somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

270 খ্রিস্টাব্দে ভালোবাসার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে রোমের যাজক ভ্যালেনটাইন সম্রাটের কোপানলে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তাকে মৃতু্যদণ্ড দেওয়া হয়। সেই থেকে 14 ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেনটাইন ডে হিসেবে পালিত হচ্ছে।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নিয়ে রয়েছে নানা মুনীর নানা মত অবস্থা। কেউবা এ দিনটি সম্পর্কে উদাসীন, কেউবা দিনটিকে গ্রহণ করে তাদের বাৎসরিক উৎসবের একটি দিন হিসেবে।

কোথায় নেই ভালোবাসা! এমন কাউকে পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না যার মনে ভালোবাসা নেই। যদি বলা হয় পৃথিবীতে এমন একটি শব্দের নাম বলো যে শব্দের পরাজয় নেই। তাহলে সোজা উত্তর ভালোবাসা। ভালোবাসার জন্য কোনো সময়ের দরকার হয় না। যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় ভালোবাসা আদান প্রদান করা যায়। কিন্তু যদি এমন দিন হয়, যেদিন শুধুই ভালোবাসার দিন। হঁ্যা, আজ 14 ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দিবসটি বাংলাদেশে সরকারিভাবে ঘোষিত এবং উদযাপিত কোনো দিন নয়। তারপরও গণমাধ্যমের প্রভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতির এ দিনটি আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। প্রতি বছর ঐ দিনটিকে অতি উৎসাহের সঙ্গে পালন করা হয়।

ভালোবাসা শুধু প্রেমিকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ দিনে মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীর মধ্যেও ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া যায়।

বিভিন্ন উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসার দিনটিকে প্রিয়জনদের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন। ভালোবাসার দিনে আপনার প্রিয়জনকে দিতে পারেন এক গুচ্ছ গোলাপ এবং সেই সঙ্গে চকলেট। প্রচলিত গোলাপ ও রজনীগন্ধার পাশাপাশি দিতে পারেন টিউলিপ, পদ্ম, ডালিয়া, গাডিওলাস, চন্দ্রমলি্লকাসহ যেকোনো ফুল। এছাড়া আপনার নিজের তৈরি কার্ডে লিখে দিতে পারেন আপনার মনের কথা। বয়স্কদের দিতে পারেন তাদের পুরোনো ছবি নতুনভাবে বাঁধাই করে। ছোটদের দিতে পারেন কার্ডে রঙিন কালি দিয়ে ছড়া লিখে এবং আরো দিতে পারেন মজাদার চকলেট।

যদি বলা হয় বাংলাদেশে কোথায় সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হয়? তাহলে অবশ্যই বলতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। প্রতি বছরের মতো এবারো ভালোবাসা দিবস পালনের আয়োজন চলছে। ভালোবাসা দিবসে কার্ডে উপহার দেওয়ার জন্য কার্ডশপগুলোতে আগে থেকেই ভিড়তে শুরু করেছে যুগলরা। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে সকাল থেকেই প্রেমিক-প্রেমিকারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। যুগলদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ফুলের সুবাসে সুবাসিত হয় ক্যাম্পাস। বেশিরভাগ যুগলই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে এবং ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের মেয়ের সমন্বয়ে গঠিত যুগল। অন্যান্য দিন থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী একটা দিনে পরিণত হয় ক্যাম্পাস।

গত বছর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বোমা হামলার কারণে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়েছিল। কিন্তু তাই বলে এবার থেমে থাকবে না ভালোবাসা দিবসের কর্মসূচি। বন্ধ করা যাবে না প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশকে। প্রতি বছরের মতো এবারো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র্যালি, গোলাপ দিয়ে বরণ, নির্বাচিত জুটিদের সম্মাননা প্রদান। বিকালে 3টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটি টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজন করবে ভালোবাসা দিবসের বিতর্ক। নবীন-প্রবীণ বিতার্কিকরা এ বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন।

'ভালোবাসার' অর্থ 'বিবাহ' নয়, ঠিক। কিন্তু বিবাহের স্থায়িত্ব নির্ভর করে দুজনের ভালোবাসার ওপর। আর 14 ফেব্রচ্ছারি হচ্ছে ভালোবাসার স্থায়িত্ব বাড়ানোর একটি উপায়। তাই এ দিনে কাউকে যেন বলতে না হয় 'ভালোবাসা একবার এসেছিল নীরবে.......... চলে গেছে সবাইকে জানিয়ে.......................।


বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে, অলিতে-গলিতে, ক্লাশ রুম থেকে শুরু করে লাইব্রেরি, ক্যান্টিন, ছাদ, ব্যালকনিতে। এ ভালোবাসা হোক প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা। হোক ছাত্র-ছাত্রী, সহপাঠীদের মধ্যকার ভালোবাসা, হোক ছাত্র-শিক্ষক কিংবা একদলীয় পরে সঙ্গে অন্যদলীয় পক্ষের কমর্ীদের মধ্যকার ভালোবাসা।

সবাইকে বিশ্ব ভালোবাসার ফুলেল শূভেচ্ছা।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:৫২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×