
২০০৮ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের আগে বারাক ওবামার সেই বিখ্যাত কথাটি কারো মনে আছে?
যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের পূর্বে 'জন ম্যাককেইন' 'বারাক ওবামাকে’ প্রশ্ন করেছিলেন, ‘বারাক তুমি নিজেই তো একজন কৃষ্ণাঙ্গ। তুমি কৃষ্ণাঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও হোয়াইট হাউসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখো কিভাবে? তাছাড়া হোয়াইট হাউস তো হোয়াইট পিপলদের জন্য।
জনের কথা শুনে বারাক মুচকি হেসে উত্তর দিলেন, ''জন, একটি কালো মুরগী যদি একটি সাদা ডিম পাড়তে পারে, তাহলে আমি কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে হোয়াইট হাউসে যেতে পারবে না কেন?''
তারপরের ঘটনা সবারই কম বেশি জানা আছে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে এই ২ জনই ছিলেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।
আমরা স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে বারবার হতাশ হই। আমাদের ভেতরে ডিপ্রেশন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ আমাদের পেছনে লেগে পড়ে। জগতটা বড্ড অদ্ভুত। কেউ চায় না, কেউ ভালো করুক। আর আমরাও মানুষের কথা শুনে থমকে যাই। কিন্তু কেন?
অনেকেই ভেবে থাকেন, ঢাবি, বুয়েট, মেডিক্যাল, পাবলিক ভার্সিটিই জীবনের সব।
হ্যাঁ ভালো করার জন্য এগুলো জাস্ট ভাল কিছু মাধ্যম। কিন্তু তার মানে এই নয় যে এর বাহিরে যারা পড়ে তারা খারাপ। ভালো খারাপ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেই অনেক এক্সট্রাঅরডিনারি পিপল থাকে। প্রতিটি মানুষই মেধাবী। একেক জন একেক দিক থেকে মেধাবী।
আমাদের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে, আমরা নিজেরাই জানি না, আমরা কি পারি আর কি পারি না। মানুষ আমাদের বলে আমরা কিছু জানি না, তাই আমরা ও ভাবি আমরা হয়তো কিছুই জানি না। তাই আমরা নিজেদেরই চিনতে গিয়ে বারংবার ভুল করি।
একটি দেশে সবাই 'শচিন, লারা, মেসি, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিল গেটস, আইনস্টাইন, সক্রেটিস' হবে না। সবাই স্কুলের গৎবাঁধা নিয়ম মানবে না। তার মানে কি এই যে কিছুই করতে পারবে না? ন্যাশনালে টিমে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে মাত্র ১১ জন। তাই বলে কি অন্যরা ক্রিকেট খেলবে না?
এটা কখনোই খুব বড় ব্যাপার না, আপনার বাবা কি করেন, দাদা কি করতেন, আপনি কোন বংশের ছেলে, আপনার শিকড় কি, আপনার কত কি আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। বরং এটা সবচেয়ে বড় ব্যাপার আপনি আসলে কি, কত টুকু জানেন আপনি, পৃথিবী কে আপনি কত বেশি আপন করে নিয়েছেন, কি কি করার সামর্থ্য আছে আপনার ইত্যাদি ইত্যাদি।
পৃথিবী আপনাকে ততটুকুই দিবে, আপনি পৃথিবীকে যতটুকু দিবেন। ভেরি সিম্পল ইকুয়েশন। আমরা আরামে বাসায় বসে ঘুমাব, আর সফলতা বাসায় এসে উঁকি দিবে, সবকিছু এত সহজ নয়। জীবনটা জীবনের নিজস্ব নিয়মে চলে। আমাদের সেটাই করা উচিত, যেটা আমরা করতে ভালোবাসি। আমাদেরকে জাস্ট জানতে হবে আমরা কি চাই, এবং কিসে বিশ্বাস করি। আর যা করতে না চাই তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। নিজের জীবনে আরেকজনের দাসত্ব করার মত বোকামি আর কিছুই হয় না। ডু সামথিং ব্যাটার, ডু সামথিং ডিফারেন্ট।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



