somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজই সেফ হলাম, এখনই ব্যান খাইতে ইচ্ছা হল

০৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগে আসি সাধারনত কিছু কঠিন সত্য জানতে বা একটু নির্মল আনন্দ নেবার জন্য। যা লিখি তা সুপাঠ্য হয় বলে নিজেরও মনে হয়না।
একটা পোস্ট আমার অনুসারিত লিস্টে ছিল, ক্লিক করতেই দেখি ব্লগার কে ব্যান করা হয়েছে, যে সামান্য পড়া যাচ্ছিল সেটুকু থেকেই ব্লগটা পড়ার খুব আগ্রহ হল, কিছু নির্মম সত্য আছে এই ব্লগটায় ইচ্ছা হলে পড়ে যাবেন।


ব্লগটি লিখেছেন সত্য সন্ধানী আমি
ব্লগটিতে ৮৭ টি মন্তব্য করা হয়েছিলো, ব্লগটি ১১২৯ বার পঠিত ৩৪ জনের ভালো লেগেছে, এবং ব্লগটি ব্যান করা হয়েছে

চৈতির নগ্নদেহ প্রচারনারত শুয়োররা ও প্রতিবাদী হায়েনার দল,ভাতের নিশ্চয়তা দে হারামজাদারা চুরি করুম না
রাত ১২টা..

সায়েদাবাদে শ্যামলীর কাউন্টারের একদম শেষ চেয়ারে বসে মোবাইলে চোখ বুঝে গান শুনছিলাম।গন্তব্য কক্সবাজার।সাপ্তাহিক ছুটির কারণে রাত ১২টায়ও কাউন্টারে বেশ ভিড়।হঠাৎ উচ্চ হাসি শুনে সামনের দিকে তাকালাম।দেখলাম ৮-৯ বছরের একটা পিচ্চি ১ টাকার জন্য কাউন্টারে বসা এক যাত্রীর পা ধরে বসে আছে।এই নিয়ে লোকজন হাসাহাসি করছে।উঠে গিয়ে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।ভাবলাম ছেলেটিকে ডেকে এনে ১০টা টাকা দেয়।কিন্তু লোকজনের বাঁকা চাহনির কথা ভেবে কেন জানি পারলাম না পিচ্চিটাকে ডাকতে।এই দৃশ্য অসহ্য লাগছিল তাই কাউন্টারের সামনে বামপাশে চা বিক্রি করছিল এক চাচা।এককাপ চা নিয়ে আনমনেই আবার কাউন্টারের সামনে এলাম।বাহির থেকে দেখলাম এবার পিচ্চিটা অন্য আরেকজনের পা ধরে বসে আছে ১ টাকার জন্য। ছেলেটার বয়স ২২-২৫ হবে। ছেলেটা টাকা দেবে না । কাউন্টারে বসা অন্য যাত্রীদের উৎসাহ পেয়ে পিচ্চিটাও টাকা না দিলে পা ছাড়বে না। হঠ্যাৎ ছেলেটি উঠে দাড়িঁয়ে বেশ জোরে একটা লাথি দিল পিচ্চিটাকে। এতক্ষন যারা উৎসাহ দিচ্ছিল ছেলেটিকে তাদের সবাই চুপ করে গিয়ে এমন ভাব ধরল যেন কিছুই দেখেনি।আমি যাদের কাজ করে খাওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের কখনো ভিক্ষা দেয় না।কিন্তু বৃদ্ধ,বাচ্চা ভিক্ষা চাইলে কখনো না করিনি এটা হলফ করে বলতে পারব। ৫০ পয়সা, ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকা যা পারি দিয়ে আসছি বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই ।মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ছেলে হিসেবে অভাব কি জিনিস আমি জানি।পিচ্ছি ছেলেটাকে এমন করে লাথি মারতে দেখে সহ্য করতে না পেরে ছেলেটির সামনে গিয়ে দাড়িঁয়ে বললাম,লাথি মেরে কাজটা কি ঠিক করলেন?

ছেলেটির উওর-এইসব ফকিরনির পোলারা লাথি খাওয়ারই যোগ্য।তাই লাথি দিয়ে ঠিক কাজই করেছি। পিচ্চিটা ভয়ে জড়সড় হয়ে ফ্লোরে বসে আছে। পিচ্চিটাকে তুলে হাত ধরে বের হয়ে আসলাম।যে রাগ নিয়ে গিয়েছিলাম সে রাগ কেন জানি হারিয়ে গেল।পারলামনা একটা লাথি দিয়ে ছেলেটিকে বোঝাতে লাথির স্বাদ কেমন।নিজেকে কাপুরুষ মনে হল। ৬৭টাকা খুচরা ছিল । পিচ্চিটাকে দিয়ে বললাম,যা ভাই বাসায় গিয়ে ঘুমাগা। করুন হাসি দিয়ে পিচ্চিটা বলল,ভাই এই খালি রাস্তায় আমাদের বাসা।তারপর সামনের দিকে হেটেঁ চলে গেল। মাত্র ২টাকার জন্য পিচ্চিটা যে লাথিটা হজম করেছে সেই কষ্টের সাথে আমার কাপুরুষতা মিশে একাকার হয়ে গেল। মাসদুয়েক আগের কাপুরুষতা গত কিছুদিন ধরে ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু গতকালকের একটি ছবি আমাকে আমার কাপুরষতার ক্ষত আবার জাগিয়ে তুলেছে। সেদিন যদি একটি লাথি দিতে পারতাম তাহলে হয়ত একটি হায়েনা লাথির ব্যাথা বুঝত।



