বিকাশকে তার কাকা কিডনি দান করে ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। যদিও আমার পোস্ট করা প্রতিবেদনটির প্রতিবেদক দৈনিক সমকালের জনাব মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল কিডনিদানকারী ব্যক্তির নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ না করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তবুও প্রতিবেদনটি আমাদের কাছে খুবই গুরূত্বপূর্ণ বলে এখানে তা উল্লেখ করা হলঃ
স্থায়ীভাবে বিকল শিশুদের কিডনি প্রতিস্থাপন এখন দেশেই সম্ভব। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বিকাশ চন্দ্র সরকার নামে 12 বছরের এক শিশুর দেহে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দেশে এই প্রথম কিডনি প্রতিস্থাপন করা হলো। বিকাশকে তার কাকা কিডনি দান করেন। বর্তমানে সে কিডনি বিভাগের পোস্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটে চিকিৎসাধীন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তার সিরাম ক্রিয়েটিন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক। ছোটখাট সমস্যা থাকলেও আগামী কয়েক দিনে তা দূর হয়ে যাবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ও শিশু কিডনি বিভাগের অধ্যাপক এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও শিশু বিভাগের অধ্যাপক গোলাম মাঈনউদ্দিন সমকালকে জানান, বিভিন্ন কারণে দেশে অসংখ্য শিশুর কিডনি বিকল হচ্ছে। এতদিন এর চিকিৎসা শুধু ডায়ালাইসিস ও ওষুধের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এই প্রথম দেশে কিডনি সফল প্রতিস্থাপন সম্ভব হলো। এ ঘটনাকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ করে তারা বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপনে আর 10/15 লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যেতে হবে না। তারা জানান, শুধু কিডনি প্রতিস্থাপনই নয়, কিডনি রোগের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা এখন এ হাসপাতালেই করা সম্ভব। কিডনি প্রতিস্থাপনে খরচ হবে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। তবে অপারেশনের পর ছয় মাস প্রতি মাসে 8/10 হাজার টাকার ওষুধ লাগবে।
রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার উজিরপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক বিশ্বনাথ সরকারের তিন মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বিকাশ সবার বড়। সে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। কয় মাস আগে হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মুখ ও পেটে পানি জমে ফুলে যায়। ডাক্তার দেখাতে তাকে ভারতের ভেলোরে নেওয়া হয়। সেখানকার ডাক্তাররা ওষুধ লিখে দিয়ে দেশে ফেরত পাঠান। ওই ওষুধ খেয়ে বিকাশ সুস্থ হয়নি। দুই মাস আগে ভীষণ অসুস্থ হয়ে সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হয়। অধ্যাপক গোলাম মাঈনউদ্দিন জানান, সেদিন তার পেট থেকে 3 লিটার পানি বের করা হয়েছিল। পরবতর্ী সময়ে তারা শিশুটির দেহে কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। বিকাশ সুস্থ হয়ে উঠবে জেনে তার কাকা কিডনি দানের সিদ্ধান্তনেন। গত 31 জানুয়ারি কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন উর রশীদের তত্ত্বাবধানে প্রফেসর আবদুস সালাম ও সহযোগী অধ্যাপক সাজিদ হাসান বিকাশের দেহে অস্ত্রো্পচার করে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করেন।
অধ্যাপক এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে বর্তমানে 22 শয্যার শিশু কিডনি বিভাগ রয়েছে। যা রোগীর অনুপাতে খুবই কম। শিশু কিডনি বিভাগে মাত্র 1টি ডায়ালাইসিস মেশিন রয়েছে। মেশিনে প্রতিদিন মাত্র 2টি শিশুর ডায়ালাইসিস করা সম্ভব। মেশিন 1টি হওয়ায় অনেক সময় মুমূষর্ু রোগীকেও তাৎক্ষণিকভাবে ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হয় না। রোগী অনুপাতে কমপক্ষে 4টি ডায়ালাইসিস মেশিন প্রয়োজন।
অধ্যাপক এম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, দেশে অপেক্ষাকৃত গরিব রোগীদেরই কিডনি রোগ বেশি হচ্ছে। মূত্রনালী ও কিডনির প্রদাহ, চর্মরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বমি, টনসিল, পানিশূন্যতার চিকিৎসা যথাযথভাবে না হলে শিশুর কিডনি তাৎক্ষণিক অথবা স্থায়ীভাবে বিকল হতে পারে। শিশুদের কিডনি রোগ থেকে মুক্ত রাখতে চাইলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
সংগ্রহঃ দৈনিক সমকাল ( 15 ফেব্রুয়ারি 2006)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




