*তিন বছরে ঢাকায় ৫৫৭৬টি
*প্রতিদিন গড়ে ১১টি বেওয়ারিশ লাশ

আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের হিসাব অনুযায়ী -
প্রতিদিন ঢাকা শহরে গড়ে প্রায় ৬টি লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে।
ঢাকার বাইরে আরও ৫টি।
অর্থাত্ দেশে প্রতিদিন উদ্ধার করা হচ্ছে গড়ে ১১টি বেওয়ারিশ লাশ।
রাজনৈতিক শত্রুতা, ব্যবসা ও জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ, সন্ত্রাসীদের অন্তর্কলহ, পূর্বশত্রুতার জের, প্রেমঘটিত বিষয় কিংবা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এসব মানুষ লাশ হচ্ছে। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় কোনো বিচারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার লাশের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হচ্ছে।
তিন বছরে ঢাকায় ৫৫৭৬টি বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার :
গত তিন বছরে শুধু রাজধানী ঢাকায় ৫ হাজার ৫৭৬টি বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে উদ্ধার হয়েছে আরও প্রায় ৫ হাজার বেওয়ারিশ লাশ।
আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এই লাশের দাফনকাজ সম্পন্ন করে।
আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম সূত্রে জানা যায়,
গত তিন বছরে ঢাকায় বেওয়ারিশ হিসেবে মোট ৫ হাজার ৫৭৬টি লাশ তারা দাফন করেছে।
২০১১ সালে ১ হাজার ৫৭৯ জন,
২০১০ সালে ১ হাজার ৭৮৩ জন,
২০০৯ সালে ২ হাজার ১৫৬ জন।
একই সময়ে ঢাকার বাইরে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আরও ৫ হাজারের মতো বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে।
চট্টগ্রামে গত তিন বছরে ৮৮১টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম চটগ্রাম ব্রাঞ্চ।
এর মধ্যে ২০০৮ সালে ৩০৫টি,
২০০৯ সালে ২৯৬টি ও
২০১০ সালে ২৮০টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে তারা।
খুলনায় গত তিন বছরে ৯৯টি ও পাবনায় ৭০টি লাশ দাফন করেছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।
এছাড়া ঢাকার বাইরের ৪৩টি শাখা প্রায় ৪ হাজার বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে।
মেডিকেল মর্গে ঠাঁই নেই :
হঠাত্ বেওয়ারিশ লাশ বেড়ে যাওয়ায় মর্গে লাশের ঠাঁই হচ্ছে না। ফলে দ্রুত লাশ দাফন করে ফেলতে হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের ফ্রিজে ১২টি লাশ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান ডোম মো. সেকান্দর। তিনি জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন দু-তিনটি লাশ আসত সেখানে এখন ৬ থেকে ৭টি বেওয়ারিশ লাশ আসছে।
সাভার, আশুলিয়া ও রেললাইনের পাশে বেওয়ারিশ লাশ :
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার হয় সাভার, আশুলিয়া ও রেললাইন থেকে। ইদানীং হত্যা করে লাশ রেললাইনে রেখে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে সহজে চালিয়ে দেয়া এবং চেহারা বিকৃত করার কৌশল হিসেবে রেললাইনে লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে।
অনেকের লাশও মিলছে না :
একদিকে বেওয়ারিশ লাশ বাড়ছে, অন্যদিকে নিখোঁজ হওয়ার পর অনেকের লাশও মিলছে না।
সূত্র "আমার দেশ" : Click This Link
গত দশ বছরে ২৭ হাজার নগরীতে বাড়ছে বেওয়ারিশ লাশ
রাজধানীসহ সারাদেশে দিনে দিনে অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা বাড়ছে। জানা যায়, পর্যাপ্ত প্রচারণা ছাড়াই অজ্ঞাত লাশগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বেওয়ারিশ হিসেবে চিহ্নিত করে করা হয় দাফন। সূত্র জানায়, গত ৫০ বছরেরও অধিক সময়ে আজিমপুর, মিরপুর ও জুরাইন কবরস্থানে দেড় লক্ষাধিক বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ১০-১২টি লাশ দাফন করছে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।
বিভিন্ন মর্গ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা ছিল দেড়গুণ। গোয়েন্দা সংস্থার আলোকচিত্রী শাখার তথ্য অনুযায়ী,
২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত বেওয়ারিশ লাশের ছবি সংরক্ষণ করা হয় ১৭৮৪টি,
আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম সূত্রে জানা যায়,
বেওয়ারিশ হিসেবে ২০০০ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত তারা দাফন করেছেন ২৭২১০টি অজ্ঞাত লাশ।
সূত্র "অপরাধ কন্ঠ" : Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


