somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিকশাওয়ালারা কি মানুষ?

০৫ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল রাতে ঘুমাইছিলাম ৩ টার পরে। সকাল ৯ টায় ঘুম ভাঙ্গলো বাংলালিংক কল সেন্টার এর এক রমণীর কলে, ওরা এখন হয়তো বোঝে “সময়ের এক ফোট আর অসময়ের দশ ফোট”। সাড়ে দশটায় অফিসে গেলাম, অফিস শেষ হল ৫ টায় তারপর বাসায় আসতে আসতে আব্বু কল দিলো, বললো ছোট ফুফার অবস্থা হয়ত খুব খারাপ, যেন আমি যাই।
পকেট এ তেমন টাকা ছিলোনা, টাকা জোগাড় করে যখন সোহরাওয়ার্দী হসপিটাল এর দিকে রউনা হলাম তখন বাজে ৭.১৫। স্টার কাবাব থেকে নান রুটি আর কাবাব নিলাম ফুফু-ফুফার জন্য।

আব্বুর ফোনে যেমনটা শুনছিলাম ফুফু ও তেমন ই বললেন। ১% সম্ভবনা যক্ষ্মা আর ৯৯% সম্ভবনা ক্যান্সার! আমার বাবার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ছে ৩ বৎসর হল তাই ফুফার কথা ভাবতেই সারাদিনের ক্লান্ত শরীর যেন পাথর হয়ে গেল। স্তব্ধ হয়ে গেলেও মাথা আর মন দুটাই ব্যাস্ত থাকলো ফুফার চিন্তায়।
রিকশা ঠিক করলাম ধানমণ্ডি ফিরব বলে। ৩০ টাকায় রাজি হচ্ছিল না, ৪/৫ জনের পরে একজন ৩৫ চাচ্ছিল। তারপর সে ৩০ এ রাজি হল। দামাদামির সময় লক্ষ করছিলাম লোকটা কিছুটা তোতলা অথবা অন্য কোন উচ্চারণগত সমস্যা আছে। তাতে কি আসে যায়! পরশুদিন রাতে যখন রিকশায় ধানমণ্ডিতে ফিরি তখন রিকশাওয়ালার সাথে অনেক কথা বলছিলাম। কিন্তু আজ আমি ছিলাম অনেক ক্লান্ত আর ফুফার চিন্তায় বিভোর, তাই কথা হলনা তোতলা রিক্সাওয়ালার সাথে!

রিক্সাটা তখন মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড এর পাশের মিনা বাজার এর মোড়ে, রাস্তাটা পার হবার পথে। সবথেকে বামের রিক্সাটা পার হয়ে গেল, মাঝে ছিল একটা কার। আর আমার রিক্সাটা সবথেকে ডানে। এতোটুকুই শুনতে পেলাম যে, আমার রিকশাওয়ালা কারের (১) ড্রাইভার কে উদ্দেশ্য করে বললো “এই চালা”।



তারপর শুঠাম দেহের কারের ড্রাইভার (হয়ত মালিক!) কারের ভিতর থেকেই তার সিলেটী বেতের লাঠিটা বের করে রিকশাওয়ালাকে দুইটা বাড়ি দিলো। (অতো মোটা লাঠি আমি কখনো কোন কারে দেখি নাই। কমপক্ষে দেড় ইঞ্ছি ব্যাস হবে।) আমি যেন তখন অন্য কোন ভুবনে আছি, আমি ভেবেই পাচ্ছিলাম না যে কি কারনে কারের ড্রাইভার লোকটা রিকশাওয়ালাকে মারল। রিকশাওয়ালা হাত জোর করে ক্ষমা চাইতে থাকলো আর ড্রাইভার লোকটি কার থেকে লাঠি নিয়ে বের হবার উপক্রম হল। আমার রিকশাটার থেকে কার টার দূরত্ব এক ফুট এর মতো ছিল তাই ড্রাইভার লোকটার বের হতে সমস্যা হচ্ছিলো, তবু সে গাড়িতে দাগ পড়বে জেনেও ধাক্কা দিয়ে কার এর দরজা খুলল এবং বের হয়ে গরু পিটানোর মতো রিকশাওয়ালাকে পিটানো শুরু করল। আমি তখনো নিস্তব্ধ শুধু ভাবছি “এই চালা” কথাটা বলা এততাই অন্যায় হল!

আমি কি গর্দভ একবার মনেও পড়ল না, বললাম ও না যে; রিকশাওয়ালা লোকটা তোতলা, হয়ত সে কোন দূরের গ্রাম থেকে এসেছে যেখানে সবাই সবাইকে তুই করে বলে। সেই ক্লিষ্ট দেহটায় ড্রাইভার লোকটা ৮ থেকে ১০ টা বাড়ি মারল। তার পিঠে, বুকে, পায়ে মারল। ড্রাইভার লোকটা যখন ক্লান্ত হয়ে মারা শেষ করল তখন রিকশাওয়ালা লোকটার দাঁড়ানোর শক্তি নাই। একটা লোক ও ড্রাইভার লোক টাকে থামানোর চেষ্টা করল না, কোন প্রতিবাদ হল না। তখন আমার কান যেন আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করল, সে শুনতে পেল কেউ একজন বলছে “এতো আস্তে মারে নাকি”! (২) ৪০/৫০ সেকেন্ড পরে সে তার রিক্সাটা ঠেলে পিছের দিকে নিলো, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম রিক্সা চালাতে পারবেন? সে না বলল। আমি তাকে ২০ টা টাকা দিয়ে চলে আসলাম।

আমি নিশ্চিত রিকশাওয়ালা লোকটা আগামী দুই দিন রিক্সা চালাতে পারবে না, আমি নিশ্চিত তার আজ ওষুধ কিনতে হবে, আমি নিশ্চিত সে আজ পৃথিবীর সব নোংরা গালি গুলা দেবে ওই ড্রাইভার লোকটাকে মনে করে, সে আমাকেও বকা দেবে, সে মনুষ্য জাতিকে তুলে গালি দিব, জানি তার সন্তান আর বউটা আজ থেকে ঘৃণা করবে ওই কারে চলা মানুষ গুলার, জানি রিকশাওয়ালার শরীরের ব্যাথাটা তাকে ঘুমাতে দিবেনা সারা রাত, সে কাঁদবে আর বারবার সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করবে। .........সে আজ সৃষ্টিকর্তাকে প্রশ্ন করবে আমরা কি মানুষ না? গরীবের ঘরে জন্ম নেয়ায় যদি অপরাধ তবে সৃষ্টিকর্তা সে দোষ তোমার না আমার? আমার তোতলা কণ্ঠের দোষ কার, তোমার না আমার? তার হাজারো প্রশ্ন সৃষ্টিকর্তার কর্ণদ্বারে পৌঁছাবে কি না জানিনা!
আর উত্তর?


তাইতো সৃষ্টিকর্তা নয় মানুষ বলে দাবি করা পাঠকদের কাছে প্রশ্ন এই কি আপনাদের বিচার? এই কি মনুষ্যত্ব? রিকশাওয়ালা কি মানুষ?









পাদটীকা:
(১)। কারটা ২০০৭ থেকে ২০০৯ মডেল হবে, নাম্বার জানিনা, দেখলেও হয়তো চিনবো না।
(২)। ছিঃ ছিঃ ছিঃ , আসে পাশের ঐ প্রাণী গুলাকি মানুষ?
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×