somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বস্তাভরা সস্তা মুক্তিযুদ্ধ ও গরীবের ঘোড়া রোগ ।। গোলাম রহমান দূর্জয়

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৬ মার্চ দেশপ্রেম দেশপ্রেম খেলার আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীর ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো। আর এর আয়োজনে গোদের উপর বিষ পোড়ার মতো প্রচুর খরচা পাতি করা হলো। যখন জাতিয় প্যারেড গ্রাউন্ডে শতকোটি টাকা ব্যায়ে এই মহোৎসবের আয়োজন চলছিলো তখন আমি একটি প্রাইমারী স্কুলের ভাঙ্গা টিনের চালা আর ভাঙ্গা বেড়ার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অসহনীয় দূর্ভোগের মধ্যে পড়াশোনা করতে দেখেছি। আমি দেখেছি চরাঞ্চলে একটি সেতুর অভাবে সন্তান সম্ভবা প্রসব বেদনায় কাতর একজন মায়ের যথাসময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে না পারার দুঃসহ যন্ত্রনা। আমি দেখেছি তখন দেশের লক্ষ লক্ষ মসজিদের রাষ্ট্রিয় সুবিধা বঞ্চিত ইমাম মোয়াজ্জিনদের দূর্বিসহ যন্ত্রনার জীবন যাপনের চিত্র। কথা আছে, গরীবের ঘোড়া রোগ, যেখানে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসাবে আমাদের প্রয়োজন সমৃদ্ধির সাথে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। সেখানে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখা, তাও আবার আমরা দেশকে ভালোবাসি বিশ্ববাসিকে তার প্রদর্শন দেখিয়ে বিশ্বের দৃষ্টিতে আকর্ষন করা কতটা যৌক্তিক ছিলো আমি জানি না। তবে বিশ্বের মস্তিষ্ক বিকৃত মানুষ আর শিশু শ্রেনী ছাড়া সবাই বোঝে যে প্রত্যেক মানুষই তার দেশকে ভালোবাসে। একদিন ঘোষনা দিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইলেই দেশের প্রতি তার নাগরিক দায়বদ্ধতা শেষ হয় না। আমার কাছে আশ্চার্য লাগে যখণ একবিংশ শতাব্দির এই গ্লোবালাইজেশনে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো সভা, সেমিনার, মিটিং, মিছিল আর গলাবাজির রাষ্ট্রনীতি পরিহার করে কাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা দেশের নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকে শতভাগ দূরে থেকে রাষ্ট্র কাঠামোর যথাযথ প্রয়োজন থেকে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে বিশাল অংকের টাকা খরচ করে দেশ প্রেমের মহড়া করেছি। মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ স্বার্থকতা তখনিই হতো যখন দরিদ্রমুক্ত একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হতো। তখনিই মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের রক্ত স্বার্থক হতো যখন আমরা ২৩ বছরের পরাধীনতা আর বাক স্বাধীনতা বঞ্চিত সে জীবন থেকে শতভাগ বেরিয়ে আসতে পারতাম।
আমরা মুক্তিযুদ্বের চেতনাকে খুব ঢিলেঢালা ভাবে মনগড়া ব্যাখা দিয়ে নিজের স্ট্যান্টবাজিকে চরিতার্থ করছি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্বাধীনতা ব্যবসায়ীদের এই অপরাজনীতি বন্ধ হওয়া দরকার। তরুন প্রজন্ম এসব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসায়ী গলাবাজদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। দেশের কোটি কোটি তরুনের ভীড়ে মাত্র দুই লক্ষাধিক তরুনের উচ্ছ্বাস আর আবেগকে টাকা দিয়ে ক্রয় করলে এটাকে তরুন প্রজন্মের সমর্থন বলা যায় না। নোয়াখালীর চরাঞ্চলে অথবা রংপুর,দিনাপুর, ময়মনসংহের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দিনমজুর শ্রেণীর মানুষগুলো বিশেষ মৌসুমে দেশের অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধ অঞ্চল গুলোকে কাজ করতে আসে। যাদের দৈনিক হাজিরা অঞ্চল ভেদে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। গড়ে ২০০ টাকা ধরা যাক। আমাদের জাতীয় সংগীতের নামে যে লোক দেখানো উৎসব হলো সেখানে লোকমুখে শুনেছি ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যদি তাই হয় তাহলে ২০০ টাকা করে লেবার কিনে যদি এ অনুষ্ঠান করা হতো তবে ৫০ লক্ষের মতো লোক হতো। আমি এই উদাহরন দিয়ে আমাদের জাতীয় সংগীত বা প্যারেড গ্রাউন্ডে যারা এসেছে তাদের মূল্যবোধের প্রতি অশ্রদ্ধা করছি না এবং এটাই বোঝাতে চাচ্ছি যদি এতটা উচ্চ বিলাসি বাজেট দিয়ে একটা অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয় তাহলে তা টাকা দিয়ে মানুষ কিনে রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশের মতো করা যেতে পারে এটা অন্তত বিশ্ববাসী বোঝে। তাহলে এই বিশ্বরেকর্ডের যথার্থতা কি?
বিশ্ব রেকর্ড করার মতো যথেষ্ট ক্ষেত্র আমাদের দেশে ছিলো কিন্তু সে জন্য আমাদের কোন বিশেষ কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। দারিদ্রমুক্ত দেশ, উন্নয়ন সৃমদ্ধ দেশ এই সব কমন কথা বাদই দিলাম প্রাকৃতিক ভাবে রেকর্ড করার মতো যে সব উপকরণ আমরা পেয়েছি যেমন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন সহ বিভিন্ন সম্পদময় অথবা সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প অথবা সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ যা একটু সদিচ্ছা আর সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে খুব সহজে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি একটি উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে শেখাবে। আমরা সেদিকে নজর না দিয়ে গোদের উপর বিষ পোড়ার মতো কখনো সস্তা দেশপ্রেম দেখাতে আমরা তরুন প্রজন্মকে একটা অংশকে ব্যবহার করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করি।
এবার আসি ২য় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বিকৃতি পাওয়ার সস্তা ও নির্লজ্জ এই প্রতিযোগিতার অবাক মহড়ার কথা। এ বিষয়ে গত ৩০ মার্চ সামাজিক গণমাধ্যমে তরুন বিশ্লেষক আনোয়ার বারী পিন্টু ‘লেইস ফিতা লেইস’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বিষদ বর্ণনা দিয়েছেন। আমি তার সাথে সুর মিলিয়ে বলবো, প্যারেড গ্রাউন্ডে দাড়িয়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে সাথে খাবারের প্যাকেট পেয়ে অথবা মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট পাওয়া আর আমাদের মুুক্তিযুদ্ধ এক নয়। বরং কিছু মস্তিষ্ক বিকৃত সংস্কৃতি কর্মীর গাঁজাখুরী চিন্তার ফসল হয়তোবা।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×