somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রাম-শহরের বৈষম্য বাড়ছে শিক্ষায়ও

১৯ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এই ধরনের রেজাল্ট উৎসাহিত করে সবাইকে। কিন্তু একটু লক্ষ করলে দেখা যাবে, শহরের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাচ্ছে দুর্দম গতিতে, ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে গ্রামের শিক্ষার্থীরা।
মেধা থাকলেই আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না, যদি না সেটিকে পরিচর্যা করা হয়। এই পরিচর্যার দায়িত্ব একদিকে যেমন স্কুলের, অন্যদিকে বাড়িরও। স্কুলের দায়িত্ব শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে বিকশিত করে তোলা এবং পরিবারের দায়িত্ব মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীর বস্তুগত চাহিদা পূরণ করা। শহরের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আছে এই দুটি দিক থেকেই। গ্রাম ও শহরের মানুষের আয়বৈষম্য এতোটাই বেশি যে, যেখানে ছোটবেলা থেকেই শহরের শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত পুষ্টি, ভালো স্কুল, শিক্ষক ও অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এগুলো কল্পনাই করতে পারে না। রাজধানী ঢাকার নামিদামি স্কুল তো বটেই, রেজাল্টের দিক থেকে সাধারণ মানের স্কুলের একজন শিক্ষার্থীও নবম শ্রেণীতে ওঠার পর চার-পাঁচ জন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে। মফস্বল শহরগুলোতে এ ট্রেন্ড কিছুটা চালু হলেও গ্রামে তা এখনো বিলাসিতার পর্যায়ে।
অন্য অনেক কিছুর মতোই শিক্ষা এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে। সব বিষয়কেই পণ্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার মানসিকতা বেড়েছে আমাদের মধ্যে। শিক্ষাকে মনে করা হয় শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে। এই 'শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ' শব্দদুটি যদি কেবল উৎসাহব্যঞ্জক শব্দ হিসেবেই ধরা হতো, তাহলে হয়তো গ্রামের এমন করুণ চিত্র দেখা যেতো না। আগে যেমন শহরের পাশাপাশি গ্রামের স্কুল থেকে প্রচুর সংখ্যক কৃতি শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসতো, এখন আর তেমনটি হচ্ছে না। কারণ গ্রামে এখন শিক্ষার পেছনে 'বিনিয়োগ' হচ্ছে না। বাজার অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিক্ষাকে যদি কেবল বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারী চাইবে যে কোনোভাবে হোক বিনিয়োগ তুলে আনতে। আর যেহেতু শিক্ষার পেছনে রাষ্ট্রই এখন মূল বিনিয়োগকারীর ভূমিকা পালন করছে, তাই শিক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষ স্তর থেকে শুরু করে একেবারে গোড়া পর্যন্তই শিক্ষা যে ক্রমাগত পণ্যে পরিণত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এর প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×