
আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে রচিত আখ্যান "হাজার বছর ধরে" এর কথা আপনাদের মনে আছে কি?
বায়ান্নোর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত কথামালা "আরেক ফাল্গুন" এর কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাননি।
"বরফ গলা নদী" তে অর্থনৈতিক কারণে বিপর্যস্ত ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত পরিবারের যে অসহায়ত্ব গাঁথা হয়েছে সত্যি তা ভুলে যাওয়ার নয়। তেমনি ভুলে যাওয়া যায়না এই উপন্যাসগুলোর রচয়িতা জহির রায়হানকে।
জহির রায়হান একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রবাদপুরুষ।
1971 সালে জহির রায়হান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন । কলকাতায় তার নির্মিত চলচ্চিত্র "জীবন থেকে নেওয়া" বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয। সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের গণহত্যা বন্ধে তিনি নির্মাণ করেন "স্টপ জেনোসাইড"। এর মধ্য দিয়ে তিনি জানান দেন যুদ্ধের নামে পাকবাহিনীর পাশবিক অত্যাচার।
প্রচলিত আছে যে, মুক্তিযুদ্ধ যখন শেষ পর্যায়ে ঠিক তার পূর্বে আল-বদর বা আল-শামস বাহিনী জহির রায়হানের বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে ধরে নিয়ে যায়। নিখোঁজ ভাইকে সন্ধান করতে গিয়ে 1972 সালের 30 জানুয়ারি উনি নিজেও নিখোঁজ হন আর ফিরে আসেননি।
কিন্তু সেন্টু রায় নির্মিত তথ্যচিত্র "জহির রায়হান" থেকে আমরা জানতে পারি যে, মীরপুর ছিল ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত বিহারী অধ্যুষিত এলাকা। সেদিন বিহারী ও ছদ্মবেশী পাকিস্তানী সৈন্যদের গুলিতে জহির রায়হান শহীদ হন।
তথ্যচিত্র নির্মাতা সেন্টু রায় জহির রায়হান প্রসঙ্গে বলেন,

দীর্ঘদিন এই ধারণা প্রচলিত ছিল যে, 30 জানুয়ারি জহির রায়হান অন্তর্ধান দিবস। "জহির রায়হান" তথ্যচিত্রে গবেষণা, অনুসন্ধান ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, কেমন ষড়যন্ত্র করে, ফাঁদে ফেলে , যুদ্ধ অপরাধীরা ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র 1972 সালের 30 জানুয়ারি জহির রায়হান সহ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা, সেনাবাহিনীর সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ ভাইদের মিরপুর 10 নং সেকশনে নির্মমভাবে হত্যা করে। 1972 সালের 30 জানুয়ারি মিরপুর বধ্যভূমি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ সশস্ত্র রণাঙ্গন। জহির রায়হান প্রথম ব্যক্তি যিনি উদ্যোগ গ্রহণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অনুসন্ধান ও যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে বের করার জন্য 1971 সালের 18 ডিসেম্বর ঢাকা প্রেস ক্লাবে একটি কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি পত্রিকা ও রেডিওতে বিজ্ঞাপন দিয়ে সারাদেশে যুদ্ধ অপরাধীদের খুঁজে বের করার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানানো হয় । দেশবাসী সেই মর্মে তৎপর হয় । যুদ্ধাপরাধীরা ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সেই সময় থেকেই ষড়যন্ত্র করতে থাকে, কি করে জহির রায়হানকে হত্যা করা যায় এবং তারা সফল হয় । জহির রায়হান তথ্যচিত্রে তার বিচিত্র বর্ণাঢ্য জীবন , তার সাহিত্যকর্ম , আদর্শের প্রতি তার জীবনের দৃঢ় অবস্থান পরিশেষে দেশ ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র জহির রায়হান।
আজ 30 জানুয়ারি এদিনই জহির রায়হান শহীদ হয়েছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


