
মানুষ নিজেকে নিজে তিলে তিলে শেষ করে দেয় হতাশা থেকে। একটা অসুস্থ অস্থির সমাজে বসবাস করার ফলে এখানে প্রতিটি মানুষ হতাশা নামক বিধ্বংসী অসুখে ভোগে। একটি মেয়ে অফিসে জয়েন করেছে নতুন। অল্প কদিনে নিনের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে কর্তৃপক্ষের মন জয় করতে পারলেও পুরনো অদক্ষ সহকর্মীরা তাকে টেনে নীচে নামিয়ে ফেলার বিশ্রী প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। ফলে দক্ষ মেয়েটি ফাইট করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে আর ডিপ্রেশনে চলে যায়। আর ডিপ্রেশন তো নীরব ঘাতক।তিলে তিলে মানুষকে মারে। মানুষের জীবন নরকে পরিণত করে। যদিও মোটিভেশনাল স্পিকারগণ বলেন - " কাক আর ঈগল এর গল্প পড়েননি? ঈগল যখন নীচে নামে, তখন বিশ্রী কাকের দল ঈগলকে ঠুকরাতে তাড়া করে। ঈগল কিন্তু পেছন ফিরে কাকের দলকে তাড়া করে না, সে আকাশের দিকে উড়তে থাকে। আর পিছনে ছুটা কাকের দল কতটুকু ছুটতে পারবে তার একটা লিমিটেশন আছে বিধায় কাক এক পর্যায়ে দম বন্ধ হয়ে ক্লান্ত হয়ে যায়। তাই হাল ছেড়ে দেয়" কিন্তু বাস্তব জীবনে রক্তে মাংসে গড়া মানুষের পক্ষে সেটা অসম্ভব। মানুষের আবেগ আছে, অনুভূতি আছে, সেন্টিমেন্ট আছে, আত্নসম্মান আছে, মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট এখানে কাক নয় একজন দুষ্ট মানুষ আরেকজন ভালো মানুষকে ঠুকরাচ্ছে শুধুমাত্র হিংসার কারণে।

এই অস্থির সমাজে একজন মানুষ ভালো হলে সমস্যা, সুন্দর হলে সমস্যা, মেধাবী হলে সমস্যা, ক্রিয়েটিভ হলে সমস্যা। গরীব হলে সমস্যা, বড় লোক হলেও সমস্যা। একজন মানুষ মোটা হলে সমস্যা, হ্যাংলা হলে সমস্যা, ট্রান্সজেন্ডার হলে সমস্যা, ওয়েস্টার্ন পড়লে সমস্যা, বোরখা পড়লেও সমস্যা। শুধু সমস্যা আর সমস্যা। আপনি যদি আপনার বন্ধুদের মধ্যে গরীব হোন ওরা গেট টুগেদারে আপনাকে ডাকবেনা। আপনার বউ যদি সুন্দর হয়, যাদের বউ অসুন্দর (কথার কথা। আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি মানুষই সুন্দর) তারা হুদাই আপনারে হিংসা করবে। চারদিকে শুধু বৈষম্য আর বৈষম্য।

এই সমাজের মানুষ গণতন্ত্র চাচ্ছে নিজে একজন স্বৈরাচারী হয়ে, নিজে পক্ষপাত দুষ্ট হয়ে নির্লজ্জ নিরপেক্ষতার বুলি উড়াচ্ছে, রাতের বেলা পরিমনিকে স্বপ্নে এনে সুখ নিয়ে পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ওর পোস্টে গিয়ে গালি দিচ্ছে শুধু মাত্র পরিমনির মতো কাউকে বউ/প্রেমিকা হিসেবে পায়নি বলে। কথার ছুরি দিয়ে কিংবা কারও দুর্বল জায়গায় আঘাত করে একটা মানুষকে রক্তাক্ত করে কোরান হাদীসের বুলি উড়াচ্ছে।আপনার পোস্ট সবাই পড়ছে বা বেশী পাঠক পাচ্ছে কিন্তু অন্য একজনের পোস্ট কেউ পড়ছেনা বা আপনার মতো পাঠক পাচ্ছেনা বলে হুদাই হিংসা করছে।

এই সমাজের মানুষগণ এসব করছেন শুধুমাত্র ব্যাক্তিজীবনে হতাশা থেকে। অল্পতে কিংবা যতটুকু আছে ততটুকুতেই আলহামদুলিল্লাহ বলতে না পারা মানুষের সংখ্যা ৯৫%। মসজিদে গেলে সেখানে বৈষম্য। ইমাম সাহেব কটা টাকার জন্য সমাজের বড়লোকদের নাম ধরে ধরে দুয়া করছেন।
একটি জাতীর ৯৫% মানুষ যখন কোন না কোন কারণে হতাশ তখন সে সমাজটির পক্ষে আসলে উন্নত বিশ্বের মতো সভ্য হওয়া অসম্ভব। একটি রাষ্ট্র বা সমাজকে স্মার্ট করতে হলে, সর্বপ্রথম সমাজের মানুষ গুলোকে হতাশা মুক্ত করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


