সম্প্রতি আলাউদ্দিন খিলজির ইতিহাসের উপর নির্মিত একটা হিন্দি সিনেমা নিয়ে ভারতে গন্ডগোল হচ্ছে। রাজপুত নারীরা নাকি আগুনে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে। পুরো ব্যাপারটাই আসলে বিজেপিপন্থী উগ্র রাজনীতিকদের কারসাজি। নাইলে একটা সিনেমা, যেখানে একজন মুসলিম শাষককে ভিলেন হিসাবে দেখানো হয়েছে, সেখানে বরং মুসলমানদেরই প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা ছিল। গত কয়েকদিন বিষয়টা নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে আলাউদ্দিন খিলজির শাসন আমলের চমৎকার কিছু ইতিহাস নিয়ে পড়ালেখা করলাম। এবং সেটা পাঠকদের সাথে কিছুটা শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না।
আমার মতে মূলত দুইটা কারণে আলাউদ্দিন খিলজির উপরে উগ্রহিন্দুরা ক্ষিপ্ত:
১। দক্ষিন ভারতের বিশাল একটা অংশ আলাউদ্দিন খিলজি জয় করেন, যা মূলত অনেকগুলি হিন্দু রাজ্যের সমষ্টি ছিল। ১২৯০ সালে আলাউদ্দিন খিলজি যখন ক্ষমতা হাতে নেন, তখন খিলজি সম্রাজ্যের সীমানা নীচের ম্যাপের মত ছিল

১৩২০ সালে, আলাউদ্দিন খিলজি যখন মারা যান, তখন খিলজি সম্রাজ্যের সীমানা বেড়ে ভেসেল ষ্টেট সহ তিনগুনেরও বেশি আকৃতি ধারণ করেছে

অব্যাহত পরাজয়ের কারণে একজন সফল মুসলিম শাসককে উগ্রহিন্দুরা পছন্দ করার কোন কারণ নাই।
২। খিলজির তৈরি করা অর্থনৈতিক সংস্কারের কারণে উচ্চ শ্রেনীর হিন্দুদের কর সংগ্রহ করার ক্ষমতা রহিত করা হয়, ফলে তাদের বিলাসী জীবনযাত্রা ব্যহত হয়। খিলজি তার শাসন আমলের প্রথমদিকে বারবার বিদ্রোহের শিকার হন। তার রাজ্যের ভিতরের মুসলমানরা এবং বাইরের হিন্দুরা বিভিন্ন সময় বিদ্রোহ করে। প্রতিটা বিদ্রোহই আলাউদ্দিন খিলজি সফলভাবে দমন করেন। ভবিষ্যতে যাতে তার বিরুদ্ধে আর বিদ্রোহ না হয়, সেজন্য পয়শাওয়ালা এলিট মুসলিম এবং এলিট হিন্দু শ্রেনীর লোকজনের আর্থিক সক্ষমতা কমানোর জন্য খিলজি বিভিন্ন ধরণের স্কিম হতে নেন, স্পাই নেটওয়ার্ক তৈরী করেন। চিরাচরিত ভাবে উত্তর ভারতের হিন্দু কৃষকদের থেকে হিন্দু জমিদাররা খাজনা আদায় করত। তারা এই খাজনার কিছু অংশ সুলতানকে দিত। এরা কিভাবে কতটা খাজনা আদায় করত তা নিয়ে সুলতান মাথা ঘামাতেন না। কিন্তু সুলতান যখন এদের বিলাসি জীবন দেখলেন, এদের পয়শা বেশি হওয়ার কারণে বারবার নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়া এবং সেই সাথে মাঝে মাঝে সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে আন্জাম দেওয়া - ইত্যাদি সুলতানের নজরে আসল, তখন তিনি এদের কর আদায়ের ক্ষমতা রহিত করে দেন, এবং ভূমি মালিকদের ভূমির পরিমান অনুযায়ি খাজনা নির্ধারণ করে দেন। এতে পয়শাওয়ালা হিন্দু জমিদাররা অনেক বেশি সমস্যায় পড়ে যায় কারণ তাদের জমির পরিমান বেশি হওয়ায় খাজনাও বেশি ছিল। কথিত আছে কর বাড়ানোর সাথে সাথে দ্রব্যমূল্য যাতে মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে সেজন্য সুলতানের পক্ষ থেকে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হত। সুলতানের গুপ্তচরেরা বাজারে বাজারে ঘুরে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কাউকে পন্য বিক্রয় করতে দেখলে কঠোর শাস্তি দিতেন।
সুলতানের মূল উদ্দেশ্য ছিল, বড় সাইজের সেনাবাহিনী মেইনটেইন করা। দ্রব্যমূল্য কম রাখার সুবিধা ছিল, সৈন্যদের বেশি বেতন দিতে হত না। আলাউদ্দিন খিলজি তার শাসন আমলে দক্ষিন-ভারত দখল করার সাথে সাথে উত্তর দিক থেকে আসা মোংগল আক্রমন সমান তালে প্রতিহত করে গেছেন। ধারণা করা যায়, মোংগল আক্রমনের আশংকা না থাকলে তার সম্রাজ্যের সীমানা আরো বহু গুনে বৃদ্ধি পেত।
তথ্যসুত্র: উইকিপিডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৮ বিকাল ৩:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