কতই বা বয়স হবে মেয়ে দুটির?ওদের অপরাধ কি জানেন? ওরা ক্ষুধার তাড়নায় চুরি করেছিল।তাই তাদের ওপর একদল হায়েনা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এডাল্ট মুভি দেখার উত্তেজনায় যেমন গোপনাঙ্গ দাঁড়িয়ে যায় তেমনি চুরি দেখে বিবেক জেগে উঠেছে পুরুষের। না ……..চুরি মেনে নেওয়া যায়না..চুরি করা পাপ..ফকিরনির বাচ্চাদের চুরির কারণেই দেশের উন্নতি হচ্চে না।সুতরাং মারো। আমরা যে প্রতিবাদী জাতি অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করে ঝাঁপিয়ে পড়া আমাদের অভ্যাস ।আমরা যদি এই দুই চোরের উপর ঝাঁপিয়ে না পড়ি তাতে যদি ৫২,৭১ এর প্রতিবাদীদের অপমান করা হয়?

আচ্ছা,মেয়ে দুটো কি মনে মনে একবারও বলেনি, ভাতের নিশ্চয়তা দে হারামজাদারা; চুরি করুম না। আচ্ছা, মেয়ে দুটো কি জানে,যে হায়েনার দল ওদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে সে হায়েনার দল প্রতি ৫ বছর পর পর চা-বিস্কুট-লুঙ্গির বিনিময়ে একদল চোরের কাছে নিজেদের বিক্রি করে।

***

দিন পনের ধরে রাতে ব্লগ পড়তে বেশ ভাল লাগে । ব্লগ বেশ শান্ত থাকে।আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামাত,ভারত-পাকিস্তান নিয়ে দিনভর ক্যাচাল করা আমজনতা কিবোর্ড টিপতে টিপতে ক্লান্তরা এই সময়ে থাকেনা।কিন্তু চৈতির ভিডিও বের হওয়ার পর থেকে এই শান্তি বিব্রতকর অবস্থায় পরিণত হয়েছে। রাতে মডারেটর না থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্লগার কয়েকদিন ধরে চৈতির ভিডিও এর লিংক দিয়ে যাচ্ছে সামহোয়্যার ইন ব্লগে।

একদল বিদ্রোহী রাস্তায় চোর(?) পিঠিয়ে প্রতিবাদী বাঙালীর সুনাম অক্ষুনু রাখার সবরকম চেষ্টা করে যাচ্ছে আর একদল পুরুষ নিজেদের বিকৃত যৌবনের স্বাদ সবার মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আছে।কেউ মাতাল হয়ে ঘরে এসে বউ মারছে বিপরীতে নারী স্বাধীনতার দাবীতে সোচ্চার কোন সুশীল ঘরে বউ রেখে অন্য নারীর বুক থেকে উঠে এসে গোসল না করেই নারী বিষয়ক সেমিনারে দৌড় দিচ্ছে;একদল বিধবার জমি দখলকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে নারীদের জন্য হরেকরকম নীতিমালা প্রণয়ন করছে একদল ইসলামের রক্ষক এই নারীনীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেছে।অথচ ইসলাম নারীদের যে অধিকার দিয়েছে সে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এদের রাস্তায় কখনো দেখা যায়না।

চৈতির ভিডিও প্রচারণারত এক জানোয়ারের পোস্টে বলেছি-আপনি প্রতি রাতেই কাজটা করছেন..আজ যদি আপনার বোনের সাথে এমন হত তাহলে আপনি কি আপনার বোনের যৌনাঙ্গ দেখানোর প্রচারণায় মেতে থাকতেন?? জানি বলবেন ,আমার বোন এমন করতেই পারেনা। মনে রাখবেন যা ভাবতে পারেননি কখনো এখন তা অহরহ হচ্ছে । বেশ কয়েকজন ব্লগার এই কাজটি করছেন এবং অনেক ব্লগার এই নিয়ে বেস রসালো পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। সবার উদ্যেশ্যে আমি কমেন্টটি ছুঁড়ে দিলাম।
কেউ কমেন্ট করলে নিজ দায়িত্তে করবেন, এই লেখাটায় আমার মৌন সম্মতি আছে মাত্র, ইহার পক্ষে যুক্তি দেবার সময় ও ক্ষমতা কোনটাই আমার নেই।
বিডি নিউজ ব্লগের লিঙ্ক http://blog.bdnews24.com/a0557116316/11530
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৩৯
১২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×