somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাইড এফেক্ট অফ নীলক্ষেতের আচার।

০৭ ই মে, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা যারা মেসে থাকি তারা সাধারণত গ্রামে গেলে ঢাকা আসার সময় অনেক সুন্দর সুন্দর খাবারের জিনিস নিয়া আসে। কেউ মায়ের হাতের পিঠা আনে, কেউ গাছের আম-কাঁঠাল আনে, কেউ পুকুরের মাছ ভাইজা আনে। আর বাড়ি থেকে এগুলো আনার পর মেসের সবাই একসাথে মজা কইরা খায়। সেই ফিলিংস। যেন সব আপনা মায়ের পেটের ভাই।
তো, আমার মেসের সবাই বাড়ি গেলে আসার সময় মায়ের হাতের খাবার নিয়া আসে। কেবল মাত্র আমি একমাত্র বান্দা যে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই আনি নাই। না আনার কারণ হচ্ছে, আমি প্রচণ্ড রকমের আইলসা একটা মানুষ। আমি এমন ধাচের অলস, যে ভাত খাওয়ার সময় ২ টা লোকমা ভাত বেশি খাই না, খাইতে কষ্ট লাগে বইলা। তো বাসা থেকে আসার সময় আম্মা কখনোই আমারে দিয়া কোন জিনিস ঢাকা আনাইতে পারে নাই। এমনকি মাঝে মাঝে আম্মা লুকাইয়া যদি কোন পিঠা বা ফলমূল আমার ব্যাগের মধ্যে দেয়। সেক্ষেত্রেও আমি আসার আগে ব্যাগ চেক করে খাটের নিচে আম্মার জিনিস রাইখা আসি। এইগুলা নিয়া আম্মায় যে কত কান্নাকাটি করছে, তাতেও লাভ হয় নাই।
এইসব ব্যাপার গুলো নিয়া মেসের পোলাপাইন আমারে সেই খেপাইত। কিন্তু আমি কানে নিতাম না। তো, বছর খানেক আগে আমি বাসা থেকে ঢাকা আইসা শুনি মেসে বুয়া নাই। তখন চইলা গেলাম আজিমপুর মামার বাসায়। সেখানে ২ দিন থাকার পর যখন শুনলাম বুয়া আসছে তখন বাসায় আসছি। অন্যদিকে মেসের পোলাপাইন মনে করছে, আমি বাসা থেকে কিছু আনি নাই তাই মামার বাসায় যাইয়া পালাইছি। তো ওরা বলল, বাসায় যাওয়ার জন্য কেউ আর খেপাবে না। আমি কিছু বলি নাই, শুধু মুচকি হাঁসছি।
সন্ধায় আজিমপুর থেকে ধানমণ্ডি তে আসার সময় দেখি নীলক্ষেতে হরেক রকমের আচার বেচতাছে। সেই ঘ্রাণ। সেখান থেকে ৫ প্যাকেট আচার ৫০ টাকা দিয়া কিনলাম। বাসায় আইসা চুপিচুপি একটা বইয়ম এর মধ্যেে সেই আচার ঢুকাইলাম। পাশের রুমে যাইয়া দেখি পোলাপাইন আমার দিকে তাকাইয়া হাঁসতাছে, মনে হয় এখনই খেপানো শুরু করবে।
আমি ওদের দিকে আচারের বইয়ম দেখাইয়া বলাম, কখনও তোদের জন্য কিছু নাই তো। তাই আম্মায় নিজ হাতের আচার জোর কইরা ব্যাগে ঢুকাইয়া দিছে তোদের জন্য। ওরা এত জোরে হাঁসলো যেন কোন এলিয়েন দেখছে। তখন ওরা কইল, সত্যি কইরা ক, এই আচার কই থাইকা চুরি কইরা আনছস? তখন বললাম, সত্যি বললে তো বিশ্বাস করবি না। তাও বলি , মামার বাসায় যাইয়া দেখি মামানী আচার বানাইছে, অনেক মজা হইছে। পরে চিন্তা করলাম কখনও তোদের জন্য কিছু আনি নাই তো, তাই আজ এই আচার আনলাম। এরই মধ্যে, এক মটু আমার হাত থেকে আচারের বক্স টান মাইরা নিয়া গেল। হঠাৎ আমার ফোন আসলো। আমি অদের বললাম, আমার জন্য একটু রাখিস, আমি একটু পর আসতেছি।
১০ মিনিট পর রুমে ঢুকে দেখি বান্দারা আচার সব তো শেষ করছেই এখন বক্স চাইটা খাইতাছে, আর হাঁইসা হাঁইসা আমারে কইতাছে, জীবনে প্রথম কিছু আনছ তাও আবা ভাগ চাও? কত শখ? আমি আর কিছুই বলি নাই।
পরের দিন শুনি ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের ই নাকি লাইন ডায়রেক্ট হইয়া গেছে। বাথরুমে যায় আর আসে। এই কথা শুনে ওদের রুমে যাওয়ার পর দেখি, সবগুলায় মিল্লা আমারে গালি দিতাছে। "আমার আচার খায়া নাকি এমন হইছে।
আমি তখন বলছি, আমার আচার আমারে ছাড়া খাইলে এমন ই হবে। তখন দেখলাম সবগুলা আমারে রুমের খালি বোতল মারতাছে। আমি হাঁসতে হাঁসতে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম। আর ভাবতেছি "নীলক্ষেতের আচারের কি কারিশমা রে ভাই। ভাগ্যিস ওরা আমার জন্য রাখে নাই। না হইলে আমি এই অবেলায় কারে গাল দিতাম।"
মনে পড়লে এখনও হাঁসি পায়, অনেক হাঁসি পায়।
সেদিন অনেক মাঝা হইছিল, অনেক মাঝা !!!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৯
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×