somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃখিত বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার সম্মান আসেনা।

০৭ ই মার্চ, ২০১২ সকাল ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি স্বাধিনতা যুদ্ধ দেখিনি। শুনেছি, পড়েছি, দেখেছি এবং মিশেছি সেই সব লোকদের সাথে যারা সরাসরি স্বাধিনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন। এছাড়া যারা স্বাধিনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলেন তাদেরকে দেখার ও চিনার সৌভাগ্য হয়েছে।

স্বাধীনতা। বাঙ্গালীর স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা। যার সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িত একটি নাম। বলা যায় একটি একক নাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। যার হাত ধরে বাঙ্গালী পেয়েছিল একটি পতাকা। একটি সীমানা। সার্বভৌমত্বের লিখিত দলিল। পেয়েছিল জাতিসংঘে একটি আসন। ওআইসি এবং অন্যান্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘের একটি স্বাধীন দেশের জন্য বরাদ্ধকৃত আসন। যার জন্য বঙ্গবন্ধু ঘোসিত হয়েছেন অবিসংবিধিত নেতা হিসেবে। বাংলার প্রানের নেতা। বাংলার মাটি ও মানুষের নেতা। কিন্তু আশ্চর্যজনক সত্য হলো আমার তার প্রতি সম্মান আসেনা। আসে শুধুমাত্র কিছুটা করুনা। আর এই করুনার কারনেই আমি তাকে বঙ্গবন্ধু বলতে বাধ্য হচ্ছি।

কিন্তু কেন্? হ্যঁ। একথা অস্বীকার করার কোন যুক্তি নেই যে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই এদেশে এসেছে স্বাধীনতা। কিন্তু আমরা এই বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে স্বাধীনতা পরবর্তীতে কি পেয়েছি? সেখানে কি গর্ব করার মতো এমন কিছু পেয়েছি? নাকি পেয়েছি লজ্জা, আতঙ্ক, ভয়? যে সার্বভৌমত্বের জন্য আমরা স্বাধীন হয়েছি সে সার্বভৌমত্ব দিনে দিনে কাগুজে দলিল হতে থাকল। মুক্তির সুধা পান কররা পরিবর্তে চোখের জলে ভাসতে হয়েছে অজস্র মা, বাবা, সন্তান ও প্রিয়তম স্ত্রীদের যারা রক্ষীবাহীর নির্মম নির্যাতনের স্বীকার যা পাকিস্থানী হায়নাদের থেকে কোন অংশে কম নয়। পাকিস্থানি হায়নারা এদেশের মানুষদের মেরেছিল গুলি করে অথবা আকাশ থেকে বোমা মেরে। কিন্তু রক্ষীবাহীনির হায়নারা মেরেছে বেয়োনেটের আঘাতে, চাকু দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে, সমস্থ শরীরে লবন দিয়ে। উহ! কি বিভৎস।

বঙ্গবন্ধুর আরেক ছেলের নেতৃত্বে হয়েছে আরেক বাহিনী। যা এক লজ্জাজনক অধ্যায়। যার স্বীকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সুন্দরী নারী থেকে শুরু করে এমনকি আর্মি অফিসারদের স্ত্রী পর্যন্ত। অজস্র চুরি, ডাকাতি, ব্যাংক লুট সহ এমন কোন দিক ছিলনা যেখানে তার ছেছড়ামি পৌঁছায়নি।

১৯৭৩ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচন যা পৃথিবীর ইতিহাসে ছিল সবচেয়ে জগন্য নির্বাচন। জেলা পরিষদ আইন যাকে সর্বনিকৃষ্ট ছাড়া অন্য কিছু বলা যায়না। আসল ১৯৭৪ সাল। চারিদিকে হাহাকার। দুর্ভিক্ষ। অগুনিত মানুষের লাশ। শকুনের উৎপাত। কাক ও কুকুরের আনোন্দ উল্লাশ। আমাদের মুক্তির সুধা পূর্ন করতে হয়েছিল মৃত্যু ক্ষুধায়।

১৯৭৫ সাল। যার সাথে জড়িত এদেশের মানুষের মুখের স্বাধীনতা। যে গনতন্ত্রের জন্য দেশ স্বাধীন হয়েছিল সে গনতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করলেন বঙ্গবন্ধু নিজে। প্রতিষ্ঠিত করলেন বাকশাল। বন্ধ করে দিলেন মত প্রকাশের সকল মাধ্যম।

নাহ আর লিখবনা। ঠিক জানিনা আজকের এইদিনে এই পোষ্টকি করা উচিৎ হয়েছে কিনা। জানি না লিখাটির ভবিষ্যত কি? বা প্রতিকৃয়াই বা কি? তবে আল্লাহকে ধন্যবাদ যে আজ বঙ্গবন্ধু নেই। আজ যদি তিনি থাকতেন তবে এদেশে অন্তত এই ব্লগিং এর সুযোগ থাকতোনা আর আমার পক্ষে এই লিখাটি লিখা কিছুতেই সম্ভব হতোনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১২ সকাল ১১:০০
৩৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×