somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ গোফরান
জামাত শিবির,ধর্মান্ধ মোল্লা ও একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বিদ্বেষী মুক্ত ব্লগ।আপনার প্রতি আমি কেমন ব্যাবহার করব তা আপনার আচরণের উপর নির্ভর করবে।সত্য মিথ্যা যাচাই না করে অন্যের কথার উপর ভিত্তি করে যদি আমার উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন,তাহলে আমার বন্ধু হওয়ার দরকার নেই।

ধর্মের ভয়ে পেশার মধ্যে হালাল হারাম টেনে নিজের ক্ষতি করবেন না। প্রতিটি প্রফেশনই সম্মানের।

০৬ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


[আপনি যদি ধর্মের প্রতি দুর্বল হয়ে থাকেন,তবে পোস্টটি পড়বেন না, কারণ এই পোস্ট আপনার ভালো লাগবেনা।মেজাজ খারাপ হবে]
কথায় আছে অনেক সময় জীবন আপনাকে যা চাচ্ছেন তা দিবেনা, এই কারণে নয় যে, আপনি সেটা ডিজার্ভ করেন না, না দেয়ার কারণ হলো আপনি যা চাচ্ছেন তার চেয়েও অনেক ভালো কিছু আপনার জন্য বরাদ্দকৃত। আজ একটি হৃদয় ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া মেয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলবো। যা গল্প বললে ভুল হবে। বরং চরম বাস্তবিক এক সত্য কাহিনি।

ধরে নেই একটি মেয়ের নাম জুঁই । সে ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন দেখেছে অনেক বড় উদ্যোক্তা হবে। কিন্তু তার পরিবার চেয়েছিল সে গতানুগতিক ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে। তার এক ফুফাতো ভাই ডাক্তার, ফলে ফুফির ভাবের ঠেলায় জুই এর মাও প্রতিজ্ঞা করেছে মেয়েকে ডাক্তার বানাবেই। চট্টগ্রামের মানুষ বড়ই অদ্ভুত।এখানে ঈদের সময় কে কার চেয়ে বেশি ড্রেস কিনতে পারবে, কোরবানি ঈদের সময় কে কার চেয়ে বড় গরু কিনতে পারবে, বিয়ের অনুষ্ঠান কে কার চেয়ে বেশি জমকালো করতে পারবে তার বিশ্রী এক প্রতিযোগিতা চলে।

জুই বরাবরই ক্রিয়েটিভ ও মেধাবী।কিন্তু মায়ের ফুফাতে ভাই এর চেয়েও বড় ডাক্তার হওয়ার নেশা তাকেও পেয়ে বসে, ফলে সে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। ইংলিশ মিডিয়াম থেকে এস এস সি কমপ্লিট করা একটি মেয়ে ডাক্তার হওয়ার নেশায় মরিয়া! খুব কম দেখছি। জুই এক পর্যায়ে বুঝতে পারল সব কিছু সবাইকে দিয়ে হয়না। তাই সে একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। কম্পিউটার সাইন্সে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে অত্যান্ত ভালো রেজাল্ট করে এখন সে সেই ইউনিভার্সিটির শিক্ষিকা! ভাবা যায়!এমনকি তার একটি নিজস্ব কোচিং সেন্টার আছে। সেখানে ১০০ এর মতো ছাত্র ছাত্রী কোচিং করে। পি এচ ডির জন্য ইউ এস এ এল্পায় করছে। আইএল্টিএস ৮ পাইছে। এর মধ্যে তার বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ব্রেক আপ হয়। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জুই স্লিপিং পিল নেয়া শুরু করে। উজ্জ্বল সম্ভাবনাময়ী একটি নক্ষত্র হঠাৎ মেঘের আড়ালে চলে গেল। তার মাল্টি মিলিওনিয়ার বি এফ চট্টগ্রামের এক ব্রান্ড এম্বাসাডর ও ইনফ্লুয়েঞ্চার এর রুপের প্রলোভনে জুঁই এর সাথে ব্রেক করে। এর পরবর্তী ১ বছর জুঁই এর সাজানো স্বপ্ন গুলো এলোমেলো হয়ে যায়!


