
এটা হইল ইউনাইটেড আর আমিরাতের অত্যন্ত নান্দনিক শারজাহ মসজিদ। এই মসজিদে মাগরিব, ইশা অথবা ফজরের নামাজ জামাতে পড়লে আপনার প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। মুহুর্তের মধ্যে হৃদয় পবিত্র হয়ে যাবে। মুসলিম মাত্রই এক কথায় বিনা তর্কে একমত অবশ্যই নামাজ একজন মানুষের মনকে বিশুদ্ধ করে।
পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ ফজরের নামাজ জামাতে পড়া। বিশেষ করে যখন ঝুম বৃষ্টি হয় ও পানি উঠে যায় এবং শীত কালে। শীতকালে যেখানে সকাল ১১ টাই উঠতে উচ্ছা করেনা সেখানে মসজিদের ইমাম সাহের সবার আগে উঠেন। মুসল্লীরা এসে হাউকাউ করবে বলে আজানের আগেই মসজিদ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন। অনেকে এতোটুকু পড়েই আমার পোস্টে কি মন্তব্য করবেন ঠিক করে ফেলছেন। হয়তো বলবেন সারাজীবন মোল্লাদের বিরুদ্ধে হাউকাউ করে এখন আসছে ইমামদের প্রতি মায়া কান্না কাঁদতে।দেখুন আমি অনেকবার বলেছি - ইমাম এবং মোল্লা এক নয়। মোল্লা হল সে যে ভুলভাল ওয়াজ করে, বিজ্ঞানীর ভেক ধরে, বিজ্ঞান যা কিছু আবিষ্কার করছে তা ১৪০০ বছর আগে কোরানে লিপিবদ্ধকরণ হয়েছে বলে মিথ্যাচার করে। কিছু না জেনে আন্দাজে ফতুয়াবাজী করে, মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট যারা জঙ্গি জামাত শিবির তারাই মোল্লা।
আমাদের সমাজে অনেক ভালো ইমাম আছেন যাদের ইনকাম খুবই কম। দ্রব্যমূল্যের চরম উর্ধগতি। সামান্য বেতন দিয়ে চলা সত্যি কঠিন। ফলে ইমামগন - খতমে কোরান খতমে ব্লা ব্লা, ভুলভস্ল ওয়াজ মাহফিল এর নামে ভাউতাবাজী করে ক্ষেপ মারছেন।অথচ খেয়াল করে দেখবেন - প্রতিটি মসজিদের ১ টি করে কমিটি থাকে। হুদাই মিলাদুন্নবীর মতো অপ্রয়োজনীয় কতগুলো সুন্নত ইবাদতের জন্য ম্যাওপ্যাও করে। মানুষ মিলাদুন্নবীতে ও শুক্রবার যে পরিমাণ দান করে সেগুলো দিয়ে একজন মোয়াজ্জিন ও একজন ইমামকে সম্মানজনক বেতন দেয়া সম্ভব। ইমাম সাহেবের বেতন শুধু ১০/১২ হাজার টাকা কেন হবে বুঝলাম না বিষয়টা। আমার ধারণা মসজিদ কমিটি গুলোর অধিকাংশই নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে। অদ্ভুত বিষয় হলো এসব কমিটিতে যারা থাকে তাদের অধিকাংশই দুষ্ট লোক।আরও আশ্চর্যের বিষয় হইল সমাজের সবচেয়ে বেশী কোরাপ্টেড লোকটা শুধুমাত্র টাকা আছে বলে মসজিদ কমিটির সভাপতি! চট্টগ্রামের অনেক মসজিদে উক্ত সভাপতি - সেক্রেটারি গুলোর জন্য নির্ধারিত জায়গা রাখা হয়। বরাদ্ধকৃত স্থানে সাধারণ মানুষ সাধারণত দাঁড়ান না।
এ এক আজীব দেশ! এদেশের মসজিদ থেকে শুরু করে ফুটফাট সবখানে শুধু অনিয়ম আর ২ নাম্বারি। এসব মসজিদ কমিটির সভাপতি সেক্রেটারিরা সমাজের মোড়ল। আমি এক মদজিদ কমিটির সভাপতিকে চিনি যে ইমাম সাহেবের গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেছে। হক কথা বলার অপরাধে শত শত ইমামের চাকুরী খেয়েছে এসব ২ নাম্বাররা। ইমাম সাহেবেরও পরিবার আছে। তাঁদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা আছে। মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা বেতন বর্তমানে সত্যি খুবই কম হয়ে যায়। আমার ধারণা এসব কমিটি চাইলে ইমামদের বেতন বাড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার লোভে দিবেনা। তাই সরকারের উচিত ইমামদের একটা সম্মানজনক ও মানবিক সেলারী স্কেল নির্ধারণ করা।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


