somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"হাসো বাঙালি হাসো"।

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৭:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"হাসো বাঙালি হাসো"।

সেক্টর কমান্ডার গ্রুপ ক্যাপ্টেন(পরে এয়ার ভাইস মার্শাল) এ কে খন্দকার বীর উওম।যিনি মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল এম এ জি ওসমানীর সার্বক্ষনিক সহকারী ছিলেন।যিনি ২০১১সালে স্বাধীনতা পদক লাভ ও হাসিনা সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।১৯৭৫ সালে বিমান বাহিনীর প্রধান থাকাকালীন শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর তিনিই প্রথম প্রতিবাদ স্বরুপ সরকারি পদ ত্যাগ করেছিলেন।
এ কে খন্দকার খুব কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সফলতা ও ব্যর্থতাগুলো অবলোকন করতে পেরেছেন।কর্মজীবনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ফাঁকে ফাঁকে লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা।"১৯৭১: ভেতরে বাইরে"শীর্ষক সেই স্মৃতি কথাই গ্রন্হাকারে প্রকাশিত হয়েছে।এতে মুক্তিযুদ্ধকালের জানা-অজানা কাহিনী ও তথ্য নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেছেন তিনি।
স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে তাহার উক্ত বইতে এ কে খন্দকার লিখেছেন,"৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু "জয়-বাংলা,জয়-পাকিস্তান" বলে তাঁর ভাষণ শেষ করেছিলেন।৭২-এর পর থেকে "জয়-পাকিস্তান" বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করা হচ্ছে।২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু যদি স্বাধীনতার ঘোষণাই দেবেন,তবে তিনি ৩২নম্বর সড়কের বাসায় থাকবেনই বা কেন?অনেকে বলেন,বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ রাতে এক হাবিলদার মারফত চিরকুট পাঠিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।অনেকে বলেন,বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জহুর আহমদ চৌধুরীকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন।কেহ আবার বলেন,বঙ্গবন্ধু ইপিআরের বেতারযন্ত্রে বা ডাক ও তার বিভাগের টেলিগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা বার্তা প্রচার করেন।এগুলোর কোনো যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ আমি কোথাও পাইনি।আর যা প্রমাণ হিসাবে উপস্হাপন করা হয় তার বিশ্বাসযোগ্যতা খুঁজে পাইনি।বরং মুক্তিযুদ্ধকালে আমরা সবাই আলোচনা করতাম যে,বঙ্গবন্ধু কেন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গেলেন না।দিলে কি ক্ষতি হতো"?
"আসল সত্য হচ্ছে,২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা প্রায় শেষ পর্যন্ত ৩২নম্বর বাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন।তিনি তো কাউকে কিছু বলে গেলেন না।এ সময় আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা তাজউদ্দিন আহমদ একটি টেপ রেকর্ডার এবং তাহার নিজের হাতে লেখা স্বাধীনতার ঘোষণার একটি খসড়া বঙ্গবন্ধুকে দেন এবং তাঁকে তা পড়তে বলেন।বঙ্গবন্ধু তখন প্রত্যুওরে বলেছিলেন,"এটা আমার বিরুদ্ধে একটা দলিল হয়ে থাকবে।এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের বিচার করতে পারবে"।এ কথায় তাজউদ্দিন আহমদ অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হয়ে রাত নয়টার পর পরই ধানমন্ডির ৩২নম্বর ছেড়ে চলে যান"।
এ কে খন্দকার লিখেছেন, "রেডিওতে আমি নিজে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছি।এই সময় আমি জিয়াকে চিনতাম না।মেজর জিয়ার ঘোষণায় মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে,হ্যাঁ এইবার বাংলাদেশ সত্যিই একটা যুদ্ধে নেমেছে।মেজর জিয়া যে কাজটি করতে পেরেছিলেন,তা করা উচিত ছিল জাতীয় পর্যায়ের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের"।
মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী এ কে খন্দকার এই ঐতিহাসিক সত্য কথাগুলো বলাতে ভন্ড ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারী আওয়ামী কুলাঙ্গারদের গাএদাহ শুরু হয়ে গেছে।ভোটারবিহীন নির্বাচন নামক নাটকের সরকারি ও ঘরজামাই এমপিরা,গতকাল বৃহষ্পতিবার মহান সংসদে "১৯৭১:ভেতরে বাইরে"বইটি বাজেয়াপ্ত এবং এ কে খন্দকারের মত বীর উওম খেতাবধারী মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডারকে "দেশদ্রোহী" আখ্যায়িত করে তাঁর বিচার দাবি করেছেন।
হাসো বাঙালী হাসো। ইতিহাস কথা বলে,কুলাঙ্গাররা ভয়ে মরে।

--- Mohammed Tareque Zaman
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প: আমি ডাক্তার হবো

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫

দ্রুত মাছ ধরার জালগুলো গুছিয়ে নেয় মহিউদ্দিন। ইতোমধ্যে অন্যান্য যন্ত্রগুলোও গুছিয়ে রেখেছে একপাশে। “জমির, ও জমির” বলে উঁচুস্বরে ডাকে কিছুক্ষণ পর পর। চারিদিকে মানুষের ছুটোছুটি। সবাই ব্যস্ত। কেউ বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×