প্রথমেই বলে নেই আমি ছাব্বিশ বছর বয়সের এক যুবক। এই কিছুদিন আগেই ২৬তম জন্মদিন গেলো, সাতাশে রাখলাম পা। তো ছাব্বিশতম জন্মদিন শেষে পাওয়া না পাওয়ার খতিয়ানের জের গুলো দিয়ে জীবনেও রেওয়ামিল মেলানোর চেষ্টা করতেসিলাম। স্বপ্ন কিংবা শখ খুব বেশী অবাস্তব ছিলো না কখনোই। প্রায় সব চাওয়া গুলোই পাওয়া

হয়েছে এর মধ্যে। তবে অল্প যে কয়টা চাওয়া প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয় নি সেগুলো নিয়েই ভাবছিলাম। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করেই প্রত্যেক অপ্রাপ্তির মধ্যে এক অদ্ভুত যোগসূত্র আবিষ্কার করে ফেললাম।
জীবনের প্রথম অপ্রাপ্তি ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পাওয়া।

মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিকে আল্লার রহমতে ভালো ফলাফল করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং শুরু করলাম। ঢাকার মধ্যেই ঢাবি সহ আরেকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম তুললাম। ঢাবিতে ফেইল করলাম, আরেকটায় টিকে গেলাম। ঢাবি ফার্স্ট চয়েজ ছিলো স্বভাবতই। ফেইল করায় কষ্ট পেয়েছিলাম খানিকটা।
তারপরে দ্বিতীয় অপ্রাপ্তি ছিলো গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর পদে আবেদন করে প্রিলিমিনারি টেস্টেই আওট হয়ে যাওয়া। এইখানে উল্লেখ্য, Bangladesh Bank এর AD ছিলো আমার আবেদন করা ৭ম রিক্রুইটমেন্ট টেস্ট। এর আগের ছয়টা রিক্রুইটমেন্ট টেস্টেই আমি রিটেন পাশ করেছি। দুইটায় ভাইভা দিয়েছি। এবং দুইটাতেই চুড়ান্তভাবে মনোনিত হয়ে পছন্দমত একটায় জয়েন করে বর্তমানে কর্মরত আছি।
এরপরের অপ্রাপ্তি হলো এই বছর ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় ২টা সাবজেক্টে ফেইল করা। কোন রকমের অসুদোপায় অবলম্বন না করে আমি ৪টা সাবজেক্টে পাশ করে গেলেও দুইটা বিষয়ে করতে হয়েছে ফেইল।
এইবার আসি অদ্ভুত যোগসূত্রে, সবগুলো অপ্রাপ্তিতেই আমার পাশে ছিলো কোন না কোন রূপবতী বালিকা।

ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় আমার বেঞ্চে আমার পাশে ছিলো এক বালিকা। যদিও তার সাথে আমার একটা লাইন কথা হয় নাই। খুব সিরিয়াসলি পরীক্ষা দিসিলাম। এক নজর তাকায়েও দেখি নাই। খাতাও না, তারেও না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর পরীক্ষায়ও পাশে ছিলো এক সম্ভব রূপবতী বালিকা।

আমার মতোই সদ্যই MBA পাশ করে AD হবার আশায় পরীক্ষা দিতে এসেছিলো এটা জানতে পেরেছিলাম প্রাথমিক কথাবার্তায়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৪০ মিনিট আগে চলে যাওয়ায় বেশ কথাই হয়েছিলো তার সাথে। আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার কথা শ্রবণ করতেসিলাম, তার ঘন কালো লম্বা চুলের দিকে তাকায়ে মনে মনে চুল তার কবেকার অন্ধকার আওড়াইতেসিলাম।

কিন্তু পরীক্ষার সময় একটা কথাও হয় নাই। পরীক্ষার পর আবার কথা বলতে বলতে হেটে বের হচ্ছিলাম। অনেক কথার পর আসল এবং মর্মান্তিক কথা জানতে পারলাম। সে বিবাহিত ছিলো। মনটা ভাইঙ্গা গুড়া গুড়া হয়ে গেসিলো।

যাইহোক রেজাল্ট দিলো, দেখলাম লিস্টে নাম নাই। ব্যাংকিং ডিপ্লোমায়ও যে দুইটা পরীক্ষায় ফেল করেছিলাম অই দুইটাতেই পাশে AB Bank এ সদ্য জয়েন করা এক বালিকা ছিলো। তেমন কোন কথাবার্তা হয় নাই। রেজাল্টের পর দেখলাম অই দুইটায়ই ফেল করেছি।
অতঃপর, আমি উপলব্ধি করতে পারলাম যতবার আমি লাইফে অকৃতকার্য হয়েছি ততবার আমার পাশের বেঞ্চে কোন না কোন বালিকাই ছিলো। সুতরাং, নীলনদ সম দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমি বলতেই পারি
আমার বালিকা ভাগ্য অপ্রসন্ন...
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৮