somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: ফেমিনিস্ট ব্যাক্টেরিয়া

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাল টিপের ধ্বজাধারী এক প্রোক্যারিওটিক ফেমিনিস্ট ব্যাক্টেরিয়া একদিন এলো এক শহরে। শহরের নাম "ইউক্যারিওটিক সেল"। শহরের সবাই কেমন জানি মধ্যযুগীয়।

হুহ! পুরাই রাইবোজম-শাসিত একটা সেল।

বেচারা ব্যাক্টেরিয়ার কান্না দেখে কে ? তার কতই না দরদ হয় এই শহরে বাস করা মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস, প্লাস্টিড আর লাইসোজোমগুলোর জন্য। বেচারিগুলোকে পুরাই নিজের দাস বানিয়ে রেখেছে এই শহরে। মধ্যযুগীয়, বর্বর কি এক "ইন্ট্রাসেলুলার মেমব্রেন" পরিয়ে নিজের অঙ্গাণুগুলোকে আবদ্ধ করে রেখেছে চার দেয়ালের মাঝে!

না। অনেক হয়েছে। ব্যাক্টেরিয়া এবার ভেবেই নিল, এই বেচারি "ইউক্যারিওটিক অরগান"গুলোকে সে সচেতন করেই ছাড়বে। যেই কথা সেই কাজ।

ব্যাক্টেরিয়া জানে কি করলে কি হবে। শুরু করল ক্লোরোপ্লাস্টকে দিয়ে। "হে সবুজ কণিকাবাহীনি ! তুমি কি জানো এই উদ্ভিদকোষের জন্য তুমি বিনা কারণেই খাদ্য প্রস্তুত করে যাচ্ছো ? এই কোষ তোমাকে মর্যাদা দেয় নি। তোমাকে দুইস্তরের আবরণে বন্দী করেছে। কেন তুমি তবুও এই কোষের জন্য কাজ করছো ?"

ডাল গলে নি। ক্লোরোপ্লাস্ট পাত্তাই দিল না।

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাছে যেতে হবে। ব্যাকটেরিয়া সাহস করে গেল। কবির কন্ঠে সুরের সাথে বলল,

"এই মেমব্রেন ছিড়ে ফেল মাইটোকন্ড্রিয়া ;
ভেঙ্গে ফেল ও শিকল

যে মেমব্রেন তোমায় করিয়াছে ভীরু

ওড়াও সে আবরণ,

দূর করে দাও দাসীর চিহ্ন

যত ঝিল্লী ”।

আহ! মাইটোকন্ড্রিয়া মনে হয় খুশি হয়েছে। এবার কাজ হবেই। কিন্তু না। হল না।
মাইটোকন্ড্রিয়া নিজের "ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম" এর কাজে মনোযোগ দিল।

না। ব্যাক্টেরিয়া দমবার পাত্র নয়। এই শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অরগ্যানটার কাছে যেতে হবে। "ওহে নিউক্লিয়াস! অন্তত তুমি তো শোন। ঝেড়ে ফেলে দাও তোমার এই নিউক্লিয়ার মেমব্রেন। বেরিয়ে আসতে দাও তোমার রেটিকুলামকে। দেখো! সাইটোপ্লাজম কত সুন্দর"।

কিন্তু এ কি? সেও আমলে নিল না। এই সেলটাকে নিয়ে পারা গেল না। রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ চেপে ধরেছে ব্যাক্টেরিয়াকে। নিজের উদ্দেশ্যটা পূরণ হল না। এবার জোরে আওয়াজ তুলতেই হবে। নিজের পূর্বপুরুষদের সেই বিখ্যাত আজাইরা বাণী উচ্চারণ করলো, "হে শত শত অঙ্গাণুকে মেমব্রেনের আবরণীতে বন্দী করে রাখা ইউক্যারিওটিক সেল! আমরা কি এমন ইউক্যারিওটিক সেল চেয়েছিলাম ? উত্তর দাও। আমরা কি এমন ইউক্যারিওটিক সেল চেয়েছিলাম? "

ব্যাক্টেরিয়া হতাশ। এই সেলকে সে সুশীল করতে পারলো না। পারলো না নিজের চেতনাবাণী প্রচার করতে !

ইউক্যারিওটিক সেল এবার ধরল ব্যাক্টেরিয়াকে। "জানো ব্যাক্টেরিয়া! আমরা ইউক্যারিওটসরা তোমার চেয়ে বেশী উন্নত। তাই আমাদের "সেলুলার মেমব্রেন" আর "ইন্ট্রাসেলুলার মেমব্রেন" দুটোই আছে । কিন্তু নিজের দিকে তাকাও! তুমি অনুন্নত, বিবেকলুপ্ত, সমাজের কাছে তুমি কীটতুল্য। তুমি কি বুঝবে মেমব্রেনের গুরুত্ব! তোমার কাছে নেই আমার মত কোন উন্নত অরগ্যান। তাই এদের গুরুত্ব কি আর এদের জন্য কেনই বা মেমব্রেন লাগবে তা তুমি কস্মিনকালেও বুঝবে না। তুমি কেবল সেই লেজকাটা শেয়ালের ভূমিকা পালন করছো যে চাই সবাই তার মত অনুন্নত, নীম্ন শ্রেণীর হোক।"

আচ্ছা! সেই দিনের পর কি ব্যাক্টেরিয়ার লজ্জাবোধ হচ্ছিল ?
না। হয় তো সে আবার আসবে। নতুন কোনো রূপে। আর হয় তো আবারো নাকানিচুবানি খেয়ে যাবে।

Credit: ফারহান গনি / #দ্বীনালাপ
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:২২
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ চোখে কোন বাতিঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×