somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ গোফরান
জামাত শিবির,ধর্মান্ধ মোল্লা ও একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বিদ্বেষী মুক্ত ব্লগ।আপনার প্রতি আমি কেমন ব্যাবহার করব তা আপনার আচরণের উপর নির্ভর করবে।সত্য মিথ্যা যাচাই না করে অন্যের কথার উপর ভিত্তি করে যদি আমার উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন,তাহলে আমার বন্ধু হওয়ার দরকার নেই।

বেইলি রোডে আগুন লাগার পরের দিন যারা কনসার্টে গেসে তারা কতটুকু দোষী?

০৩ রা মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথমে ছবিটি দেখুন। আরও ভালো করে দেখুন। হাসি খুশি একটি পরিবারের সাথে রেস্টুরেন্টে খেতে বসে ছবি তুলেছে লিনা। ছবিটি মাত্র ২৫ দিন আগের। কি সুন্দর! নির্মল হাসি। কি সুখী পরিবার। দেখলে মন ভরে যায়। আসলে পরিবারের সবার হাসিমুখ দেখার মতো আনন্দ আর নেই। কিন্তু প্রকৃতি অনেক নিষ্টুর। বিখ্যাত এক লেখক বলেছেন - "ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাঁকে খুঁজিয়া পাওয়া যাবেনা"
খেয়াল করলে দেখবেন আপনি দুখ বা মনোকষ্ট পেলে ক্ষত, হতাশায় থাকলে, জালেমদের কিছু না হলে, অসাহায় দুর্বলরা মারা খেলে "ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাঁকে খুঁজিয়া পাওয়া যাবেনা " কথাটা মনের অজান্তে বের হয়ে আসে।


এইবার এই ছবিটি দেখুন। চেনা যায়? প্রথম ছবির মা নাজিয়া আর তার কলিজার টুকরা ২ সন্তান বেলি রোডে ২ দিন আগে আগুনে পুড়ে মারা গেসে।



অরিজিনাল ছবিটি দেখুন লিনার তুলা যা প্রথম আলোকে দেয়া হয়েছে।


এই ছোট ছোট নিষ্পাপ বাচ্চা গুলো লিনাকে আন্টি ডাকতো। বড্ড ভালো বাসতো লিনাকে। লিনা যেন তাদের আরেকটা মা। শোকে লিনা পাগলের মতো হয়ে গেসে। একজন তুখোড় র‍্যাম্প মডেল ও স্টাইল ডিরেক্টর হয়ে স্টোরি দিসে - " দেশ জুড়ে শোকের ছায়া, আর এর ভেতরে কনসার্ট, আমরা জাতী হিসেবে কতটা অমানবিক এটাই তার প্রমাণ "।

শোকে লিনার মতো নিবেদিত প্রাণ একজন ভুলেই গেসে সে একজন শিল্পী। শিল্পীদের সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করলে চলবেনা। সম্ভবত এটাই তার দেয়া একমাত্র স্টোরি যেটাতে আমার কোন রিয়েক্ট নেই। সে আমার অতি আপনজন। আমার যে কষ্ট হচ্ছেনা তা নয়। কিন্তু একজন শো অরগানাইজার হিসেবে আমি জানি - এক বছর ধরে একটি প্ল্যান করতে হয়, ভ্যানু নির্ধারণ, শিল্পী দের অগ্রীম বুকিং, সাউন্ড, লাইট, ইভেন্ট, ডেকোরেশন, শিল্পী, কলা কৌশলী, আয়োজক কমিটি সব মিলিয়ে ২০০-৩০০ মানুষ রুজি রুটির ব্যবস্থা হয় একটি শো/কনসার্ট থেকে।

তাই হুট করে একটা শো অফ করে দেয়া যায়না। মনে আছে? লেজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু যেদিন মারা গিয়েছিলেন, সেদিন জেমসের কনসার্ট ছিল। জেমস স্টেজে উঠে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেদিন জেমস স্টেজে ওঠার পর ১ম ১০ মিনিট গিটার থেকে কান্নার সুর বেরিয়েছে। জেমস সেদিন প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে স্টেজে ওঠে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। স্টেজে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন - " এই শো টা করতাম না, একদিন বাচ্চু ভাই এর সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথায় কথায় বাচ্চু ভাই বলেন - 'শো' মাস্ট গো অন"।

বেলি রোডে আগুনে পুড়ে যারা মারা গেসেন - আমরা সবাই তাদের দু:খে দু:খি। কিন্তু তার কারণে কনসার্ট টা বাতিল হয়ে যেত, তাহলে ৩০০ জন মানুষ রোজগার করতে পারতনা। আর একটি শো হুট করে বন্ধ করে দিলে শিল্পী এবং আয়োজক উভয়ের ক্ষতি হয়ে যায়। বেলি রোডে যখন আগুন লাগছে তখন সকলেই উদ্বীগ্ন ছিল, সকলের মন খারাপ, নিহতিদের জন্য সকলেই শোকাহত - কিন্তু তাই বলে কনসার্ট অফ করে দিতে হবে কেন? সুদ খোররা সুদ না খাওয়া, পাপীরা পাপ না করা, ইত্যাদি থেকে বিরত ছিল? ধরে নেই সেদিন একটি গায়ে হলুদ ছিল। সে গায়ে হলুদে নাচানাচির আয়োজন করা হয়েছিল।যাদের গায়েদ হলুদে নাচানাচি করার প্ল্যানিং ছিল তারা কি তা বাতিল করছে? করেনি? তাহলে যারা কনসার্টে গান গাইছে, নাচছে, ফান শোনছে তাদের তিরস্কার করা হবে কেন?

বেলি রোডে আগুন লাগা ভবনে কিছু লোক ঢুকছিল মুবাইল চুরি করতে। একটা শিশু তাদের দিকে হার বাড়িয়ে ছিল বাঁচাতে। চোরের দল বাঁচায়নি। মুবাইল চুরিতেই ব্যস্ত ছিল।

ভেলি রোডে আগুনে পুড়ে এত গুলো মানুষ মারা যাওয়ার সাথে কনসার্ট বা বিপিএল ফাইনাল এর প্রসঙ্গ টানা কি ঠিক? ব্লগাররা কি ভাবছেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:৪৫
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×