somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর দাঁড়িয়ে এভাবে বলতে বাধ্য হতেন না- “আমরা জুলাই যোদ্ধা না”, “আমরা গণভবনে যাই নাই”, “আমরা চুরি করি নাই”।

এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষের ভেতর এখন একটা বড় ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। কারণ মানুষ দেখেছে- আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ গণভবনে ঢুকে লুটপাট করেছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, নিজেদের নায়ক বানানোর চেষ্টা করেছে। আর সেই কারণেই আজ “জুলাই যোদ্ধা” পরিচয়টি গর্বের বদলে অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কারিনার পরিবার খুব ভালো করেই বুঝেছে, জনগণের ক্ষোভটা কোথায়। তাই তারা দ্রুত নিজেদের আলাদা করতে চেয়েছে। তারা বুঝেছে- সাধারণ মানুষ এখন আর গণভবন লুটেরাদের পাশে নেই। বরং মানুষ তাদের ঘৃণা করতে শুরু করেছে। এই জনরোষই তাদের এমন ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করেছে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— এই প্রতিক্রিয়া কোনো একটি দলের একক প্রচারণা না; এটা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থান। কারণ সাধারণ মানুষ চুরি, লুটপাট, বিশৃঙ্খলা কিংবা সুযোগসন্ধানী রাজনীতি কখনোই ভালো চোখে দেখে না। আন্দোলনের নামে যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে চায়, জনগণ শেষ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাখ্যানই করে।

আজকে যারা নিজেদের রক্ষার জন্য বলতে বাধ্য হচ্ছে- “আমরা জুলাই যোদ্ধা না”, তার মানে তারা নিজেরাও বুঝে গেছে এই পরিচয় এখন মানুষের কাছে সম্মানের নয়, বরং বিতর্কের। আর গণভবনে যারা চুরি করেছে, তাদের প্রতি মানুষের ঘৃণা দিন দিন আরও বাড়বে। কারণ জনগণ কখনোই লুটেরাদের আপন করে নেয় না।

তবে একটা বিষয় স্পষ্ট- শুধু রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী মানসিকতার মানুষ ছাড়া দেশের সাধারণ জনগণ কখনো চুরি, সহিংসতা আর রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটকে সমর্থন করে না। রাজাকার ছাড়া বাকি জনগণ সবসময় দেশের পক্ষে থাকে, বিশৃঙ্খলার পক্ষে নয়। আর এই জনমতই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় বার্তা।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:২৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কথা বলার ইসলামী রীতি

লিখেছেন আবু সিদ, ১৭ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩

১. কথার গুরুত্ব ও প্রভাব

কথা নিরপেক্ষ নয়। প্রতিটি শব্দ মানুষের মনে আবেগ ও চিন্তার জন্ম দেয়। ভালো কথা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, সাহস যোগায় এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়। অন্যদিকে খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারিনা কায়সারের মৃত্যু, সোশাল মিডিয়া ও কিছু কথা

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



কারিনা কায়সারের মৃত্যু দুঃখজনক। কষ্ট পেয়েছি। তার দাদি দাবার জীবন্ত কিংবদন্তি রানি হামিদ সকলের পরিচিত। বহুবার টুর্নামেন্ট খেলতে দেখেছি। অমায়িক মানুষ। কারিনার বাবা কায়সার হামিদও স্বনামধন্য ফুটবলার। মোহামেডান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক টুকরা স্মৃতি!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ১৭ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৪

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ড। রাত ১১ টা। ইভিনিং এ ১২ বছর বয়সের মেয়ে ভর্তি হয়েছে। ইন্টেস্টিনাল টিবি’র কেস। বাচ্চাটা থেকে থেকেই চিৎকার করছে, আংকেল আমার ব্যাথাটা কমিয়ে দেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাতছানি

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২২

বাঁশবনের উপরে গোধুলীর আকাশে
কি'যে অপরুপ লাগে একফালি চাঁদ,
কাশবনের দুধারে মৃদুমন্দ বাতাসে
ঢেউ খেলে যায় সেথা জোৎস্নার ফাঁদ-
আহা..., কী অপরুপ সেই 'বাঁশফালি চাঁদ' ।

পাখিদের নীড়ে ফেরা কল-কাকলীতে
শিউলী-কামিনী যেথা ছড়ায় সুবাস,
আজানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মগজহীন গোল্ডফিশ মেমোরি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১:০১



বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা অভিধান যারা পড়েছেন তাদের জানার কথা “মগজহীন” শব্দ নতুন কোনো শব্দ না। “মগজহীন” শব্দটি বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা অভিধানে কখন কোন সালে নথিভুক্ত হয়েছে? -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×