বাংলাদেশ ব্যাংক এর রিজার্ভ মানি জালিয়াতি হয়েছে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি আর এই ঘটনার প্রকাশ হয়েছে প্রায় মাসখানেক পর। তাও তা প্রকাশ করেছে ফিলিপাইন থেকে। তা প্রকাশিত হবার পর সবার নজর পড়ে যায় সেদিকে। তারপর থেকে বলা হচ্ছে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বিদেশি হ্যাকাররা।
ওকে ফাইন !!!
যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে ঘটনা এতদিন পর ফ্ল্যাশ হল কেন? নিচ্ছয়ই ভিতরের লোকের কারসাজি যা তারা জানতেন কিন্তু উপরের মহলের চাপের কারণে ফ্ল্যাশ করেন নি। এখন কথা হচ্ছে এই উপরের মহলের লোক গুলো কারা???
তাহলে কি আমরা ধরে নিবো, ভিতরের লোকেরাই এ কলকাঠি নেড়েছিল? তাহলে তাদের নাম এখনও প্রকাশ হচ্ছে না কেন? কারা তারা? কাদের সাথে উঠা বসা তাদের???
বাংলাদেশ ব্যাংক এর রিজার্ভ মানি চুরির ঘটনা ফ্ল্যাশ হবার ২ দিন পর আওয়ামীলীগ এর নেতা লেনিন সাহেব বলেছেন "যেহেতু আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্নর থাকা অবস্থায় এ জালিয়াতি হয়েছে সেহেতু আতিউর রহমানের ঐ পদে বহাল থাকার কোন অধিকার নেই, এবং অবিলম্বেই তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।
ওকে ফাইন !!!
কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, আতিউর সাহেব গভর্নর থাকার কারণে যদি বাংলাদেশ ব্যাংক জালিয়াতির জন্য তাঁকে যদি পদত্যাগ করতে হয় তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকা শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির পরেও মাননীয় অর্থমন্ত্রী সাহেব তাঁর পদে বহাল থাকেন কিভাবে ???
অবশেষে উক্ত ঘটনার জন্য আতিউর রহমান সাহেব পদত্যাগ করলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই নাকি বুঝতে পেরেছিলেন আতিউর রহমান অনেক সৎ লোক। তাই তাঁর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এর নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সোনালি ব্যাংক এর চেয়ারম্যান কে।
ওকে ফাইন!!!
তাহলে প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জেনে শুনেও আতিউর রহামান স্যারের মত একজন সৎ লোক কে হাতছাড়া করলেন কেন???
এবং দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, যে সোনালি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার হলমার্ক কেলেঙ্কারি হয়েছিল সে সোনালি ব্যাংক এর চেয়ারম্যান কেই কেন বাংলাদেশ ব্যাংক এর মত এতো বড় একটি প্রতিষ্ঠানের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল???
এবং তৃতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, যার প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে যায় তার অধীনস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আরও হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে যাবে না তার নিচ্ছয়তা কি ???
তাহলে কি আমরা ধরে নিবো এটা নতুন পরিকল্পনার অংশ ???
আমরা জানি, নতুন ছোট ঘটনা পুরাতন বড় দুর্ঘটনা কে ভুলিয়ে দেয়। ঠিক তাই হয়েছে। একটু ভালো করে ভাবলে ইকুয়েশন মিলে যাবে।
এই ব্যাপারটি এমন সুন্দর করেই নাটক সাজানো হয়েছে যে অডিয়েন্স কে পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা নিজেরাই ভুলে গিয়েছি আসলেই কি ৮০০ কোটি টাকা চুরি হয়েছে কি না !!!
সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হল, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া এই টাকার ব্যাপারে কোন হ্যাডেক নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে খোয়া যাওয়া এই টাকাগুলো কার?
এই টাকাগুলো কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো টাকা, এই টাকা দিনমজুরের কষ্টের টাকা, এই টাকা মেধাবী ছেলেকে পড়ানোর জন্য দরিদ্র বাবার জমানো টাকা, এই টাকা গরীব মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য মায়ের কষ্টে জমানো টাকা, এই টাকা শত কষ্টের বিনিময়ে বিনিময়ে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সব কিছু ত্যাগ করে কিছু অবলম্বনের টাকা। এমনিতেই এই টাকা আসে নি, এমনিতেই না !!!
আর এই কষ্টের টাকা দিয়ে ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে টাকা উড়িয়ে দেয় জুয়াড়িরা। হায় স্বাধীনতা তুমি আজ কোথায়???
সবশেষে শুধু একটা কথাই বলবো, "বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এমন এমন আকাম কুকাম করছে যা দেশকে শুধু একের পর এক প্রেগন্যান্ট বানাইছে আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে সে প্রেগনেন্সি কে শুধু শুধু মিসকারেজ করেছে। আর আওয়ামীলীগ এমন তালেই সে প্রেগনেন্সি কে মিসকারেজ করছে যে সামনের ৫০ বছরেও আর কোন বেবি হবে কিনা সন্দেহ !!!
---গোলাম রাব্বানী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

