জার্মানি ১-৩ আর্জেন্টিনা
অবশেষে ২০১০ সালের বিশ্বকাপে ৪-০ গোলে ধর্ষিত হবার প্রতিশোধ নিলো আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল গতকাল জার্মানিকে নিজেদের মাঠে হারিয়ে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুট স্টেডিয়ামে ৪৮০০০ দর্শককে হতাশই করে দিলো কোকেন ম্যারাডোনার দেশের খেলোয়ারেরা।
জার্মানি "বি" দলের সাথে নিজেদের সামর্থের পুরোটা ঢেলে দিলো আর্জেন্টিনা। বিশেষত মেসি!! পেনাল্টি মিস করার পরও হিগুয়াইনের পাস থেকে গোল দিয়ে প্রমান করেছে সে নিজের সামর্থ। এদিকে সার্জিও রোমেরোর জন্য একটি অন্যরকম দিন গিয়েছে গতকাল। বড় দলের বিপক্ষে ৩/৪ গোল হজম করাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করে ফেলা রোমেরো গতকাল তার ব্যক্তিগত বিভিষিকা জার্মানির বিপক্ষে গোল হজম করেছে মাত্র ১টি। তাই খেলার শেষে নিজের আনন্দ আর চেপে রাখার চেষ্টা না করে সরাসরিই তিনি বললেন, "ভাবতেই অবাক লাগছে আজকে আমাদের জালে বল মাত্র ১বার বৈধভাবে প্রবেশ করেছে। হোক না জার্মানি "বি" দল, নিজেদের পারফর্মেন্সে আমি আসলেই মুগ্ধ।"
মূলত প্রীতি ম্যাচ বলে বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার, ফিলিপ লাম, ম্যানুয়েল ন্যয়ার, লুকাস পোডলস্কি ও মারিয়ো গোমেজ বিহীন দ্বিতীয় সারির দলই নামিয়েছিলো জার্মানির কোচ জোয়াকিম লো। কিন্তু আর্জেন্টিনা ছিলো লিউনেল মেসির অধিনে পূর্ণাঙ্গ এক দল। ভিন্নগ্রহের মেসি, অফসাইড হিগুয়াইন আর দুর্বল মারিয়া সব মিলিয়ে আক্রমনে ছিলো আর্জেন্টিনা বরাবরের মতই শক্তিশালী। খেলার শুরুতে একটু খাপছাড়া খেললেও ৩০ মিনিটে জার্মান গোলকিপার লালকার্ড প্রাপ্ত হবার পর যখন টমাস মুলারকেও লো উঠিয়ে নিলো তখন নিজেদের সেরা ফর্মটাই যে খুজে পেলো এই আর্জেন্টাইন ত্রয়ী। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে স্যামি খেদিরার আত্নঘাতি গোলেই প্রথমে আনন্দের জোয়ারে ভাসলো আর্জেন্টিনা। তারপর অবশ্য অন্য গ্রহের মেসি ও দুর্বল মারিয়ার সবল শটে আরো দুটি গোল পায় আর্জেন্টিনা। খেলার ৮১ মিনিটে জার্মানির দেওয়া গোলটা ছিলো শুধুই একটা আনুষ্ঠানিকতা আর এইটা প্রমান করা যে "জার্মানি ১০ জন নিয়া "বি" দল খেললেও আর্জেন্টিনাকে ১টা হলেও গোল দেয়। শুণ্য হাতে ফেরে না।"
খেলা শেষে জার্মানির গোলরক্ষক রন-রবার্ট-জিয়েলারের ভুয়সি প্রশংসা করলেন হিগুয়াইন। তিনি বললেন, "রন যদি ৩০ মিনিটে লাল কার্ডের ফাঁদে না পরতো তাহলে ম্যাচটা হয়তো এমন হতো না।" তবে লাম, শোয়েনি, গোমেজ আর ন্যয়ারের না খেলাটাও তাদের জয়ের নেপথ্যে অন্যতম কারন হিসেবেও তিনি অভিহিত করেছেন। ভিন্নগ্রহের প্লেয়ার মেসি বলেন, "৩০ মিনিটে পেনাল্টিটা মিস করা ছিলো আমার জন্য একটা দুঃস্বপ্নের মতো। বিশ্বাস করুন আমি খেলার আগে ৩০টা পেনাল্টি প্র্যাকটিস করেছি এবং সবগুলাতেই রোমেরোকে পরাস্ত করেছিলাম। এখন জার্মানির ৩ নম্বর গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগেন যদি রোমেরর চেয়ে ভালো কোয়ালিটির হয় তাহলে ভাগ্যকে দোষ দেওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।"
অন্যদিকে আর্জেন্টাইন কোচ আলেক্সান্দ্রো সাবেলা বলেছেন, "এই প্রীতি ম্যাচেই প্রমান হয় আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রতি কতটা পজিটিভ। জার্মানির বিপক্ষে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে আমরা ৩টি গোলও করেছি আর অন্যদিকে ওদের গোলও ঠেকিয়েছি। পারফর্ম্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকবে আশা করি। আর এই জয় ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শির্ষস্থানে থেকেই শেষ করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।" তবে তার হাসি যেন বাছাইপর্বে ব্রাজিলের না থাকার সুবিধার কথাটাও নির্দেশ করছিলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






