি।

প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিনা সে ব্যপারে প্রত্যয়ন করার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের স্থানীয় কমান্ডারদের।
আথবা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সীল প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রও কর্যকর করা যেতে পারে।
অথবা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়এ পিতার মুক্তিযুদ্ধের সনদ ও সন্তানের নাগরিক্ত বা জন্ম সনদ/এসএসসি/জাতীয় পরিচয় পত্র এর মাধ্যমে
পিতা-সন্তান সম্পর্ক যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রত্যয়ন প্রত্র/সার্টিফিকেট দেয়া যেতে পারে।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাতছানি

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২২

বাঁশবনের উপরে গোধূলীর আকাশে
কি'যে অপরুপ লাগে একফালি চাঁদ,
কাশবনের দুধারে মৃদুমন্দ বাতাসে
ঢেউ খেলে যায় সেথা জোৎস্নার ফাঁদ-
আহা..., কী অপরুপ সেই 'বাঁশফালি চাঁদ' ।

পাখিদের নীড়ে ফেরা কল-কাকলীতে
শিউলী-কামিনী যেথা ছড়ায় সুবাস,
আজানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিচ্ছু চাই না আমি, আজীবন ভালোবাসা ছাড়া!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৫১



অতি তুচ্ছ বিষয় গুলোতে আমি আনন্দ পাই।
পথে ঘাটের সব রকম দৃশ্য আমি উপভোগ করি। পথে হেটে যাচ্ছি, একসাথে অনেক গুলো কাক কা কা করতে করতে উড়ে গেলো! এটা দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×