
শবে বরাতের সাথে খানাদানার একটু সম্পর্ক আছে। তাই শুরুতেই হালাল খাবার।
ব্লগে ঢুকে দেখি শবই বরাত নিয়ে দুইটা পোস্ট আসছে।এই ব্লগ সকল ব্লগারের মত প্রকাশের একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম। ব্লগটিমে আছেন বলে ধারণা করা হয় এমন দুইএকজনের একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ও একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ এর প্রতি দুর্বলতা থাকা ও পক্ষপাত দোষে দুষ্ট হওয়ার বিষয়টি বাদ দিলে, বলাবাহুল্য এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মত প্রকাশের একমাত্র নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম নি:সন্দেহে সামু। "পোষ্ট শুরু হোক ব্লগ *প্রতিষ্ঠাতার দ্রুত সুস্হতার জন্য *প্রার্থনার মধ্য দিয়ে।
আমি সারাজীবন মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লিখেছি। আজকের পোস্টটি একটু সেনসেটিভ।কারণ এই পোস্টের বিষয়বস্তু প্রগতিশীল সমাজের কিছু উচ্ছৃঙ্খল মেয়েদের নিয়ে। প্রথমেই বলে রাখি আপনি যখন নারীর স্বাধীনতার কথা বলবেন তখন অবশ্যই আপনি মেনে নিতে বাধ্য যে - একটি মেয়ে কি ড্রেস পড়বে কি করবে কোন আদর্শে বড় হবে কাকে বিয়ে করবে কেমন লাইফস্টাইল পছন্দ করবে, আতর দিবে না বডি স্প্রে ইউজ করবে, বিয়ার খাবে না ননস্মুকার হবে, স্লিভলেস পড়বে নাকি জিন্স টপ্সের সাথে হিজাব করবে, কনসার্টে যাবে নাকি ওয়াজ মাহফিলে যাবে, মাদ্রাসায় পড়বে নাকি ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি হবে উহা তার ব্যক্তিগত চয়েজে।উহা তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর ডিপেন্ড করবে।আপনি যখনই কারও ব্যক্তিগত বিষয়, পছন্দ, লাইফস্টাইল, ব্যক্তিগত জীবন এগুলো নিয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে, নোংরা নাক গলান, তখন কোন অবস্থাতেই আপনি স্মার্ট নন। প্রগতিশীল তো নয়ই বরং বস্তি।

ধরে নেই ছবির মেয়েটির নাম সাফানা। সৌদির একটা মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে।এর পর মালেশিয়ার মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। সেখান থেকে সে বিবিএ কমপ্লিট করে বাংলাদেশে ব্যাক করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। সাফানার গেট আপ তো দেখতেই পাচ্ছেন। সে পবিত্র কুরআনের সুরা রহমান মুখস্থ পড়তে পারে। প্রগতিশীল নারীরা ওকে দেখে বলবে আধুনিক হলে একেবারে আধুনিক হবে এসব হিজাব টিজাব পরার দরকার। মৌলবাদীদের বক্তব্যও কিন্তু একই। মৌলবাদীরা বলবে উসলাম মানলে পরিপূর্ণ ভাবে মানবে। এসব মডার্ন গেটাপ নিলে ইসলামের বিধান লংঘন হয়। দেখুন প্রগতিশীল এবং মৌলবাদ দুই গ্রুপের বক্তব্যই কিন্তু একই রকম।
আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত। মৌলবাদী জামাত হেফাজত বলবে ইসলামে লাইলাতুল বরাত বলে কিছু নেই। সব হালুয়া রুটি খাওয়ার ধান্দা। আচ্চা একটা দিন যদি কেউ রোজা রেখে সন্ধ্যায় যদি বীফ কালা ভুনা, খাসির রেজালা, চিকেন মাসালা, হালুয়া ও রুটি দিয়ে ইফতার করে, সন্ধ্যার পর গোসল করে পাজামা পাঞ্জাবি পড়ে গায়ে সুগন্ধি মেখে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে, মিলাদ পড়ে এবং সে মিলাদের পর কবরস্থান জেয়ারত করে, সারারাত জেগে কুরআন তেলওয়াত করে, তাহাজ্জুদ পড়ে তাহলে প্রগতিশীলরা বলবে এগুলো ধর্মান্ধতা আর ভন্দ ধর্মান্ধ জামায়াত হেফাজত বলবে এগুলো বেদাত। ধর্মান্ধ এবং কথিত প্রগতিশীলরা মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।

তাই আসুন আজ লাইলাতুল বরাত এর ব্রত হোক কথত প্রগতিশীল যারা নিজেরাই অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে বিশ্রী নাক গলায় ও ধর্মান্ধ ভন্ড জামায়াত হেফাজতকে পরিত্যাগ করে মডারেট মুসলিম হই।পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ধর্মে কোনো জোর-জবরদস্তি ও কঠোরতা নেই।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৬)। পবিত্র কোরানের এই আয়াত বলে দিচ্ছে - জোর করে কারও উপর কে কিভাবে ধর্ম পালন করবে তা চাপিয়ে দেয়া যাবেনা। কার ইসলাম সহীহ কার ইসলাম ভ্রান্ত এগুলো নিয়ে ফতুয়া দেয়া যাবেনা।যে যেভাবে কমফোর্ট সে সেভাবে ধর্ম পালন করবে। উপরের ছবিটিতে দেখছেন একজন ইজিপশিয়ান ফ্যাশন ডিজাইনা ' নূর ' ইসলামি ড্রেস ডিজাইন করছেন। সে ডিজাইন করা ড্রেস গুলো পরে একটি ফ্যাশন কিউতে মেয়েরা হাঁটছে। এই ফ্যাশন শো থেকে যে অর্থ উপার্জিত হয়েছে তা দান করা হয়েছে ফিলিস্তিনি শিশুদের। মৌলবাদীরা কোন রখম চিন্তা ভাবনা না করে ফতুয়া দিয়ে দিল - ইসলামে ফ্যাশন শো হারাম এগুলো দান হিসেবে গ্রহণ যোগ্য হবেনা। অথচ বিন্দু পরিমাণ শিক্ষা যার আছে সে মনে মনে চাবে -এমন মানবিক ফ্যাশন ডিজাইনার প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্ম নিক।
তাই আসুন ভন্ড প্রগতিশীল যারা নিজেরাই অন্যের ব্যক্তিগত লাইফস্টাইল, আইডোলোজি নিয়ে নাক গলায় ও ধর্মান্ধ মৌলবাদী যাদের মতে ওরা নিজেরা ছাড়া সবাই আল্লাহ রাসুল স: ও ইসলামের দুষমন তাদের পরিত্যাগ করে মডারেট মুসলিম হই যার মূল মন্ত্র সাম্য শান্তি মানবিকতা ও স্রষ্টার সকল সৃষ্টিকে প্রাণ খুলে ভালোবাসা।

ছবিতে লিনা ডিজাইন করা কামিজ পরছে ওরা বান্ধবি হিজাব পরছে। তাতে কি সমস্যা? দুইজনই নামাজ পড়ে। শুধুমাত্র পোশাকের কারণে মৌল্লারা বলবে লীনা ফালতু আর প্রগতিশীলরা বলবে হিজাব পরা মেয়েটার সাথে লিনার ছবি তুলা দু:খজনক। তাই আসুন এদের বর্জন করি।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



