somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোলাম আযম সমাচার- একটি সাদামাট বিশ্লেষণ

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েকদিন ধরে একটাই আলোচনা। কি পত্রিকা, কি মিডিয়া, কি ব্লগ অথবা ফেসবুক-টুইটার। তা হলো গোলাম আযম। কেউ তাকে আখ্যায়িত করছে রাজাকারের শিরোমনি, কেউ জামাতের আধ্যাত্নিক নেতা, কেউ বলছেন উপমহাদেশের ওহাবিজমের দ্বিতীয় গুরু। আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক- বিতর্কে ভরপুর এই লোকটাকে নিয়ে। স্বাধিনতাউত্তর এত আলোচনা- সমালোচনা হয়তবা আর কাউকে নিয়ে হয়নি। লোকটি মারা যাওয়ার পর এর মাত্রা বহুগুনে বেড়েছে।

প্রগতিবাদিরা বলছে তাকে এদেশে কবরস্ত করার অধিকার নেই। তার জন্য উত্তম জায়গা পাকিস্থানে। এজন্য একজন সাহসী তরুন তার প্রতি ঘৃনার জুতা নিক্ষেপ করেছেন তার প্রতিবাদের স্থান থেকে। এদেশের মুসলমাদের মধ্যে একটি কথার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। আর তা হলো ব্যঙের মুত্র শরিরে লাগলে অপবিত্র হয়না। কারন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে নমরুদ যখন আগুনের কুন্ডুলিতে নিক্ষেপ করল তখন এই ব্যাঙ আগুন নিভানোর জন্য প্রসাব করেছিল। সেই থেকে ব্যাঙের মুত্র ইসলামী ইতিহাসে এক মহান স্থান লাভ করলো। আমার কাছে ঐ তরুনের প্রচেষ্টা সে-রকমই মনে হলো। তিনি যদি তার জুতা খানি পান তবে সেটা সযত্নে রেখে দিতে পারেন অদূর ভবিষ্যতে হয়তবা সেটা কোন জাদুঘরে স্থান পাবে।

গোলাম আযমের জানাযা নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক। কেন এত লোক হলো। আমি নিজেও বিস্মিত। আশে-পাশের জিলা থেকে কিছু লোক আসবে এটাই স্বাভাবিক। সরকার ও কিছু অসস্থিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইবে এটাও স্বাভাবিক। জামাত থেকেও এই আশঙ্কা করা অমুলক নয়। সেরকম কিছু ঘটেছেও। যেমন সেদিন সকালে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সহ ৬৪ জন নেতা কর্মীকে পুলিশ এ্যরেষ্ট করেছে। ভাবছিলাম আলালের নিজশ্ব কর্মী অথবা ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা এ নিয়ে কোন হই- হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে যাতে পুলিশ একশনে যায় এবং গোলাম আযমের জানাজায় লোক সমাগম কম হয়। কিন্ত বিএনপি বা তার দল এ ব্যাপারে শুধু মাত্র একটি সংবাদ সম্মেলন করেই তাদের দায় সেরেছে। এছাড়া যুবলীগ বা ছাত্রলীগের কর্মীরা বায়তুল মোকাররম এলাকায় মিছিল করেছে এবং সেখানে ককটেল ফাটিয়েছে। সংখ্যায় তারা নগন্য হলেও জামাত শিবিরের কর্মীরা সেখানে কোন হস্তক্ষেপ করেনি ফলে জানাজার আনুষ্ঠানিকতায় কোন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ককটেল বিষ্ফোরনের পরে ভেবেছিলাম লোক হয়তবা কম হবে।

কিন্তু আমার ধারনাকে নিজেই আস্তাকুরে নিক্ষেপ করতে হলো। জামাতিরা এখন ব্যাপক ভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রচারনাটি করছে তা হলো শেখ মুজিবের জানাজায় এর সিকি ভাগ লোকও হয়নি। জিয়াউর রাহমানের জানাজায় এর চেয়ে কম লোক ছিল। অদূর ভবিষ্যতে শেখ হাসিনা অথবা খালেদা জিয়া মারা গেলেও তাদের জানাজায় এত লোক হবেনা। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রতিটা ইউনিয়নে এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশে গো-আযমের গায়েবানা জানাজা হয়েছে। আসলে জামাত বা গোলাম আযমরা শুধু বাংলাদেশ নিয়ে রাজনীতি করেনা তারা বিশ্ব রাজনীতির একটি অংশ। তাদেরকে মুছে ফেলতে চাইলে বিশ্ব রাজনীতির পট-পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। শুধু যুদ্ধাপরাধী বা ছাগু বলে চিল্লালে হয়তবা কিছুটা মানষিক প্রশান্তি পাওয়া যাবে কিন্তু তাদের শিকরের ব্যাপকতা কমানো যাবেনা।

আমার বিল্ডিংয়ে একজন ব্যারিষ্টার বাস করেন। একবোরেই সাদামাটা মানুষ। কোন রাজনীতিতেে নেই। তিনি রাতে আমাকে জানালেন তিনিও জানাজায় অংশ নিয়েছেন। কেন গিয়েছেন জিজ্ঞেস করলে বলল-নিজেকে ইতিহাসের অংশ বানালাম। জিজ্ঞেসিলাম কিভাবে? বললেন বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা স্পষ্ট অদূর ভবিষ্যতে এরাই রাজনীতিকে ডমিনেট করবে। আমার বন্ধু তামিম-দেখতেও যেমন মোটাসোটা, কথায়ও তেমনি। খালেদা জিয়ার একনিষ্ট ভক্ত। একটি বে সরকারী ব্যাংকে চাকুরী করে সেও জানানজায় গিয়েছে। খুবই আশ্চর্য হলাম। জিজ্ঞেস করলে বলল- এই সরকার হটাতে হলে জামাত ছাড়া বিকল্প নেই। এই সরকারকে ঘৃণা করি বলেই জানাজায় গিয়েছি।

হ্যাঁ এভাবেই আমরা না চাইলেও দিন পরিবর্তন হয় বা হচ্ছে। বর্তমানে অনেক কমোডররাও জামাতের তল্পিবাহকের কাজ করছে। সুতারং আদর্শের মোকাবেলায় আদর্শই হচ্ছে উত্তম হাতিয়ার। তাই এই গোলাম আযমদের সম্পর্কে জানা এবং এদের ব্যাপারে আমাদের সন্তানদের সাবধান করা দরকার।

এখন গোলাম আযম নেই। সুতারং তার ভবিষ্যত কর্মকান্ড নিয়ে সামালোচনা করার কোন উপায় নেই। তবে আমরা তার রাজনৈতিক কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতে পারি। এজন্য তার লিখিত বইগুলো হতে পারে অনন্য হাতিয়ার। এগুলো পড়ে এখানে লিখিত তাদের কর্মসূচীগুলোর ব্যাপারে আমদের বন্ধুদের ও সন্তানদের সাবধান করে হয়তবা এদের অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যহত করতে সক্ষম হব।
১৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×