এক বিয়ের অনুষ্ঠানে তার সাথে দেখা। ছোট ভাই এর ওয়েডিং ফটোগ্রাফি বিজনেজ। আমি ফ্যাশন ফটোগ্রাফি করি। কিন্তু ভাই এর প্রোগ্রাম প্রেশার থাকলে মাঝে মাঝে সাপোর্ট দেই।যেহেতু অনেক বড় লোকের বিয়ে ছিল ছবি হওয়া চায় ১০০% ক্লাসি। দায়িত্ব পড়ে আমার উপর। সেখানে জুঁই এর সাথে দেখা।জুঁই আমার ফ্রেন্ড লিস্টেও আছে। নিজ থেকে এসে বলছে - "ভাইয়া আমি একটা ফটোশুট করতে চায়", ওর এক্স বিফ যার সাথে আমার খুবই ভালো বন্ধুত্ব, তার কথা জিজ্ঞেস করলাম। ওর প্রসঙ্গ উঠলে জুঁই সব বলল। ঐযে মাতৃ ব্লাডে জেদ মিশ্রিত এখন সে মরিয়া সে অনেক জনপ্রিয় অনলাইন ইনফ্লুয়েঞ্চার ও ব্রান্ড প্রমোটার হবে। আর তার জন্য দরকার কিছু ভালো ছবি। খেয়াল করে দেখলাম মেয়েটা স্লিম ফিট। নিয়মিত জিম করে ও খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে কনসার্ন ফিটনেস দেখে বুঝা যাচ্ছে। নরমাল ছবি নিলাম দেখি সবার চেয়ে আলাদা। ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে পোজিং কিছুটা আয়ত্বে আনছে। ওর নিজে নিজে আয়ত্ত করা পোজিং কে প্রফেশনাল পোজিং টার্নওভার করার চেষ্টায় নীচে ছবি।দেখি একপ্রেশান খুবই ভালো।


আমি ফটোশ্যুট করলাম ১ দিন। আউটপুট মারাত্নক ভালো।আসলে প্যাশন এবং ডেডিকেশন থাকলে কেউ টেনে ধরে রাখতে পারেনা।ছবি গুলো ওর। দেখেই বুঝতে পারছেন। সে এখন শহরের জনপ্রিয় ৩ জন ইনফ্লুয়েঞ্চার এর মধ্যে একজন, রবির মতো ব্রান্ড এর টিভিসি মডেল, শহরের ২ জন শীর্ষ উপস্থাপিকার মধ্যে একজন। অসাধারণ ডান্স করে। খুব ভালো মানের ফ্যাশন মডেল। যে মাইয়ার লাইগা ওর বিএদ ওরে ছাইড়া চইলা গেসে ঐ মাইয়ারে জুঁই পাত্তাও দেয়না।

বিএফ ব্যাক করতে চাইছিল। চাঞ্চই দেয়নাই। সামনে আমেরিকা যাবে পি এইচ ডি করতেভ। ডাক্তার না হইলে কি হইছে ডক্টর তো সে হবেই। আমি ওরে কইছি ইউএসএতে ব্লগার চাঁদগাজী থাকে। উনার সাথে যেন মাস্ট দেখা করে।


আসলে শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য ৩ টা জিনিস দরকার:

১) অপমানিত হওয়া।
২) রিজেক্টেড হওয়া।
৩) প্রচন্ড জেদ


মানুষের জীবনের মধ্যে ধর্ম ঢুকে গেলেই স্বপ্ন শেষ। ধর্মের ভয়ে পেশার মধ্যে হালাল হারাম টেনে নিজের ক্ষতি করবেন না। প্রতিটি প্রফেশনই সম্মানের।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:৪৯
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ কোরআন সহজ করে দিলেও মুসলমান মতভেদে লিপ্ত হয় কোন কারণে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:৫২



সূরাঃ ৫৪, কামার ১৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৭। কোরআন আমরা সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বড় এবং দৃশ্যমান বিপর্যয় শুরু খালেদা জিয়ার হাত ধরে

লিখেছেন মিশু মিলন, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৪৯



একটা সময় লোকশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল যাত্রাপালা। পালাকাররা সামাজিক, ঐতিহাসিক, পৌরাণিক যাত্রাপালা লিখতেন। বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে মঞ্চস্থ হতো সেইসব যাত্রাপালা, মানুষ সারারাত জেগে দেখতেন। ফলে যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমরত্বের মহাকাব্যে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪


এই বাংলার আপসহীন মা কে
হারিয়ে ফেলাম শুধু মহাকাব্যে;
ধ্বনিত হবে এতটুকু আকাশ মাটিতে
আর অশ্রুসিক্ত শস্য শ্যামল মাঠে-
চোখ পুড়া সোনালি স্মৃতির পটে অপূর্ণ
গলাশূন্য হাহাকার পূর্ণিমায় চাঁদের ঘরে;
তবু আপসহীন মাকে খুঁজে পাবো?
সমস্ত কর্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×