
প্রথমে ছবিটি দেখুন। আরও ভালো করে দেখুন। হাসি খুশি একটি পরিবারের সাথে রেস্টুরেন্টে খেতে বসে ছবি তুলেছে লিনা। ছবিটি মাত্র ২৫ দিন আগের। কি সুন্দর! নির্মল হাসি। কি সুখী পরিবার। দেখলে মন ভরে যায়। আসলে পরিবারের সবার হাসিমুখ দেখার মতো আনন্দ আর নেই। কিন্তু প্রকৃতি অনেক নিষ্টুর। বিখ্যাত এক লেখক বলেছেন - "ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাঁকে খুঁজিয়া পাওয়া যাবেনা"
খেয়াল করলে দেখবেন আপনি দুখ বা মনোকষ্ট পেলে ক্ষত, হতাশায় থাকলে, জালেমদের কিছু না হলে, অসাহায় দুর্বলরা মারা খেলে "ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাঁকে খুঁজিয়া পাওয়া যাবেনা " কথাটা মনের অজান্তে বের হয়ে আসে।

এইবার এই ছবিটি দেখুন। চেনা যায়? প্রথম ছবির মা নাজিয়া আর তার কলিজার টুকরা ২ সন্তান বেলি রোডে ২ দিন আগে আগুনে পুড়ে মারা গেসে।

অরিজিনাল ছবিটি দেখুন লিনার তুলা যা প্রথম আলোকে দেয়া হয়েছে।
এই ছোট ছোট নিষ্পাপ বাচ্চা গুলো লিনাকে আন্টি ডাকতো। বড্ড ভালো বাসতো লিনাকে। লিনা যেন তাদের আরেকটা মা। শোকে লিনা পাগলের মতো হয়ে গেসে। একজন তুখোড় র্যাম্প মডেল ও স্টাইল ডিরেক্টর হয়ে স্টোরি দিসে - " দেশ জুড়ে শোকের ছায়া, আর এর ভেতরে কনসার্ট, আমরা জাতী হিসেবে কতটা অমানবিক এটাই তার প্রমাণ "।
শোকে লিনার মতো নিবেদিত প্রাণ একজন ভুলেই গেসে সে একজন শিল্পী। শিল্পীদের সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করলে চলবেনা। সম্ভবত এটাই তার দেয়া একমাত্র স্টোরি যেটাতে আমার কোন রিয়েক্ট নেই। সে আমার অতি আপনজন। আমার যে কষ্ট হচ্ছেনা তা নয়। কিন্তু একজন শো অরগানাইজার হিসেবে আমি জানি - এক বছর ধরে একটি প্ল্যান করতে হয়, ভ্যানু নির্ধারণ, শিল্পী দের অগ্রীম বুকিং, সাউন্ড, লাইট, ইভেন্ট, ডেকোরেশন, শিল্পী, কলা কৌশলী, আয়োজক কমিটি সব মিলিয়ে ২০০-৩০০ মানুষ রুজি রুটির ব্যবস্থা হয় একটি শো/কনসার্ট থেকে।
তাই হুট করে একটা শো অফ করে দেয়া যায়না। মনে আছে? লেজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু যেদিন মারা গিয়েছিলেন, সেদিন জেমসের কনসার্ট ছিল। জেমস স্টেজে উঠে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেদিন জেমস স্টেজে ওঠার পর ১ম ১০ মিনিট গিটার থেকে কান্নার সুর বেরিয়েছে। জেমস সেদিন প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে স্টেজে ওঠে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। স্টেজে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন - " এই শো টা করতাম না, একদিন বাচ্চু ভাই এর সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথায় কথায় বাচ্চু ভাই বলেন - 'শো' মাস্ট গো অন"।
বেলি রোডে আগুনে পুড়ে যারা মারা গেসেন - আমরা সবাই তাদের দু:খে দু:খি। কিন্তু তার কারণে কনসার্ট টা বাতিল হয়ে যেত, তাহলে ৩০০ জন মানুষ রোজগার করতে পারতনা। আর একটি শো হুট করে বন্ধ করে দিলে শিল্পী এবং আয়োজক উভয়ের ক্ষতি হয়ে যায়। বেলি রোডে যখন আগুন লাগছে তখন সকলেই উদ্বীগ্ন ছিল, সকলের মন খারাপ, নিহতিদের জন্য সকলেই শোকাহত - কিন্তু তাই বলে কনসার্ট অফ করে দিতে হবে কেন? সুদ খোররা সুদ না খাওয়া, পাপীরা পাপ না করা, ইত্যাদি থেকে বিরত ছিল? ধরে নেই সেদিন একটি গায়ে হলুদ ছিল। সে গায়ে হলুদে নাচানাচির আয়োজন করা হয়েছিল।যাদের গায়েদ হলুদে নাচানাচি করার প্ল্যানিং ছিল তারা কি তা বাতিল করছে? করেনি? তাহলে যারা কনসার্টে গান গাইছে, নাচছে, ফান শোনছে তাদের তিরস্কার করা হবে কেন?
বেলি রোডে আগুন লাগা ভবনে কিছু লোক ঢুকছিল মুবাইল চুরি করতে। একটা শিশু তাদের দিকে হার বাড়িয়ে ছিল বাঁচাতে। চোরের দল বাঁচায়নি। মুবাইল চুরিতেই ব্যস্ত ছিল।
ভেলি রোডে আগুনে পুড়ে এত গুলো মানুষ মারা যাওয়ার সাথে কনসার্ট বা বিপিএল ফাইনাল এর প্রসঙ্গ টানা কি ঠিক? ব্লগাররা কি ভাবছেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



