somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অর্থমন্ত্রীর অর্থবোধক হাসি ও ৭৫ টাকার গুমোট কান্না

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিংকি ও ইতি দু'বোন। আমার টিউশনি লাইফ শুরু ওদের দিয়ে এবং শেষ ও ওদের দিয়ে। দু'জনই একই শ্রেনীতে পড়তো। প্রচন্ড মেধাবী ও পড়ালেখার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ। ফলে প্রতি ক্লাশেই ১জন প্রথম তো অন্যজন দ্বিতীয়। মাঝখানে হঠাৎ দূর্ঘটনা। অষ্টম শ্রেনীতে ওঠার পরই মা মারা যায়। স্বভাবতই বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের কারনে ওরা খুব অসহায় হয়ে পড়ে। কিন্তু ওদের অদম্য ইচ্ছেশক্তি ওদেরকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এস,এস,সি এবং এইচ, এস, সি তে এ+ পায়। রিংকি সাউথ-ইষ্ট ইউনিভার্সিটিতে ল তে ও ইতি ভর্তি হয় আইআইইউবিতে বিবিএ। ওরা যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ছে তখন থেকেই টিউশনি করে নিজেদের পড়ার খরচ নিজেরাই মিটায়। এখনো ওদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্হখরচ ওদেরই যোগার করতে হয়। একজন গ্রামীনফোনে পার্ট টাইম চাকুরী করে আর অন্যজন টিউশনি ও কোচিং পড়িয়ে খরচ চালায়।

আমার চাচাতো বোন যখন দুই দুইবার মেডিকেলে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেলনা তখন সে মুসরে গেল। রুমের দড়জা বন্ধ করে শুধু কাঁদতে থাকতো। আমার কাকা কাকী কোন উপায় বের করতে পারলোনা। অবশেষে বাড়ির কিছু জমি ও কাকীর জমানো গহনা বিক্রি করে ওকে একটি প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি করিয়ে দেয়। যদিও বোনটি আমার কাকা কাকীকে কথা দেয় তার টিউশন ফি সে নিজেই জোগার করবে। ঠিক তেমনি আমার বন্ধুর বড় ভাই যখন মারা যায় তখন আমার বন্ধুর হাত ধরে বলেছিন "আমার ছেলেটিকে ডাক্টার বানাইস"। প্রচন্ড মেধাবী সেই ভাতিজাটি মেডিকেলে চান্স পায়নি। আমার বন্ধু ঠিকই তাকে প্রাইভেটে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে।

একটি ছেলে/মেয়েকে মেডিকেলে পড়াতে নূন্যতম ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা লাগে। এছাড়াও বিবিএ পড়ার জন্য ৭ থেকে ১২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। অভিবাবকরা এই অর্থ যোগান দিতে গিয়ে তার জীবনের সকল সুখ বিসর্জন দেয়। স্বভাবত কারনেই অভিভাবকগন এই আশা পোষণ করেন যে, সরকার মহোদয়গন অবশ্যই এই কাবুলিওয়ালাদের নিয়ন্ত্রন করবেন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সহজলভ্য করবেন। সকলের জন্য সমান শিক্ষা নিশ্চিত করবেন।

আমি মূলত: টিভি বা এর খবর খুব একটা দেখিনা। এখন সব টিভিই বিটিভি। তবুও গতকাল্য খাওয়ার সময় অর্থমন্ত্রীর দেয়া সংবাবিকদের সাথে কথোপকথোন চোখে পড়ল। হাস্যোজ্জল অর্থমন্ত্রী তার অভিজ্ঞতা এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে তার গবেষণার বর্ননা করতে লাগলেন। তিনি বললেন যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ালেখা করে তারা সমাজের উচ্চশ্রেনীর নাগরিক। এসব শিক্ষার্থিরা মাসে ৩০,০০০/- টাকা এবং দৈনিক গড়ে ১০০০/- করে খরচ করেন। তার থেকে তিনি মাত্র ৭৫ টাকা চেয়েছেন। এসময় তার মুখে স্বভাবসূলব হাসির চেয়ে উচ্চমাত্রার হাসিই চোখে পরে।

আমি সবিনয়ে জানতে চাই, মাননীয় অর্থমন্ত্রী এদেশের উচ্চবিত্তের কতজন এদেশে পড়ালেখা করে তার কি সঠিক কোন পরিসংখ্যান আপনার কাছে আছে? হয়তবা সর্বোচ্চ ৫ কি ৭ পারসেন্ট পাবেন। এর বেশী নয়। উচ্চবিত্তরা আপানাদের তৈরিকৃত কদর্য রাজনৈতিক সমাজে নিজের ছেলেমেয়েদের ভবিষত নষ্ট করতে চাননা। যারা মধ্যবিত্ত অথবা নিম্নমধ্যত্ত শ্রেনীর কিন্তু খায়েশ অনেক বেশী তারাই শুধু তাদের সন্তানদের অনন্যপায় হয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রী মাত্র ৭৫ টাকা চাইলেন। যাকে ২০ - ২২ লক্ষ টাকা টিউশন ফি দিতে হবে সে মোট কত টাকা ভ্যাট দিবেন?

রিংকি - ইতির এই ভ্যাটের অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে আসবে। অথবা আমার কাকা যিনি জমি বিক্রি করে মেয়ের পড়ার খরচ যোগাচ্ছেন তিনি এই টাকা কোথায় পাবেন অথবা আমার বন্ধুটি যে তার ভাতিজাকে পড়াতে গিয়ে এখনো বিয়ে করতে পারেননি তিনি এই অতিরিক্ত অর্থ কোথায় পাবেন মানীয় অর্থমন্ত্রী একটু বলবেন কি?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:৩২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×